রোববার, ২৮ মে ২০১৭
logo
কনকচাঁপা বাঁচবে তো!
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল, ২০১৭ ১৬:০৪:১২
প্রিন্টঅ-অ+
পরিবেশ ওয়েব
ঢাকা: ষাটের দশকের বেশ জনপ্রিয় একটা গানের শুরুটা এমন – ‘নেবনা সোনার চাঁপা কনকচাঁপা পেলে।’ কনকচাঁপা যারা চেনেন তাদের কাছে বেপারটা তেমনই। এমনই এর রূপ-মাধুর্য্। বলা হচ্ছে ‘কনকচাঁপা’ ফুলের কথা। ‘কনকচাঁপা’ অচনাসিয়াই(Ochnaceae)পরিবারে ছোট বৃক্ষ জাতীয় গাছ। বোটানিক্যাল নাম ‘অচনা অবতুসাতা’(Ochna obtusata), ‘অচনা ইন্টিগেরিমা’(Ochna Integerrima)নামেও পরিচিত।


বাংলাদেশে এ গাছটি প্রায় দুর্লভ। ঢাকাতে শুধু রমানা পার্ক ও শিশু একাডেমির বাগানে রয়েছে এর দু’ তিনটি গাছ। বেশ কয়েক বছর আগে প্রখ্যাত নিসর্গ প্রেমি অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা রমনা পার্ককে ‘কনকচাঁপা’ গাছটি দান করেছিলেন।তার বেশ ক’ বছর পরে চারা গাছটি বড় হয়ে যখন ফুল ফোটা শুরু হলো তখন প্রতি বসন্তেই রমনা পার্কে প্রকৃতি-প্রেমি, প্রাতভ্রমনকারী এবং পার্কে ঘুরতে আসা প্রায় সবার কাছেই বেশ প্রিয় এবং আরাধ্য হয়ে উঠেছিল গাছটি। মাঝ-বসন্তের শেষ দিকে দূর ‍দূরান্ত থেকে অনেকেই বিশেষ করে সৌখিন এবং পেশাদার ফটোগ্রাফাররা ছুটে আসত ছবি তোলার জন্য। অনেক বিশ্ব বিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যার শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীরাও আসত গবেষণা বা প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্য সংগ্রহের জন্য। এমন একটি দুর্লভ গাছকে বাঁচিয়ে রাখা তো সকলেরই কাম্য হওয়া উচিৎ।
 
 
কিন্তু রমনা পার্ক কতৃপক্ষের ঔদাসিন্য এবং এক পরিবেশ-প্রতিবেশ দুর্বৃত্তের রোষাণলে পড়ে সেই গাছটি ২০১৫ সালের শেষের দিকে কাটা পড়ে।সে সময়ে এ বিষয়ে ‘দৈনিক প্রথম আলো’ এবং ‘নতুবার্তা ডটকম’-এ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল।গাছটির জায়গাতে গিয়ে গোড়া দেখে এ প্রতিবেদক তৎকালিন রমনাগ্রীনের মালি/কেয়ারটেকার ‘সামসু মিয়া’কে অনুরোধ করে যত্ন শুরু করে এবং প্রতিদিনই সকালে হাঁটতে গিয়ে খোঁজ-খবর নেয়। এর মধ্যেই পত্রিকার প্রতিবেদন এবং প্রকৃতি-প্রেমিদের ক্ষোভের মুখে কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। তারা ‘শিশু একাডেমি’ থেকে একটি চারা এনে ওই একই জায়গাতে আগের গাছটির পশেই রোপণ করে।ফলে কেয়ারটেকারকে দিয়ে যত্ন করাতে সুবিধা হয়। মাসাধিক কাল পরেই কেটে ফেলা গাছটির গোড়া থেকে বেশ কয়েকটা ডাল গজায়। তখন কেয়ারটেকারকে বলে বাঁশের চেলা দিয়ে বেড়া দিয়ে নিয়মিত যত্ন নেবার ব্যবস্থা করা হয়।ফলে সদ্য গজানো ডালপালাগুলো বড় হতে থাকে। এ অবস্থাতেই কেয়ারটেকার ‘সামসু মিয়া’কে অন্যত্র বদলি করে দেয়া হয়েছে। ফলে ‘কনকচাঁপা’ গাছটির দেখাশুনা করার কেউ নেই। বাঁশের বেড়া বেশ আগেই টোকাইরা তুলে নিয়ে গেছে।

গত মার্চের ২৯ তারিখ সকালে ওখানে গিয়ে দেখা গেল অবাক করা কান্ড। সবাইকে বোকা বানিয়ে এ বছরই গোড়া থেকে গজানো ছোট দুটো ডালে বেশ কয়েকটি ফুল ফুটেছে। ব্যস্ততার কারণে ওখানে বেশ কিছুদিন যাওয়াই হয়নি, তাই কখন যে কলি ধরেছিল, কেউ বলতে পারেনি। ফুল দেখে সবাই খুশি।পরিচর্চার সাথে সংশ্লিষ্ট সবার সাধনা সার্থক। পরিতাপের বিষয় ৩০ মিনিট পরেই অন্য একটি কাজ সেরে ছবি তুলতে গিয়ে দেখা গেল, সদ্য ফোটা ফুলগুলি আর নেই। কেউ তুলে নিয়ে গেছে!

এখন আর একটি আসঙ্কা দেখা দিয়েছে। গাছটিতে কোন বেড়া নেই।পহেলা বৈশাখ দরজায় কড়া নারছে। গাছটার কাছেই গত বৎসর পহেলা বৈশাখের দিন ‘বাংলাদেশ পুলিশ’ এর বৈশাখি ষ্টল বানানো হয়েছিল। তখন বেড়া ছিল বলে কোন অসুবিধা হয়নি।কিন্তু এবার যদি এখনি বেড়া দেয়া না হয় বা কোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে পহেলা বৈশাখের দিন শত-সহস্র মানুষের পদচারণায় পিষ্ট হয়ে চিরতরেই হারিয়ে যেতে পারে প্রকৃতিতে দুর্লভ অতি সুন্দর এই গাছটি।

পরিবেশ এর আরো খবর