সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
logo
বগুড়ার ১৮ নদী এখন ফসলের ক্ষেত
প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল, ২০১৫ ১২:৫০:০৪
প্রিন্টঅ-অ+
পরিবেশ ওয়েব

বগুড়া: জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ১৮ নদী শুকিয়ে এখন ফসলের ক্ষেতে পরিণত হয়েছে। নদীর বুকজুড়ে চাষাবাদ হচ্ছে ধান, ভুট্টাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল। শুক্ষ মৌসুমে নদীতে পানি না থাকায় দখল হয়ে যাচ্ছে নদীর দু’তীর।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া জেলার উপর দিয়ে যে ১৮ নদী প্রবাহিত সেগুলো হচ্ছে- যমুনা, বাঙালি, করতোয়া, নাগর, হলহলিয়া, ইছামতি, মহিষাবান, সুখদহ নদী, ডাকুরিয়া, বেলাই, ভদ্রবতি, চন্দ্রাবতী, গাংনাই, গজারিয়া, মানস, বানিয়াইযান, ইরামতি এবং ভেলকা নদী।
এ ১৮টি নদীর মধ্যে যমুনা এবং বাঙালি বড় নদী। যমুনা নদীতে পানি থাকলেও বর্তমানে তা শুকিয়ে নাব্যতা কমে গেছে। নদীতে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর। সেই চরগুলোতে চাষাবাদ হচ্ছে নানা রকমের ফসল। আর এক সময়ের খরস্রোতা বাঙালি নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে।
অন্য নদীগুলোর অবস্থা আরো করুণ। কোনো নদীতেই নেই হাঁটু পানি। পানি শুকিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় লোকজন নদীর বুকজুড়ে শুরু করেছে চাষাবাদ। আবার কোথাও কোথাও নদী থেকে তোলা হচ্ছে অপরিকল্পিতভাবে বালু। নাব্যতা হারিয়ে মরা খালে পরিণত হওয়া নদীগুলো এখন কালের সাক্ষী হয়ে আছে।
নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেই কোনো উদ্যোগ। বগুড়া শহরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা দীর্ঘদিন ধরে ফাইলবন্দী হয়ে রয়েছে।
এছাড়াও বগুড়া জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত নিরঞ্জন নদী, চন্দ্রাবতী নদী ও বেহুলার খাড়ি নদী নিশ্চিহ্ণ হয়ে গেছে অনেক আগেই। এই নদী তিনটির আর কোনো অস্তিত্ব নেই।
বগুড়া জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলো একসময় এলাকার কৃষকের সেচের পানি যোগান দেয়া ছাড়াও  ভুগর্ভস্থ পানির পুনঃসঞ্চারণ করতো। পাশাপাশি পাওয়া যেতো দেশি বিভিন্ন প্রজাতির সুস্বাদু ছোট বড় মাছ।
এছাড়া বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানিতে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করতো। নদীর অস্তিত্বের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন সর্ম্পক রয়েছে জীবন ও সভ্যতার। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে উজান এলাকার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত নদীখাত গ্রাসসহ নদীর উৎস মুখ ও নদীকে অযাযিত ও অবিবেচিত হস্তক্ষেপ যেমন বাড়িঘর নির্মাণ, বাঁধ-রাস্তাঘাট ইত্যাদি স্থাপনা নির্মান রুদ্ধ করেছে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ।
 

পরিবেশ এর আরো খবর