শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০
logo
তেঁতে উঠেছে উত্তরাঞ্চল
প্রকাশ : ০৬ মে, ২০১৫ ১৬:৫২:০৪
প্রিন্টঅ-অ+
পরিবেশ ওয়েব

রাজশাহী: বৈশাখের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আবহাওয়া সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও গত কয়েকদিন ধরে মৃদু থেকে মাঝারি তাপদাহে তেঁতে উঠেছে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চল। এ অঞ্চলে এখন বিরাজ করছে কাঠফাটা রোদ। সকাল থেকে সুর্যের তীর্যক বিচ্ছুরণ দুপুরের মধ্যে আগুন হাওয়ার মতো বিধছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে তাপমাত্রা।
সোমবার সন্ধ্যায় নগরীর অলোকার মোড়ে প্রচণ্ড গরমে রিকশা চালাতে গিয়ে এক চালক রিকশা থেকে টলে পড়ে মারা গেছে বলে সংবাদ পাওয়া গেছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী গত কয়েকদিন ধরে রাজশাহী অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কয়েকদিন মৃদ্যু তাপপ্রবাহ চললেও মঙ্গলবার থেকে তা মাঝারি তাপপ্রবাহে রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একদিন আগে সোমবার এ অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে ঢাকা মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক শহীদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার থেকে রাজশাহী অঞ্চলে মাঝারি তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। আকাশে মেঘ না জমলে রাজশাহী অঞ্চলে আরো তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।
এদিকে, খরতাপে পুড়ছে রাজশাহীসহ গোটা উত্তরাঞ্চল। এতে খেটে খাওয়া মানুষসহ প্রাণীকূলের জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে। দুপুরের দিকে সূর্যের তীব্র তাপে চোখ-মুখ-ত্বক পুড়ে যাবার উপক্রম হয়ে উঠছে। একটু ঠাণ্ডার পরশ পাবার আশায় মানুষ গাছ তলায় আশ্রয় নিচ্ছে। ডাব, শরবত, আইসক্রিম, রসালো ফলের দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে। ভ্যাপসা গরমে খেটে খাওয়া মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।
নগরীর বহরমপুর এলাকার রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুস জানান, টানা কয়েক ঘণ্টা রিকশা চালানো যাচ্ছে না। রোদের তাপে মনে হয় শরীর পুড়ে যাচ্ছে। শরীরে ক্লান্তি আসছে।
একই এলাকার দিনমজুর সোলাইমান জানান, টানা ২০ মিনিট মাটি খোড়া যাচ্ছে না। শরীর কাজ করতে চাচ্ছে না। এভাবে গরম পড়লে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এ অবস্থায় শিশু ও বৃদ্ধসহ খেটে খাওয়া মানুষ সীমাহীন কষ্ট পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। পুকুর নদী, নালা, খাল বিল শুকিয়ে মাটি ফেটে গেছে।
গত দুইদিন থেকে গরম বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডায়রিয়া, উচ্চ রক্তচাপ জনিত কারণে অসুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ অবস্থায় শিশুদের ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি ও বয়স্কদের হিটস্ট্রোকের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা চলমান তাপপ্রবাহ থেকে শিশুদের বাড়তি যত্ন নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
 

পরিবেশ এর আরো খবর