রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
বন্যাতঙ্কে চাঁদপুরের সহস্রাধিক পরিবার
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট, ২০১৬ ১৩:২৫:৩৭
প্রিন্টঅ-অ+
পরিবেশ ওয়েব

চাঁদপুর : চাঁদপুরে ক্রমশ বন্যার আতঙ্ক বাড়ছে। নদীর পানি যতই বড়ছে ততই জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী সহস্রাধিক পরিবার।
ইতোমধ্যে জেলার বিশাল চরাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেলেও নদী তীরবর্তী লোকজন ছিল শঙ্কামুক্ত। গত ক’দিন হঠাৎ ডাকাতিয়াসহ পদ্মা-মেঘনা নদীতে জোয়ারে পানির প্রবাহ ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব নদী তীরবর্তী এলাকায় অধিকাংশরাই পানিবন্দী হয়ে পড়ছে। আর এ কারণেই ওইসব এলাকার মানুষজনের দুর্ভোগ প্রতিনিয়তই বৃদ্ধির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
অপরদিকে, এসব এলাকার মানুষের বসত-বাড়িসহ উৎপাদিত ফসল, গবাদি পশু ও পুকুর-ঝিলের মাছ নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এসব জিনিসপত্র নিয়ে শত শত পরিবার এখন বিপাকে রয়েছে। আবার অনেকেই নদী ভাঙনের আশঙ্কাও করছেন। বর্তমানে চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন ও হাইমচর উপজেলার মাঝেরচর এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
চাঁদপুর রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি অনেকটাই চরমে। এছাড়া সেখানে নদীর ভাঙনে মানুষজন বাস্তুহারা হয়ে যাচ্ছে। এ এলাকার মানুষের খাবার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২ আগস্ট) চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. আবদুস সবুর মণ্ডল প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের মাঝে ত্রাণসমাগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপির প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দিন বাবু ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উদয়ন দেওয়ানসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখা থেকে জানানো হয়েছে, মেঘনা ও পদ্মা নদীর পানি এখনো বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। তবে জোয়ারের পানির প্রবাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। সে কারণে কোথাও কোথাও পানি আটকা পড়ছে। দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখার সূত্রমতে মঙ্গলবার নদীতে পানির উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ৭৯ মিটার। গতি সোমবার ছিল ৩ দশমিক ৮৫ মিটার। ফলে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিবেশ এখনো হয়নি।
অপরদিকে, দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে চাঁদপুরে আশঙ্কা বাড়ছে। অনেকের আশঙ্কা নদীরক্ষা বাঁধে ধস দেখা দিলে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে। এছাড়া জেলার নদী তীরবর্তী মতলব, চাঁদপুর ও হাইমচর এলাকার বিপুল জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়ে পড়বে অনেকটাই কঠিন।
এদিকে, জোয়ারে পানিতে বন্দী হয়ে পড়েছে চাঁদপুর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক, স্ট্র্যান্ড রোড, রহমতপুর কলোনী, চৌধুরী ঘাট, কুলিবাগান ও ৫ নম্বর ঘাট এলাকার লোকজন। এছাড়া ঢালীরঘাট, ইচলী, পুরাণবাজার এলাকার মানুষও পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় জোয়ারে পানি প্রবাহিত হলে স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকে না। ফলে অধিকাংশ এলাকার রাস্তাঘাটে হাঁটু পরিমাণ পানি ছুঁই-ছুঁই করতে থাকে। পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতি না হলে বন্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন।
জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখার দায়িত্বরত সহকারী কমিশনার ফারজানা আলম জানান, চাঁদপুরে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কেবল নদীতে জোয়ারের সময় কিছুটা পানি বৃদ্ধি পায়। তবে তা বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। ফলে এই মুহূর্তে পরিস্থিতি আশঙ্কামুক্ত রয়েছে।
তিনি আরো জানান, চাঁদপুরের নদীতে পানির উচ্চতা ছিল ৩ দশমিক ৭৯ মিটার। বিপদসীমা আতিক্রম করতে ৪ মিটার উপরে পানি প্রবাহিত হতে হবে। তবে জেলা প্রশাসনে এ ব্যাপারে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। যেখান থেকে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

পরিবেশ এর আরো খবর