বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০
logo
যোগ্য নেতৃত্বের অপেক্ষায়...
প্রথমবারের মতো ডিরেক্টরস গিল্ড নির্বাচন
প্রকাশ : ২২ জুলাই, ২০১৬ ১২:১৬:০৫
প্রিন্টঅ-অ+
বিনোদন ওয়েব

ঢাকা: কয়েক বছর ধরেই টিভি মিডিয়ার অবস্থা ভালো না। মানসম্মত অনুষ্ঠানের সংকট চলছে। গল্প, অভিনয়, নির্মাণ, বিষয়বস্তু- সবদিক মিলিয়ে টিভি নাটকের অবস্থা যা’চ্ছে তাই। দেশীয় চ্যানেল থেকে বলতে গেলে দর্শকরা প্রায় মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন। বিদেশী, বিশেষ করে ভারতীয় চ্যানেলগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়ছে দিন গেলেই। উপায়ান্তর না দেখে কিছু টিভি চ্যানেল চেষ্টা করেছে বিদেশী চ্যানেলের অন্ধ অনুকরণ করে দর্শকপ্রিয়তা ধরে রাখার। কিন্তু সে কৌশলও ব্যর্থ।
এ তো গেলো ‘অনস্ক্রিন’ প্রবলেম। ভেতরের অবস্থা আরও শোচনীয়। টিভি নাটক যারা নির্মাণ করেন, বিগত বছরগুলোতে তারা আছেন সবচেয়ে বেশি কোণঠাসা অবস্থানে। পড়তি বাজেট, লবিংবান্ধব সিস্টেম, চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠান বিভাগের ‘অসহায়ত্ব’, সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব; এ সবের ভেতরে ডালপালা মেলে মহীরূহ আকার ধারণ করেছে এজেন্সী (বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠান)। ফলে যেটা হয়েছে, বেশিরভাগ টিভি চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠান বিভাগ ক্ষমতা হারিয়েছে মার্কেটিং বিভাগের কাছে। ব্যবসাটাই দাঁড়িয়েছে মুখ্য হয়ে, মানসম্মত অনুষ্ঠান প্রসঙ্গ একেবারেই গৌণ।
এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে নাট্যনির্মাতারা বারবার চেষ্টা করেছেন এক হওয়ার, সিস্টেম বদল করার। কিন্তু ফলাফল ছিলো শুণ্যের কোঠায়। নির্মাতারা আশা করছিলেন, যদি তারা এক হতে পারেন, সাংগঠনিকভাবে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরতে পারেন; তবে যদি কিছু বদল সম্ভব হয়! সে লক্ষ্যে মাসকয়েক আগে তরুণ নির্মাতাদের একাংশ বেশ কয়েকবার মিলিত হয়ে সমস্যা-সংকটগুলো নিয়ে আলোচনাও করেছেন।
ঠিক এই পরিস্থিতিতে আশা জাগিয়েছে ডিরেক্টর’স গিল্ড। ২০০২ সালে পরিচালকদের অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি নিয়ে এতোদিন বিতর্কের অন্ত ছিলো না। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত একবারও নির্বাচন হয়নি। তিনবার কমিটি গঠন হয়েছে, তা-ও ‘সিলেকশন’ পদ্ধতিতে। নির্মাতাদের স্বার্থ রক্ষায় সংগঠনটি সম্পূর্ণ নিরব ভূমিকা পালন করে এসেছে- এই-ই ছিলো সংগঠনটির বিরুদ্ধে বেশিরভাগ নাট্যপরিচালদের অভিযোগ। এই প্রথম সংগঠনটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মোট ৩৮৪ জন সদস্যের মধ্যে আটটি পদের জন্য লড়ছেন ৫৩ জন প্রার্থী। সভাপতি পদে লড়ছেন তিনজন- কায়েস চৌধুরী, গাজী রাকায়েত ও জাহিদ হাসান। সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন এস এ হক অলিক ও মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ।
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার (২২ জুলাই)। দিনব্যাপী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে সদস্যরা ভোট দিয়ে যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঈদের পর থেকে নাটকপাড়ায় রমরমা অবস্থা। প্রার্থীরা সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে দেখা করে ভোট চাইছেন। প্রচারণা চালাচ্ছেন এসএমএস, ফোন, ফেসবুকেও। প্রার্থীদের প্রত্যেকে আলাদা আলাদাভাবে ইশতেহার প্রকাশ করেছেন। সেখানে রয়েছে নির্মাতাদের স্বার্থরক্ষার প্রসঙ্গ সহ একত্র হয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি।
বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে দেখা যায়, নাট্যনির্মাতাদের ভীড়। প্রার্থীরা সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন। একটি সুস্থ-সুন্দর কর্মপরিবেশের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে প্রত্যেকের কথা যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে আসছে সেটা হলো, একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা।
কায়েস চৌধুরী বলছেন, ‘সবাই যে একত্র হয়েছে, এটি ধরে রাখবো। সঙ্গে সবার চাওয়া যাতে পূর্ণ হয়, সেভাবেই কাজ করবো।’ সুর মিলিয়ে গাজী রাকায়েতও বলছে একই কথা, ‘আমি সবার আগে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্পর্ক উন্নয়ন করবো। কারণ, সবার সম্মিলিত চেষ্টাতেই দেশের মিডিয়ার পরিবর্তন হবে।’ অন্যদিকে ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাহিদ হাসান বলছেন, ‘এতোদিন সংগঠনটি অতোটা গতিশীল ছিলো না। সবার আগে একে সচল করতে চাই।’
নির্মাতাদের বেশিরভাগই মনে করছেন, পরিচালকরা একত্র হলে অনেক কিছুই বদলানো সম্ভব। আর এ একত্র হওয়ার শেষ আশ্রয় হিসেবে ডিরেক্টর’স গিল্ডের নির্বাচনটিকেই বিবেচনা করছেন তারা।
এখন অপেক্ষা শুক্রবার সন্ধ্যার। কাদের হাতে উঠে আসে আগামী নেতৃত্ব, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বিনোদন এর আরো খবর