বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯
logo
স্কুলছাত্রীদের জন্য ড্রেসকোড নিষিদ্ধ
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:০৫:১৫
প্রিন্টঅ-অ+
শিক্ষা ওয়েব

কলম্বো: শ্রীলঙ্কার কয়েকটি স্কুলে মায়ে শিক্ষার্থীরা কী ধরনের পোশাক পরে স্কুলে আসতে পারবেন তার জন্যে সেসব স্কুল কর্তৃপক্ষ একটি ড্রেস-কোড বেঁধে দিয়েছিলো। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর সরকার তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
সরকার বলছে, কোনো স্কুলই অভিভাবকদের জন্যে এ ধরনের নির্দেশনা জারি করতে পারবে না।
প্রথমে একটি নামকরা স্কুলে এই ড্রেস-কোড চালু করা হয়। স্কুলের সামনে একটি পোস্টার ঝুলিয়ে দেয়া হয় যেখানে ছবিসহ বুঝিয়ে দেয়া হয়ে ছাত্রছাত্রীদের মায়েরা কী ধরনের পোশাক পরে স্কুলে আসতে পারবেন। ওই স্কুলে মূলত উচ্চবিত্তের সন্তানরাই লেখাপড়া করে।
ওই নোটিসে দেখা যায় মায়েরা শাড়ি কিম্বা ঢিলেঢালা পোশাক পরে স্কুলে আসতে পারবেন। কিন্তু স্কার্ট বা হাতা-কাটা জামা পরে স্কুলে আসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
খোলামেলা পোশাক পরে এলে স্কুলের ছেলেদের অনুভূতিতে পরিবর্তন আসতে পারে এই আশঙ্কায় স্কুলের তরফে এই ড্রেস-কোড নির্ধারণ করে দেয়া হয়।
এ নিয়ম চালু করার পর অভিভাবকদের পক্ষ থেকে প্রচুর অভিযোগ আসে ও সোশাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে।
শ্রীলঙ্কার বেশ কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে এ ধরনের ড্রেস-কোড চালু করা হয়েছিলো। সে অনুযায়ী পোশাক না পরে আসার কারণে অনেক মাকেই স্কুলে ঢুকতে দেয়া হয়নি।
দেশটির শিক্ষামন্ত্রী আকিলা কারিয়াওয়াসাম বিবিসিকে বলেন, এরপর বহু অভিভাবক বিশেষ করে মায়েরা এই বিধিনিষেধের ব্যাপারে তার কাছে অভিযোগ করেছেন।
তিনি বলেন, "অভিভাবকরা কি পরে স্কুলে আসবেন স্কুল সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।"
"এই ড্রেস-কোডের জন্যে মায়েরাই সমস্যার মধ্যে পড়ছেন। কারণ বেশিরভাগ কর্মজীবী নারী সবসময় শাড়ি পরেন না। তাদের কারো কারো ইউনিফর্ম আছে যা পরে তাদেরকে কাজে যেতে হয়।"
"ফলে বাচ্চাদের শুধু স্কুলে দিতে আসতে গেলেই তারা শাড়ি পরতে বাধ্য হচ্ছেন। পরে আবার পোশাক বদলে তাদেরকে কাজে যেতে হচ্ছে," বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবিষয়ে তিনি সব স্কুলের প্রধান শিক্ষককে একটি সার্কুলার পাঠিয়েছেন যেখানে বলা হয়েছে পিতামাতারা কী পরে স্কুলে আসবেন সেবিষয়ে স্কুলের বলার কিছু নেই।
তিনি বলেন, সব মা'ই জানেন কী কাপড় পরে স্কুলে যেতে হয় বা হয় না।
রাজধানী কলম্বোর সেন্ট জোসেফ কলেজে গত সপ্তাহে ড্রেসকোডের পোস্টারটি লাগানো হয়েছিলো। সেখানে বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরিহিত ১৬ জন নারীর ছবি তুলে ধরা হয়েছে। এর কোনটার পাশে টিক চিহ্ন দেওয়া আবার কোনটার পাশে ক্রস বা কাটা চিহ্ন।
আরো একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি স্কুল সেন্ট পিটার্স কলেজেও গেটের সামনে প্রায় একই ধরনের ড্রেস-কোড লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিলো।
"এটা ছেলেদের স্কুল। ফলে মহিলাদের বোঝা দরকার কি তাদের পরা উচিত আর কি পরা উচিত নয়," বলেন স্কুলের একজন কর্মকর্তা।
এরপর সোশাল মিডিয়ায় এর তীব্র সমালোচনা হয়।
ফেসবুকে একজন লিখেছেন, "তারা কি বুঝতে পারে না যে আমরা একটা গরম আবহাওয়ার দেশে বাস করি। তাহলে শিক্ষার্থীদের পিতার জন্যে ড্রেস-কোড কোথায়?" বিবিসি

শিক্ষাঙ্গন এর আরো খবর