মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯
logo
বদ্ধ পরিবেশেও বাচ্চা ফুটিয়েছে সাইবেরিয়ান বালিহাঁস
প্রকাশ : ১৬ জুন, ২০১৬ ১১:৩০:১৫
প্রিন্টঅ-অ+
পরিবেশ ওয়েব

রাজশাহী : প্রচণ্ড শীতের হাত থেকে বাঁচতে প্রতিবছরই বাংলাদেশে আসে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি। এরা পরিযায়ী পাখি। এদের মধ্যে একটি প্রজাতি বালিহাঁস। এই বালিহাঁসগুলো সাধারণত বদ্ধ পরিবেশে বাচ্চা দেয় না। তবে এর ব্যতিক্রম ঘটেছে রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায়। কর্তৃপক্ষের দাবি দেশে বদ্ধ পরিবেশে এমন বাচ্চা ফোটানোর ঘটনা এটাই প্রথম।
প্রচণ্ড শীতের কবল থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে অতিথি পাখি আসে এদেশে। এ পাখিগুলো আসে প্রধানত উত্তর মেরু, সাইবেরিয়া, কাশ্মির, মঙ্গোলিয়া, ইউরোপ, এশিয়া অঞ্চল ও হিমালয়ের আশপাশের কিছু জায়গা থেকে।
রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় গত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে চার জোড়া ন্যাটিপাস করোনাডোলাস জাতের বালিহাঁস রয়েছে এখানে। এর মধ্যে একটি বালি হাঁস এবার পাঁচটি বাচ্চা ফুটিয়েছে। পাখির জন্য ঘেরা জায়গাতে বালিহাঁস তার পাঁচ বাচ্চা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
তাদের খাবার এবং পরিচর্যার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা ইনচার্জ ড. ফরহাদউদ্দিন বলেন, ‘বদ্ধ পরিবেশে প্রাণি এবং পাখির জন্য উপযুক্ত বসবাসের পরিবেশ দেয়া গেলে তারা এখানেও স্বাভাবিক বংশ বৃদ্ধি করতে পারে। চিড়িয়েখানায় এই পাখি যাতে বাসা বাঁধতে পারে এবং ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা ফুটাতে পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর জন্য পাখির খাঁচায় মাটি তুলে ঘাসের চাষ করা হয়েছে। খড় দিয়ে বাসা বানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
বদ্ধ পরিবেশে প্রাণি ও পাখি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পিএইচডি করা এ কর্মকর্তা আরো জানালেন, চিড়িয়াখানা নির্মাণের সময় ঠিকাদার এবং প্রকৌশলীদের পাশাপাশি চিড়িয়াখানা ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতামত নেয়া জরুরি বলে জানালেন তিনি। এটা করা গেলে এ জাতীয় প্রজননের ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে। এখন রাজশাহী চিড়িয়াখানায় ২২ প্রজাতির পাখি রয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর আমিনুজ্জামান মোহাম্মদ সালেহ রেজা বলেন, ‘তাদের নিরাপত্তা পর্যাপ্ত খাবার ও বাসা তৈরির ব্যবস্থা থাকলে বাচ্চা ফুটাতে পারে। দেশে অনেক পরিযায়ী পাখি বাসা বাঁধে এবং বাচ্চা ফোটায়। তবে বদ্ধ পরিবেশে বালিহাঁসের বাচ্চা ফোটানোর ঘটনা এটাই প্রথম।’
তবে কলিম পাখির মতো অনেক পরিযায়ী পাখি বর্তমানে গৃহপালিত পাখিতে পরিণত হয়েছে। চিড়িয়াখানার মধ্যে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে এভাবে প্রাণিদের জন্য প্রজননের ব্যবস্থা চিড়িয়াখানা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত। ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়াতে প্রাণি এবং পাখির বংশ বিস্তারে বিশেষ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন এই পাখি বিশেষজ্ঞ।

পরিবেশ এর আরো খবর