সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
logo
বাংলাদেশে নৌবন্দর করবে ভারত!
প্রকাশ : ০৪ জুন, ২০১৬ ১৬:২৮:২০
প্রিন্টঅ-অ+
হাইলাইটস ওয়েব

ঢাকা: বাংলাদেশের মংলায় একটি বন্দর তৈরির পরিকল্পনা করছে ভারত। এই উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যেই দেশটির কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিনিধি দল ঢাকায় সফর করেছে।
ভারতে কেন্দ্রীয় সরকারের জাহাজমন্ত্রী নিতিন জয়রাম গদকড়ির বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে কলকাতার শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার।
শুক্রবার মুম্বাই থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এক সংবাদ সম্মেলনে জাহাজমন্ত্রী গদকড়ি বলেন, ‘এখনই বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বন্দর নিয়ে কোনো আলোচনা শুরু হয়নি। তবে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য বাড়াতে নয়াদিল্লি সে দেশে একটি বন্দর ও পরিকাঠামো তৈরি করতে চায়। এ নিয়ে কথাবার্তাও এগোচ্ছে।’
ইরানের সঙ্গে ছাবাহার বন্দর নির্মাণের চুক্তি সই হওয়ার পর ভারতের লক্ষ্য এখন বাংলাদেশ ও মায়ানমারেও একইভাবে বন্দর তৈরি করা। বন্দরগুলি আপাতভাবে বাণিজ্যিক হলেও প্রয়োজনে এই এলাকায় দেশের কৌশলগত অবস্থান মজবুত করতেও সেগুলিকে কাজে লাগানো হতে পারে। বাংলাদেশের মংলা ও মায়ানমারের সিতওয়ে বন্দরে বিশাল পরিমাণ ভারতীয় বিনিয়োগ নিয়ে অনেক দিন ধরেই আলোচনা চলছে।
শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে ছাবাহারের বাণিজ্যিক লাভের কথা ব্যাখ্যা করেছেন গদকড়ি। তিনি জানান, ইরানের ওই বন্দরের কাছেই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি হচ্ছে। সেখানে নালকো কারখানা তৈরি করবে। ইরান ইউনিট প্রতি মাত্র ২ মার্কিন ডলারে গ্যাস দিতে সম্মত হয়েছে। সস্তায় গ্যাস পাওয়া গেলে সেখানেই নালকোর মতো সংস্থা ইউরিয়া তৈরি করবে। সেই ইউরিয়া আনা হবে গুজরাতের কান্ডলা বন্দরে। এর ফলে সারে ভর্তুকির ক্ষেত্রে ৪৫ হাজার কোটি টাকা ভারত সাশ্রয় করতে পারবে বলে গডকড়ি দাবি করেছেন।
জাহাজমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সমুদ্রপথে ছাবাহার থেকে কান্ডলা বন্দরের দূরত্ব মাত্র ৮০০ মাইল। ফলে ওই বন্দর থেকে পারস্য উপসাগর দিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বহু গুণ বাড়িয়ে নিতে পারবে।’ ফলে ভারতেকে পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে আর আফগানিস্তানে যেতে হবে না। মধ্য এশিয়ার দেশগুলিও ভারতের আরও কাছে চলে আসবে।
ভারতের বন্দর বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, বাংলাদেশেও সস্তায় গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। সে দেশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ছে ভারতীয় সংস্থা। এর সঙ্গে বন্দর তৈরি করতে পারলে ভারতীয় সংস্থাগুলি সেখানে আরও বেশি বাণিজ্য করতে পারবে।
এ সম্পর্কে নৌমন্ত্রীর বক্তব্য হচ্ছে, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বছরে ৬০০ কোটি টন পণ্য সড়কপথে যাতায়াত করে। সেই পণ্য যাতে নদী ও সমুদ্রপথে নিয়ে যাওয়া যায় সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। মংলায় নতুন বন্দর তৈরি করা গেলে কলকাতা, হলদিয়া এবং সাগর বন্দর থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হবে।
সেই সূত্রেই গদকড়ি জানান, সাগর বন্দরে ১৪ দশমিক ৫ মিটার পর্যন্ত নাব্যতা মিলতে পারে। এই বন্দরে মুড়িগঙ্গা নদীর উপর রেল-রোড সেতুটি তৈরি করবে জাতীয় সড়ক উন্নয়ন কর্ত়ৃপক্ষ। বন্দর নির্মাণের খরচ রাজ্য, কেন্দ্র এবং বেসরকারি সংস্থার সাহায্যে তোলা হবে। বন্দর কর্মকর্তাদের মতে, ভারত বাংলাদেশে কোনো বন্দর তৈরি করলে তার সুবিধে সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পাবে। কলকাতা-হলদিয়া বন্দরের বাণিজ্য বাড়বে।

হাইলাইটস এর আরো খবর