মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০
logo
ইটভাটা গিলে খাচ্ছে সোনা ফলানো মাটি
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৭:৩৩:৫৬
প্রিন্টঅ-অ+
হাইলাইটস ওয়েব

নীলফামারী: জেলার আকাশে উড়ছে কুণ্ডলী পাকানো কার্বোডাইঅক্সাইড মিশ্রিত কালো ধোঁয়ার বিষ। ইটভাটার ঝাঁঝালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যাচ্ছে চারদিক। এতে ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। গাছে ফলছে না তেমন ফল, ক্ষেতে হচ্ছে না আশানুরুপ ফসল। ইটভাটার কারণে হারিয়ে যাচ্ছে সোনা ফলানো মাটি।
ভাটার তপ্ত আগুনে পুড়ছে এখানকার উর্বর মাটি। নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে দো-ফসলি ও তিন ফসলি জমির উপর গড়ে উঠছে প্রায় ৫০টি ইটভাটা। আর এতে জমিতে ফসল না ফলায় বিপর্যয়ে পড়েছে প্রান্তিক কৃষকরা। অথচ এতকিছুর পরেও হাত গুটিয়ে বসে আছে প্রশাসন।
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামার এলাকার কৃষক আজিজুল ইসলাম জানান, এখানকার ইটভাটাগুলো গড়ে উঠেছে উর্বর আবাদি জমির উপর। ইট তৈরির জন্য ভাটা মালিকরা নামমাত্র টাকা দিয়ে দুই-তিন ফুট গভীর করে কেটে নিয়ে যাচ্ছে টপসয়েল। যা দিয়ে ইট তৈরি করে তারা হয়ে যাচ্ছেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। কিন্তু এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষকরা। তাদের ওইসব জমিতে কমপক্ষে তিন বছর কোনো ফসল ফলছে না।
একই এলাকার কৃষক তৈয়ব আলী ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘আমি জমির মাটি ভাটায় দিতে চাইনি। ভাটা মালিক কৌশলে আমার জমির চারপাশের মাটি তিন ফুট গভীর করে কেটে নিয়ে গেছেন। এতে আমার জমিতে আর ফসল হচ্ছে না। উপরন্ত জমি ভেঙে পড়ে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে ভাটায় জমি দিতে হয়েছে। এখন সারা বছরের ভাতের জন্য যে পরিমাণ আবাদি জমি দরকার তা আমার আর নেই। তাই চাল কিনে ভাত খেতে হচ্ছে।’
খাতামধুপুর এলাকার কৃষক আব্দুল জব্বার জানান, ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় আশপাশের আবাদি জমিতে তেমন ফসল ফলছে না। আগে বিঘা প্রতি বোরো ধান ফলতো ২০ থেকে ২২ মণ। তা এখন ফলছে ১০ থেকে ১২ মণ। আম গাছে মুকুল আসলেও ফলছে না আম। মুকুল ঝড়ে যাচ্ছে। সুপারী, নারকেল, কাঠাল, লিচুসহ অন্যান্য ফলেরও একই অবস্থা।’
নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মো. ইদ্রিশ জানান, জেলার প্রায় সবগুলো ইটভাটাই করা হয়েছে আবাদি জমির উপর। বিভিন্ন খাদ্য উপাদান সমৃদ্ধ উর্বর কৃষি জমির মাটি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট। ওইসব জমিতে দুই থেকে তিন বছর আর কোনো ফসল ফলবে না। ভাটার কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এতে ভাটার আশপাশের জমিতে কমে যাচ্ছে ফসল। বিশেষ করে মৌসুমী ফলের ক্ষেত্রে ঘটেছে চরম বিপর্যয়।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন জানান, সব নিয়মকানুন মেনেই ইটভাটার অনুমতি দেয়া হয়েছে। যদি কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তাৎক্ষণিক বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হাইলাইটস এর আরো খবর