শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯
logo
সুন্দরবনে বিদ্যুৎকেন্দ্র দুদেশের জন্যই ক্ষতিকর: ডিডব্লিউ
প্রকাশ : ২৪ জুলাই, ২০১৬ ১৪:১১:৪০
প্রিন্টঅ-অ+
পরিবেশ ওয়েব

ঢাকা: বন্দর, রেল যোগাযোগ,বিদ্যুৎ, প্রতিরক্ষাসহ অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চাইছে ভারত৷ রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পেও ভারত বাংলাদেশের সহযোগী৷ তবে ভারতের বিশেষজ্ঞও বলছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দু-দেশেরই ক্ষতি করবে৷
 ১৬টি প্রকল্পের মধ্যে ইতিমধ্যে কয়েকটির কাজ শুরুও হয়ে গেছে৷
ইরানের ছাবাহার বন্দর নির্মাণ চুক্তি সই হবার পর বাংলাদেশেও একটি সমুদ্র বন্দর তৈরির পরিকল্পনা করছে ভারত৷ ঢাকার সঙ্গে এ বিষয়ে জোর কথাবার্তা চলছে৷ আশা করা যায়, শীঘ্রই সবুজ সংকেত পাওয়া যাবে৷ ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে একটি বন্দর ও অন্যান্য পরিকাঠামো প্রকল্প গড়ে তুলতে চায় ভারত৷ মিয়ানমারেও অনরূপ একটি বন্দর তৈরি নিয়েও ভাবনা চিন্তা চলছে৷ বাংলাদেশের মংলা এবং মিয়ানমারের সিতওয়ে বন্দরে ভারতীয় বিনিয়োগ নিয়েও কথাবার্তা চলছে অনেকদিন ধরেই, বলেছেন মোদী সরকারের জাহাজ চলাচল মন্ত্রী নিতিন গডকড়ি৷
 ইরানের ছাবাহার বন্দরে ভারতের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিপুল, কারণ, বন্দরের কাছেই গড়ে উঠছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল৷ সেখানে খুব সস্তায় গ্যাস পাওয়া যাবে বলে ভারতের নালকো কোম্পানি সেখানে ইউরিয়া সার কারখানা তৈরি করবে৷ বাংলাদেশেও সস্তায় গ্যাস পাওয়া যেতে পারে৷ সেক্ষেত্রে আনুষঙ্গিক কলকারখানা গড়ে তোলার বিরাট সম্ভাবনা দেখা দেবে৷ গডকড়ি জানান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সড়কপথে বছরে ৬০ কোটি টন পণ্য যাতায়াত করে৷ সেটা জলপথে নিয়ে গেলে আরো বেশি সুবিধা হবে নানা দিক থেকে৷
কলকাতা এবং হলদিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, এটা বাস্তবায়িত হলে কলকাতা-হলদিয়া বন্দরের লাভ হবে বেশি৷ বিগত বছরগুলিতে ভারত নামমাত্র সুদে বাংলাদেশকে মোট প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার ঋণ দেয়৷ ১৬টি প্রকল্পে সেই টাকা ব্যয় করা হচ্ছে৷ কেনা হয়েছে ৪২৬টি উন্নত মানের বাস, কেনা হয়েছে ব্রডগেজ লাইনে চলার উপযোগী তেলবাহী ট্যাঙ্কার, তৈরি হয়েছে দুটি রেল সেতু৷
তবে গোল বেঁধেছে বাংলাদেশের খুলনা জেলায় সুন্দরবন এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে৷ ভারত-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে দেখা দিয়েছে পরিবেশগত বাধা৷ থমকে রয়েছে এর নির্মাণকার্য৷ সুন্দরবনের সংবেদনশীল প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিপন্ন হবে বলে সোচ্চার হয়ে উঠেছে দুই বাংলার পরিবেশবিদ, নাগরিক সমাজ৷ ইউনেস্কো সুন্দরবনকে হেরিটেজ স্থান বলে ঘোষণা করেছে৷ এমনকি বাংলাদেশের হাইকোর্ট পর্যন্ত সরকারের কাছে জানতে চেয়েছেন, কেন এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না৷
রামসার কনভেনশনের নির্দেশিকায় সুন্দবনের জলাভূমি সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে৷ ঢাকা সেই কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী অন্যতম দেশ৷ সুন্দরবনের জৈব বৈচিত্র্য এবং ম্যানগ্রোভ চলতি ভাষায় যাকে বলা হয় ‘বাদাবন', তা ধ্বংস হলে বিপন্ন হয়ে পড়বে স্থানীয় লোকজনদের জীবন ও জীবিকা, কারণ, বাংলাদেশের বৃহত্তম কয়লা-ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বছরে দরকার হবে ৪৭ লাখ টন কয়লা৷ সেই কয়লা নিয়ে যেতে হবে সড়ক পথে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে ট্রাকে করে৷ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বাতাসে মিশবে ছাই, কয়লাগুঁড়ো, নির্গত হবে সালফার ডায়ক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস৷ কাজেই এর বিরুদ্ধে জনবিক্ষোভের যুক্তিসংগত কারণ আছে৷ যদিও বাংলাদেশ সরকারের মতে, উচ্চ-প্রযুক্তির দরুণ পরিবেশ দূষণের মাত্রা হবে খুবই নগণ্য৷
 ভারতের পরিবেশবিদ অধ্যাপক এস.হাজরা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সুন্দরবনের মতো স্পর্শকাতর অঞ্চলে এই কেন্দ্র স্থাপন স্রেফ বাংলাদেশের জন্যই নয়, ভারতের জন্যও ক্ষতিকর৷ সুন্দরবন দুই বাংলার সম্পদ৷ তবে বাংলাদেশের বিদ্যুতের চাহিদার কথা মাথায় রেখে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সৌরবিদ্যুত, বায়ুবিদ্যুত, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা থেকে বিদ্যুৎ কিংবা বায়োগ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উত্পাদন সহজেই কম খরচে করা যেতে পারে৷
এপার বাংলা ওপার বাংলার মধ্যে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও এবার ভারতে তৈরি রেল ইঞ্জিন, কামরা চলবে বাংলাদেশে৷ এতে লাভ হবে দুদেশেরই৷ ইঞ্জিন ও কামরা একই প্রযুক্তির হলে দ্রুত যাত্রি ও মাল পরিবহনে সুবিধা হবে৷ সময় ও অর্থ দুই বাঁচবে দুদেশেরই, মনে করেন ভারতের রেলের কর্তাব্যক্তিরা৷
৭০ টি আধুনিক রেল কামরা এবং ২০টি ইঞ্জিন পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশে৷ এগুলি তৈরি হয়েছে বারানসী কারখানায়৷ মোটকথা, বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে ঢাকা-দিল্লির মৈত্রীর করমর্দন বিভিন্ন ঐতিহাসিক কারণে কখনও শিথিল হবার নয়৷ সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব যদি পারস্পরিক আস্থা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা অটুট থাকে৷

পরিবেশ এর আরো খবর