রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯
logo
চাঁদপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি দমন কমিশনের উদ্যোগে
সততার জন্য সততা স্টোর
প্রকাশ : ২২ আগস্ট, ২০১৭ ১৩:৫১:৩৮
প্রিন্টঅ-অ+
মনিরুজ্জামান বাবলু

দুর্নীতি দমন কমিশনের নির্দেশে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে 'সততা স্টোর' চালু করার সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। যে কোন মুহূর্তে কমিশনের চেয়ারম্যানসহ শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ 'সততা স্টোর' উদ্বোধন করবেন।  


উপজেলায় প্রাথমিকভাবে সততা স্টোরের চালু হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে হাজীগঞ্জ মডেল পাইলট হাইস্কুল এন্ড কলেজ, হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়।  


সততা স্টোর গঠন সংক্রান্ত নীতিমালায় বলা হচ্ছে, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির গঠনতন্ত্র ও কার্যনির্দেশিকা অনুযায়ী তরুণ প্রজন্মের মাঝে সততা ও নিষ্ঠাবোধ সৃষ্টি করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে গণসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ইতোমধ্যে 'সততা সংঘ' গঠিত হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে নৈতিকতা ও সততা দঢ়ভাবে প্রোথিত করার লক্ষ্যে নিয়মিত সততা শিক্ষা ও এর চর্চা আবশ্যক। এক্ষেত্রে দেশের কোনো কোনো জেলা/উপজেলার স্কুলে ছাত্র/ছাত্রীদের নৈতিক শিক্ষা চর্চার লক্ষ্যে বিক্রেতাবিহীন সততা স্টোর চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা উক্ত স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের মাঝে নৈতিকতা ও আদর্শ গঠন দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করবে। এ লক্ষ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে দেশের প্রতিটি জেলার যে কোনো ১টি উপজেলার ১টি বালিকা বিদ্যালয় এবং ১টি বালক বিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ও উদ্যোগে সততা স্টোর স্থাপন, চালু ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।  


জানতে চাইলে দুর্নীতি দমন কমিশনের কুমিল্লা আঞ্চলিক অফিসের সহকারী পরিচালক আহসান কবির পলাশ বলেছেন, চাঁদপুরের সবকটি উপজেলায় ইতোমধ্যে সততা স্টোর চালু হয়েছে। এখন হাজীগঞ্জ উপজেলায় চালু হবে। আগামী ৫/৬ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান চাঁদপুর সফরে আসবেন। ওই সময় তিনি হাজীগঞ্জ উপজেলার যে কোনো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সততা স্টোর উদ্বোধন করবেন।  


নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কুল ক্যাম্পাসের উপযুক্ত কোনো কক্ষ হতে হবে। এই সততা স্টোরের অর্থের উৎস শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসারে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে পরামর্শক্রমে স্টোরের প্রাথমিক পুঁজি সংগ্রহ ও বিনিয়োগ করবেন। সততা স্টোরে পণ্যের নাম ও মূল্য তালিকা সাঁটানো থাকতে হবে। প্রতি শিক্ষার্থী একটি বাঙ্ েওই পণ্যের মূল্য রাখবে। পণ্যের বিবরণ তালিকায় খাতা, কলম, পেন্সিল, রবার, স্কেল, জ্যামিতি বঙ্, রং পেন্সিল, চিপস, বিস্কুট রয়েছে। এছাড়া সততা সংঘের পরিচালনা কমিটির নিকট যে সকল পণ্য ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আবশ্যক বলে প্রতীয়মান হবে তা রাখতে পারবে।  


ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সততা স্টোরের কিছু নীতিমালা মেনে চলতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে স্টোরের প্রবেশের সময় নাম, শ্রেণী ও রোল নং লিপিবদ্ধ করতে হবে।  


দুর্নীতি দমন কমিশনের এই উদ্যোগে স্বাগত জানিয়ে হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, 'এটি একটি মহতী উদ্যোগ। চাকুরি জীবনে এমন উদ্যোগ মাইলফলক প্রজেক্ট। এটা ফলপ্রসু হবে। শিক্ষার্থীদের সংশোধনের সুযোগ হবে।'  


হাজীগঞ্জ মডেল পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী সানাউল্ল্যাহ রহমান। তার রোল নং এক। সে দুর্নীতি দমন কমিশনের এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলেছেন, শেখার অনেক কিছু আছে। আমরা মিতব্যয়ী হতে শিখবো। নিয়ম-শৃংখলা ও সততা, নিষ্ঠাবান হতে এই সততা স্টোর জীবনের পরবর্তী সিঁড়িতে কাজে আসবে। একই শ্রেণির হাফছা আক্তার ও সুমি পোদ্দার বলেছেন, 'জীবনের সব ক্ষেত্রে সততা কাজে লাগবে।' হাজীগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান শাখার ফাইতেমা ইসলাম বলেছেন, 'এখান থেকে নৈতিকতা শিখা যাবে।' অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া ও রিফাত তাফহীম বলেছেন, 'সততা স্টোরের মাধ্যমে অন্তত চুরি করা থেকে বিরত থাকবে। আর সততা শিখবে।'  


হাজীগঞ্জ আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মালেক পাটওয়ারী জানান, 'ইতোমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সততা স্টোর চালু করেছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। স্টোর চালু করতে বাকি টাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যোগান দিতে হয়েছে।'  


হাজীগঞ্জ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবু ছাইদ জানান, 'সততা স্টোরের জন্য পণ্যের নাম ও মূল্য তালিকা তৈরি করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে ৫ হাজার টাকা পেয়েছি।'  


জানতে চাইলে হাজীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলী রেজা আশ্রাফী বলেন, 'দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর চালু করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে নির্দেশিকা এসেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালু করার জন্য সকল প্রস্তুতি শেষ করেছি। চলতি বছরের মধ্যে এই উপজেলায় মাদ্রাসাসহ আরো দশটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।'  


হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম মজুমদার বলেন, 'শীঘ্রই হাজীগঞ্জ উপজেলার তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।'  


সততা স্টোরের অর্থ বরাদ্দ প্রসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের কুমিল্লা আঞ্চলিক অফিসের সহকারী পরিচালক আহসান কবির পলাশ বলেছেন, 'প্রাথমিকভাবে হাজীগঞ্জ উপজেলায় ১৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সততা স্টোরে অর্থের বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।'

শিক্ষাঙ্গন এর আরো খবর