মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০
logo
হাজারিবাগের ট্যানারি: স্থানান্তর কবে হবে?
প্রকাশ : ১৯ মে, ২০১৫ ২১:৪৯:২২
প্রিন্টঅ-অ+
পরিবেশ ওয়েব

ঢাকা: পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর বলে ঢাকার হাজারিবাগের ট্যানারিগুলো শহরের বাইরে সরিয়ে নেবার জন্য আদালতের নির্দেশের ২১ বছর পার হতে চলেছে। সরকারকে দেয়া সর্বশেষ সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামি মাসেই, কিন্তু কাজ
যে এবারও হবে না তা নিশ্চিত।
বাংলাদেশে ঢাকার হাজারিবাগের প্রায় ১৫০টি ট্যানারি অন্যত্র সরিয়ে নেবার জন্য উচ্চ আদালতের আদেশ হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। আজ পর্যন্ত সেই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি, এ ক্ষেত্রে অগ্রগতিও হয়েছে সামান্য।
ঢাকার হাজারিবাগে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্যে অবস্থিত এই ট্যানারিগুলো ব্যাপকভাবে পরিবেশ দূষণ করছে, এবং জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ হচ্ছে - এই কারণে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি 'বেলা'-র এক জনস্বার্থ আবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট ১৯৯৪ সালে ট্যানারিগুলো সরিয়ে নেবার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এ জন্য সরকার ঢাকার বাইরে সাভারে একটি ট্যানারি এস্টেট এবং বর্জ্য শোধনাগার গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিল। সে উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ এগিয়েছে সামান্যই। ২০০৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই ট্যানারি এস্টেট তৈরি হবে - এমন কথা থাকলেও এ বছর পর্যন্ত সরকার মোট পাঁচ বার সময়সীমা পরিবর্তন করে।
সবশেষ সময়সীমা শেষ হচ্ছে এ বছর জুন মাসে, যার মধ্যে ট্যানারি স্থানন্তর যে হবে না - তা মোটামুটি নিশ্চিত।
এ প্রেক্ষাপটেই মন্ত্রণালয় কেন এর বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলো - তার কারণ ব্যাখ্যা করতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবকে তলব করেছে দেশটির হাই কোর্ট।
শিল্প মন্ত্রনালয়ের যুগ্মসচিব এবং ট্যানারি স্থানান্তর প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সিরাজুল হায়দার জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চামড়া শিল্প হাজারীবাগ থেকে সাভারের ট্যানারি পার্কে স্থানান্তরে ব্যর্থ হওয়ায় শিল্প সচিবকে আদালতে তলব করা হয়েছে।
১৬ জুন শিল্প সচিব মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন ভুইয়াকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে দেরি হবার কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে আদালতে।
এদিকে, ট্যানারি পার্কের কাজ পুরোপুরি শেষ হতে আরো কিছুটা সময়ের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মি. হায়দার।
ট্যানারি পার্কের পরিশোধনাগার বা সেন্ট্রাল এ্যাফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সিইটিপি স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে।
সিইটিপি সক্রিয় করার আগ পর্যন্ত সেখানে কারখানাগুলো কাজ শুরু করলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে পারবে না।
এ ছাড়া ট্যানারি কারখানাগুলো বহুদিন ধরেই এই স্থানান্তরের পরিকল্পনার ব্যাপারে নানা রকম আপত্তি তুলে আসছে।– বিবিসি

পরিবেশ এর আরো খবর