বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯
logo
ঘূর্ণিঝড় কোমেন: নামকরণের নেপথ্যে
প্রকাশ : ০১ আগস্ট, ২০১৫ ১৩:৫৪:২৮
প্রিন্টঅ-অ+
পরিবেশ ওয়েব

চাঁদপুর: ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’। ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, কক্সবাজার উপকূলে এখন পর্যন্ত ৮ জনের প্রাণহানি এবং কিছু গাছপালা ও বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। তবে এখন আশঙ্কামুক্ত বলা যায়। তবে মিয়ানমানের এখন পর্যন্ত ৩৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
কোমেন একটি সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়। কিন্তু কীভাবে এ নাম এলো। উত্তর ভারত মহাসাগরের সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণ করে সাধারণত ভারত, বাংলাদেশসহ সার্কভুক্ত দেশগুলো এবং ওমান ও থাইল্যান্ড। গত ১০ বছর থেকে এ নিয়মই চলে আসছে।
মূলত বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউইউএমও) আওতায় এশিয়া-প্রশাস্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আবহাওয়াবিদদের সংস্থা- এসক্যাপ বিশ্বের ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণ করে থাকে। নামকরণ প্যানেলে রয়েছে- বাংলাদেশ, মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, শ্রীলংকাসহ সার্কভুক্ত দেশগুলো এবং থাইল্যান্ড ও ওমানের প্রতিনিধি।
২০০০ সালে এসক্যাপের প্রস্তাব অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করার জন্য প্রতিটি দেশ থেকে ১০টি করে নাম জমা নেয়া হয়। ওই তালিকা থেকেই পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণ করে সংস্থাটি। কোনো ঝড়ের গতিবেগ যদি ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার বা বেশি হলে তবেই তার নাম দেয় এসক্যাপ। ২০০৪ সালের অক্টোবর থেকে এ তালিকা অনুযায়ী নামকরণ শুরু হয়। সেবছরের অক্টোবরে প্রথম ‘অনীল’ ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়। এটি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নাম। এভাবে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নামকরণ নির্দিষ্ট হয়ে আছে।
এ তালিকা অনুযায়ী ‘হুদহুদ’ ২০১৪ সালের অক্টোবরে আঘাত হানে। এটি ছিল ওমানের প্রস্তাবিত নাম। আরবি হুদহুদ একটি পাখির নাম। নীল ছোপছোপ দাগ বিশিষ্ট এ পাখি আফ্রিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ায় পাওয়া যায়। একই বছর ২৫ অক্টোবর আঘাত হানে নিলোফার, এর নামকরণ করে পাকিস্তান। এর আগে ২০১৩ সালের ৪ অক্টোবর আঘাত হানে ফাইলিন। থাইল্যান্ডের প্রস্তাবিত এ নামের অর্থ নীলকান্তমনি।
এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিনে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয়া হয়েছে ‘কোমেন’। ‘কোমেন’ নামকরণ করেছে থাইল্যান্ড। থাই ‘কোমেন’ এর অর্থ বিস্ফোরক বা বিস্ফোরণ ঘটায় এমন।
পরবর্তীতে যেসব ঘূর্ণিঝড় উত্তর ভারত মহাসাগরে আঘাত হানবে তালিকা অনুযায়ী সেগুলো হলো- চপলা, মেঘ, ভালি, কায়ন্ত, নাদা, ভরদাহ, সামা, মোরা, অক্ষি, সাগর, বাজু, দায়ে, লুবান, তিতলি, দাস, ফেথাই, ফণী, বায়ু, হিকা, কায়ের, মহা, বুলবুল, সোবা ও আমপান।
উল্লেখ্য, নামগুলো নেয়া হয় প্রস্তাবক দেশের নামের আদ্যক্ষরের ক্রমানুসারে।
nomencleture
তালিকার নামগুলো শুরু হবে দেশের নামের আদ্যক্ষরের ক্রমানুসারে। অর্থাৎ বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ এভাবে। লিস্ট ১ শেষ হলে আবার লিস্ট ২ এভাবে চলবে। এখন চলছে লিস্ট ৫ এবং সর্বশেষ নামটি ‘কোমেন’। এরপরের ঝড়টির নাম হবে ‘চপলা’, নাম দিয়েছে বাংলাদেশ।
 

পরিবেশ এর আরো খবর