শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯
logo
চবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা
প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৫:০১:০৫
প্রিন্টঅ-অ+
শিক্ষা ওয়েব
  চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক।

চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু সালেম মোহাম্মদ নোমানের আদালতে সোমবার মামলাটি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সমাজতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. গাজী সালেহ্‌ উদ্দিন।

সালেহ উদ্দিনের আইনজীবী মুজিবর রহমান চৌধুরী জানান, গত ২৮ নভেম্বর নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট (টিআইসি) মিলনায়তনে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ আলম চৌধুরীর নাগরিক স্মরণসভার আলোচনায় ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বাদীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলেন।

“এতে সম্মান ক্ষুন্ন হওয়ায় গাজী সালে্‌হ উদ্দিন দণ্ডবিধির ৫০০ ও ৫০১ ধারায় মামলা করেছেন।”

আদালত মামলা আমলে নিয়ে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনারকে ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ করে প্রতিবেদন দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন বলে জানান আইনজীবী মুজিবর।

ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী (ফাইল ছবি)

ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী (ফাইল ছবি)
শিক্ষক গাজী সালে্‌হ উদ্দিন গত ১ জুলাই থেকে অবসর প্রস্তুতিকালীন ছুটিতে আছেন।

মামলার আর্জিতে ২৮ নভেম্বরের ওই স্মরণসভায় দেওয়া উপাচার্যের বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ‘সভায় ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক নগদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট নিয়েছেন। অনেকে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট বিক্রির সাথেও জড়িত ছিলেন। এ দলে সচিবরা আছেন ভুয়া, অনেক বড় বড় কর্মকর্তারাও ভুয়া। তবে মুক্তিযুদ্ধ করেও সার্টিফিকেট নেননি এমন মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যাও অনেক।’

‘এরপরই তিনি (ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী) মঞ্চে উপবিষ্ট অভিযোগকারীর (গাজী সালেহ্‌ উদ্দিন) প্রতি অঙ্গুলী নির্দেশ করে তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কি না এ ব্যাপারে নিজের সন্দেহের কথা জানান।’

মামলার আর্জিতে বলা হয়েছে, ড. গাজী সালেহ্‌ উদ্দিনের বাবা রেলওয়ে কর্মকর্তা আলী করিমকে ১৯৭১ সালের ১০ নভেম্বর পাকিস্তানী সেনাদের সহযোগিতায় অবাঙালিরা আটক ও পরে হত্যা করে।

গাজী সালেহ্‌ উদ্দিনের দুই ভাই গাজী মেজবাহ উদ্দিন ও গাজী শামসুদ্দিনও মুক্তিযোদ্ধা। শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাদের বাবা আলী করিমের নামে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ স্মারক ডাকটিকেটও প্রকাশ করেছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাজী সালেহ্‌ ‍উদ্দিন একাত্তরে দুই নম্বর সেক্টরে ডা. আনিসুল ইসলাম ও সুবেদার লুৎফুর রহমানের অধীনে যুদ্ধ করেছেন। তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ নম্বর বামুস-২৭৯১০ (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাক্ষরিত) এবং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের ইস্যু করা মুক্তিযোদ্ধা সনদ নম্বর ম ৬০৫৬ (তারিখ ১০/১০/২০০২)। তিনি নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতাও পান।
 

শিক্ষাঙ্গন এর আরো খবর