বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯
logo
না ফেরার দেশে কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক
প্রকাশ : ২২ আগস্ট, ২০১৭ ১৫:৪৯:৩৪
প্রিন্টঅ-অ+
ঢাকা: না ফেরার দেশে চলে গেলেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক। গতকাল সোমবার (২১ শে) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানান চিকিৎসক।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিঁনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।
 
ইউনাইটেড হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হৃদরোগে আক্রান্ত (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) হলে সোমবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে পরিবারের সদস্যরা অভিনেতা রাজ্জাককে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তিঁনি  হাসপাতালের চিফ কার্ডিওলজিস্ট ডা. মমিনুজ্জামানের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে হাসপাতালে আনার পর তাঁর স্পন্দন, রক্তচাপ কিছু পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
 
তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,রাষ্ট্রপতি, বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেত্রী।  
 
একনজরে নায়করাজ রাজ্জাক
 
নায়ক রাজের জন্ম ২৩ জানুয়ারি ১৯৪২ সালে।  তাঁর প্রকৃত নাম আব্দুর রাজ্জাক।  ষাটের দশকের মাঝের দিকে তিঁনিচলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ষাটের দশকের বাকি বছরগুলোতে এবং সত্তরের দশকেও তাঁকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের প্রধান অভিনেতা হিসেবে বিবেচনা করা হত।
 
রাজ্জাক পশ্চিমবঙ্গের (বর্তমান ভারতের) কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় স্বরসতী পূজা চলাকালীন সময়ে মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের জন্য তার গেম টিচার রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাঁকে বেছে নেন নায়ক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় চরিত্রে। শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা নাটক বিদ্রোহীতে গ্রামীণ কিশোর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই নায়ক রাজের অভিনয়ে সম্পৃক্ততা।
 
অভিনয় জীবন:
তিনি ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাড়ি জমান। প্রথমদিকে রাজ্জাক তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে "ঘরোয়া" নামের ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি আব্দুল জব্বার খানের সাথে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। সালাউদ্দিন প্রোডাকশন্সের তেরো নাম্বার ফেকু ওস্তাগড় লেন চলচ্চিত্রে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে সবার কাছে নিজ মেধার পরিচয় দেন রাজ্জাক। পরবর্তীতে কার বউ, ডাক বাবু, আখেরী স্টেশন-সহ আরও বেশ ক'টি ছবিতে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয়ও করে ফেলেন। পরে বেহুলা চলচ্চিত্রে তিনি নায়ক হিসেবে ঢালিউডে উপস্থিত হন সদর্পে। তিনি প্রায় ৩০০টি বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পরিচালনা করেছেন প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র।
একনজরে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার : নায়ক রাজ রাজ্জাক ৫ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।  কি যে করি ছবির জন্য ১৯৭৬ সালে, অশিক্ষিত ছবির জন্য ১৯৭৮ সালে, বড় ভালো লোক ছিল ছবির জন্য ১৯৮২ সালে, চন্দ্রনাথ ১৯৮৪ সালে। আর যোগাযোগ সিনেমার জন্য ১৯৮৮ সালে।
 
আজীবন সম্মাননা:
২০১৩ সালে রাজ্জাকে আজীবন সম্মাননা দেয়া হয়। এ ছাড়া মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা ২০১৪ দেয়া হয়।

বিনোদন এর আরো খবর