রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯
logo
জেএসসি পরীক্ষা কেন বেআইনি নয়
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৩:০৮:১৫
প্রিন্টঅ-অ+
শিক্ষা ওয়েব

ঢাকা: জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষাপদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। শিক্ষাসচিব, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার এ রুল দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে ইউনুছ আলী আকন্দ নিজে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।
২০১০ সালের ১৪ মার্চ সরকার জেএসসি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিষয়ে ওই বছরের ১৫ জুন সরকার একটি পরিপত্র জারি করে। ওই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ চলতি বছরের ৩১ আগস্ট একটি রিট আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত এ রুল দেন।
ইউনুছ আলী তার রিট আবেদনে বলেছেন, ১৯৬১ সালের মাধ‌্যমিক ও উচ্চ মাধ‌্যমিক শিক্ষা অধ‌্যাদেশে এ ধরনের পরীক্ষার কথা বলা না থাকলেও সরকার প্রজ্ঞাপণের মাধ‌্যমে জেএসসি পরীক্ষা চালিয়ে আসছে। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি কোচিং বাণিজ‌্য বাড়ছে।
প্রাথমিক স্তর অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বছর থেকেই পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা উঠিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও ২৭ জুন তাতে অসম্মতি জানায় মন্ত্রিসভা।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম ওইদিন সাংবাদিকদের বলেন, “ক্লাস ফাইভে যে সমাপনী পরীক্ষাটা হয়, এটা বাতিল করে অষ্টম শ্রেণিতে প্রাইমারি সমাপনী পরীক্ষা নেওয়ার একটা প্রস্তাব ছিল। মন্ত্রিসভা এটা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ফের উপস্থাপনের জন্য বলেছে।”
“মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আগের মত প্রাথমিক সমাপনী এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা চলতে থাকবে। মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল- মন্ত্রিসভা তা মানেনি, এবারও পরীক্ষা হবে।”
জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করে গত ১৮ মে তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করে সরকার।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে ২০০৯ সালে পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রচলন হয়। পরের বছর মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হয় ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা।
আর ২০১০ সালের ১৫ জুন জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ‌্যমে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে আয়োজন করা হচ্ছে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা।
আগে পঞ্চম শ্রেণিতে আলাদা করে বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হলেও প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী চালুর পর ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকেই বৃত্তি দেয়া হচ্ছিল।

শিক্ষাঙ্গন এর আরো খবর