বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯
logo
সিজ়েরিয়ান পদ্ধতিতে বাচ্চার জন্ম হলে কী কী খেয়াল রাখবেন?
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৫:৫০:৩৯
প্রিন্টঅ-অ+
চাঁদপুর ওয়েব
আজ থেকে ৩০-৪০ বছর আগেও মহিলারা সাধারণ বা নর্মাল পদ্ধতিতে শিশুর জন্ম দিতেন । কিন্তু গত তিন দশকে চিত্রটা আগাগোড়া পালটেছে । শিশুর জন্ম দেওয়ার সময় বেশিরভাগ মহিলাই এখন সিজ়ার পদ্ধতিতে প্রসব করান । মানে তলপেট কেট বাচ্চাকে বের করে আনা হয় । কিন্তু কেন? হঠাৎ এই ভোলবদলের কারণ কী?

ক্যারিয়ার ওরিয়েন্টেড মহিলারা বেশি বয়েসে মা হওয়ার পক্ষপাতি । বেশি বয়সের প্রেগনেন্সিতে ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয় । মা আর সন্তান, দু’জনেরই প্রাণের সংশয় থাকে । সেই বিপদ থেকে বাঁচতেই সিজ়ারিয়ান পদ্ধতিতে ডেলিভারি করান বেশিরভাগ মহিলা । অ্যানাস্থেশিয়া করিয়ে পেট কেটে বাচ্চা বেরিয়ে আসবে, কোনও যন্ত্রণা ছাড়াই, নো লেবার পেইন । অনেক সময় হাইপ্রেসার বা ডায়াবিটিজ় থাকলেও চিকিৎসকরা সিজ়ার করতে বলেন ।
 
 
মা-দাদীদের আমলে নর্মাল ডেলিভারিতে বাচ্চার জন্ম হত । যোনি থেকে বেরিয়ে আসত বাচ্চা । সে এক কষ্টকর অনুভূতি । অথচ যুগযুগ ধরে সেভাবেই স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বাচ্চার জন্ম হয়েছে । তাই জন্যই যোনিকে বলা হয় জন্মের উৎসস্থল। ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা লেবার পেইনের অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে তারপর বাচ্চার জন্ম হত । তা ছাড়াও, কষ্টকর নর্মাল ডেলিভারিতে বাচ্চাদের প্রাণ সংশয় হত । অনেক মাও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন । সেইসব কারণেই সিজ়েরিয়ান পদ্ধতিকে বেছে নিয়েছেন আজকের আধুনিকারা। অনেক সময় তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী দিনক্ষণ মিলিয়ে ডেলিভারির ব্যবস্থা করা হয়।

বর্তমান চিকিৎসা শাস্ত্রে সিজ়েরিয়ান ডেলিভারি অনেক নিরাপদ। অ্যানাস্থেশিয়ার প্রক্রিয়া অনেক উন্নত । লেবার পেইন সহ্য করতে হয় না । মা, বাচ্চার প্রাণের সংশয়ও কম থাকে । এতশত বিচার করেই সিজ়ারের দিকে ঝুঁকছেন আধুনিকরা ।

কিন্তু তা বলে কি সমস্যা একেবারেই নেই?

আছে, এখানেও সমস্যা আছে । ডেলিভারির পর মায়েদের তলপেটে বড়সড় ক্ষত তৈরি হয় । ফলে সংক্রমণের ভয়ও থাকে । একবার সিজ়ার করানোর পর, বারবার প্রেগনেন্সি নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা চলে আসে । খুব বেশি হলে দু’বার প্রেগনেন্সি নেওয়া যায় ।

এ তো গেল মায়ের সমস্যা । সিজ়েরিয়ান বাচ্চাদেরও সমস্যা প্রচুর । অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দেয় । বারবার অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয় ।  

সিজ়ারিয়ান ডেলিভারি যখন ট্রেন্ড, তখন উচিত ডাক্তারের পরামর্শ মতো চলা । এই ডেলিভারি আদতেও শরীরে সুট করবে কিনা, সেটা নিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা মাস্ট !

স্বাস্থ্য এর আরো খবর