বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯
logo
স্বাস্থ্য সুস্থ্য রাখার জন্য মসলার গুনাগুন
প্রকাশ : ২২ আগস্ট, ২০১৭ ১৫:৫৭:০২
প্রিন্টঅ-অ+

দাঁতের ব্যথায় কাবু? হজমের গোলমাল? নাকি চুল উঠে মাথায় টাক পড়ে যাচ্ছে? সুস্বাস্থ্য জীবন নিয়ে অনেকেই চিন্তা করে থাকেন।তারপরও খাবারের সময় তারা তাদের খাবারের প্রতি সতরক হন না।আসলে খাবারে কোন প্রকার সম্যাসা হয় না সম্যাসা হয় খাবরের মসলার।অতএব খাবারের সময় মসলার প্রতি নজর বেশি রাখতে হবে।বিভিন্ন রকম মসলা আছে যা স্বাস্থ্যকে সুন্দর ও ভাল রাখে।যে কোনো সমস্যার সমাধানের চিরচেনা মসলাপাতি রাখুন হাতের কাছেই।
এলাচি: এলাচে ১০% ভোলাটাইল অয়েল রয়েছে। এছাড়াও এলাচ থেকে প্রোটিন, ভিটামিন এবং কিছু পরিমাণ ফ্যাটও পাওয়া যায়।এলাচে ফ্যাটের পরিমাণ খুবই কম। প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে। ভিটামিন- এ, বি এবং সি পাওয়া যায়। এলাচ ক্ষুধা বাড়াতে সাহায্য করে। অম্বল, বুকজ্বালা কমায় এবং হজমে সাহায্য করে।কারমিনেটিভ প্রপার্টি থাকায় পেটফাঁপা কমায়। শ্বাসকষ্ট এবং হৃদরোগ কমায়। কাশিতে উপকারী।ফোড়ার ধাত থাকলে এলাচ ব্যবহার না করাই ভালো।

দারুচিনি: দারুচিনিতে অল্প পরিমাণ প্রোটিন, প্রচুর মিনারেল এবং কিছু পরিমাণ ভিটামিনও পাওয়া যায়। দারুচিনি নিউট্রেশন প্রপার্টির জন্য ব্লাড সুগার কমায়। দারুচিনির এসেনশিয়াল অয়েল এন্টি মাইক্রোবায়াল। ফলে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।আর্থ্রাইটিসের জন্য দারুচিনি খুবই উপকারি। ব্লাডার ইনফেকশন কমায়। রক্তে কোলেস্টেরল ২ ঘণ্টার মধ্যে ১০% কমায়। দারুচিনির গুঁড়ো মাড়িতে লাগালে মেয়েদের প্রজনন ক্ষমতা বাড়ে। এ গুঁড়ো ইউটেরাসকে শক্ত করতে সাহায্য করে। ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাল এটাক আটকে দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। খাওয়ার আগে দারুচিনি খেলে পেট ঠিক থাকে। রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে।

হলুদ: হলুদের গুঁড়া অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ। উপরন্তু শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি গুণও আছে হলুদে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, আলঝেইমার প্রতিরোধে হলুদ অত্যন্ত কার্যকর। আলঝেইমার মস্তিষ্কের রোগ। এ রোগে আক্রান্ত রোগীর প্রাথমিক লক্ষণ ভুলে যাওয়া। তবে একেকজনের ক্ষেত্রে এ রোগের লক্ষণ আলাদা হতে পারে। গবেষণায় আরও জানা যায়, যাঁরা তরকারিতে প্রতিদিন হলুদ খান, তাঁদের আলঝেইমার হওয়ার শঙ্কা কমে যায় অন্যদের তুলনায় ২৫ শতাংশ। সাধারণ কাঁটাছেঁড়ায় হলুদ এন্টিসেপ্টিকের কাজ করে। মুখে জ্বালা-পোড়া করলে গরম পানির মধ্যে হলুদের পাউডার মিশিয়ে কুলকুচি করুন। শরীরের কোনো অংশ পুড়ে গেলে পানির মধ্যে হলুদের পাউডার মিশিয়ে লাগাতে পারেন। সূর্যের তাপে গা জ্বলে গেলে হলুদের পাউডারের মধ্যে বাদামের চূর্ণ এবং দই মিশিয়ে লাগান। সর্দি-কাশি হলে হলুদ খেতে পারেন। কাশি কমাতে হলে হলুদের টুকরা মুখে রেখে চুষুন। এছাড়া এক গ্লাস গরম দুধের মধ্যে হলুদের গুঁড়ো এবং গোলমরিচ গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন। আয়ুর্বেদিক মতে, হলুদ রক্ত শুদ্ধ করে। হলুদের ফুলের পেস্ট লাগালে চর্ম রোগ দূর হয়। এটি চেহারার সৌন্দর্য বাড়াতেও সাহায্য করে। হলুদের সঙ্গে চন্দন মিশিয়ে মুখে লাগালে ত্বক উজ্জ্বল হয়। হলুদের মধ্যে ফিনোলিক যৌগিক কারকিউমিন রয়েছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
লবঙ্গ: দাঁতের যন্ত্রণায় উপকারী। কাশি কমায়। পেট ব্যথা কমায়। পায়রিয়ার ক্ষেত্রে উপকারী। বমিভাব কমায়। অরুচি দূর করে। গলা খুশ খুশ ভাব কমায়। ক্রিয়েটিভিটি এবং মেন্টাল ফোকাস বাড়ায়।
পেঁয়াজ: এসেনশিয়াল অয়েল এবং অর্গানিক সালফাইড পেঁয়াজের মূল উপাদান। সালফার জন্যই পেঁয়াজের গন্ধ ও স্বাদ ঝাঁজযুক্ত। তবে চোখের পানি আনার জন্য দায়ী পেঁয়াজে থাকা ভোলাটাইল অয়েল, যা রান্নার পর অনেকটাই কমে যায়।কিছু পরিমাণে প্রোটিন, ফ্যাট এবং ফাইবার আছে। ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, আয়রন এবং ক্যারোটিন আছে প্রচুর। ১০০ গ্রাম পেঁয়াজ ৫০০ কিলো ক্যালরি এনার্জি দেয়।থেঁতো করা কাঁচা পেঁয়াজ কপালে দিলে মাথাব্যথা কমে, চুলে লাগালে চুল পড়া বন্ধ হয়। কাঁচা পেঁয়াজ খেলে কোলেস্টেরল কমে। হৃদরোগ, থ্রম্বসিস, ব্লাড প্রেসারে কাঁচা পেঁয়াজ উপকারী। অ্যানিমিয়া, পাইলসের জন্য উপকারী।যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা আছে তারা কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

আদা: আদার উপাদানগুলো থ্রম্বোক্সিনকে কাজে লাগিয়ে শরীরে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। যেটা মাইগ্রেইনের ব্যথা প্রতিরোধে খুব কার্যকর। এ ছাড়া আদায় বমিভাব দূর হয়, দূর হয় মাথা ব্যথা। ওজন কমাতে অনেকে অনেক কিছু পান করেন বা খান। যেমন: ওজন কমানোর চা, সোনা পাতা, ওজন কমানোর ওষুধ ইত্যাদি।
জোয়ান: এজমা কমায়। ব্রঙ্কাইটিস সারায়। হজমে সাহায্য করে। গলা ব্যথা, সর্দি-কাশি কমায়। আর্থ্রাইটিস কমায়। মাইগ্রেন সারাতে সাহায্য করে। কানে ব্যথা কমায়।

স্বাস্থ্য এর আরো খবর