শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০
logo
তিস্তায় পানিবন্দি ৪ সহস্রাধিক মানুষ
প্রকাশ : ০৫ জুলাই, ২০১৫ ১৭:১৫:২৭
প্রিন্টঅ-অ+
পরিবেশ ওয়েব

নীলফামারী: শুক্রবার রাত থেকে উজানের ঢলে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তানদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। শনিবার সকাল থেকে তা বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আবারও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে তিস্তা। ভয়াবহ গর্জনে উত্তাল ঢেউ তুলে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির তোড় সামলাতে খুলে রাখা হয়েছে ব্যারেজের ৪৪টি গেট। ব্যারেজের উজান ও ভাটিতে পাঁচদিন ধরে পানিবন্দি চার সহস্রাধিক মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে। খাবার, নিরাপদ পানির অভাব ও পেটের পীড়ায় আক্রান্ত এসব মানুষ পড়েছে সীমাহীন দুর্ভোগে।
ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের বন্যা কবলিত পশ্চিম বাইশপুকুর এলাকার কৃষক খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচদিন থাকি বানের পানিত আটকা পড়ি আছি। ঘর আগিনা চাইরো প্যাখে খালি পানি আর পানি। ঘরোত সাপ ভাসা কইচ্ছে। আন্দা-বাড়া করির পাইছি না। খেয়া না খেয়া আছি। হামার প্যাখে কাহো দ্যাখে না।’
একই উপজেলার টেপা খড়িবাড়ি ইউনিয়নের ছোটখাতা চরের রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খরার সময় তিস্তাত পানি পাওয়া যায় না। তিস্তার বুকোত চক চক করে বালা। তখন বোরো চারা পানি অভাবে মরি যায়। এখন পানির কোনো দরকার নাই। এন্ডিয়া পানি ছাড়ি দিয়া হামাক বন্যাত মারেছে। খরাত মারে পানি না দিয়া, বাইস্যাত মারে পানি দিয়া। এই রকম করি হামাক মারি ফেলাইবে কিন্তু তিস্তাচুক্তি কইরবে না।’
জলঢাকা উপজেলার গোলমুণ্ডা ইউনিয়নের হলদিবাড়ী এলাকার মনির উদ্দীন বলেন, খরাত পানি অভাবে আবাত করির পাই না। বাইস্যাত পানিত ঢুবি মরিছি। হামার প্যাখে কাহো দ্যাখে না। হামরা এখন কার গোরোত যামো। ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে এসব কথা বলেন ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের বন্যা কবলিত মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান জানিয়েছেন, গত শুক্রবার দিনভর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রাবাহিত হয়। শুক্রবার রাত থেকে আবারও বাড়তে থাকে পানি। শনিবার সকাল থেকে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মোস্তাফিজার আরও বলেন, গত বুধবার ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ডালিয়া পয়েন্টে প্রবাহ ছিল বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে। হঠাৎ করেই ১০টার পর থেকে হু হু করে বাড়তে থাকে পানি। বিকেল ৩টায় বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার, সন্ধ্যা ৬টায় ৩০ সেন্টিমিটার, রাত ৯টায় ৪০ সেন্টিমিটার ও রাত ১২টার পর ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় পানি কিছুটা নেমে ৪০ সেন্টিমিটার, ৯টায় ৩৫ সেন্টিমিটার, ১২টায় ২৫ সেন্টিমিটার, সন্ধ্যা ৬টায় ২০ সেন্টিমিটার, রাত ৯টায় ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ক্রমান্বয়ে পানি কমতে কমতে শুক্রবার দিনভর বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।
গত পাঁচদিন থেকে উজানের ঢলে তিস্তা বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পূর্ববাইশপুকুর, পশ্চিম বাইশপুকুর, পারুলিয়া, চণ্ডিমারী, কিসামত ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই, ঝাড় সিংহেস্বর, বাঘের চর, টাবুর চর, ছাতুনামা, ভেণ্ডাবাড়ি, হলদিবাড়ী, একতার চর, ভাসানীর চর, কিসামতের চরসহ ২৫টি চরাঞ্চলের পানিবন্দী প্রায় চার সহস্রাধিক মানুষ পড়েছে চরম দুর্ভোগে। নলকূপ পানিতে নিমজ্জিত থাকায় দেখা দিয়েছে নিরাপদ পানির সঙ্কট। রান্নাঘরে পানি ওঠায় বন্ধ হয়ে গেছে রান্না।
 

পরিবেশ এর আরো খবর