শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা মানছে না খুলনায় স্কুল শিক্ষার্থীরা
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট, ২০১৬ ১২:০৪:৪৪
প্রিন্টঅ-অ+
শিক্ষা ওয়েব

খুলনা : জিলা স্কুলের সকাল সিফটের ছুটি হয়েছে ঢের আগেই। বেলা ১২টা ৫ মিনিটে তিন বন্ধু মিলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এর মধ্যে একজন পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে ব্যবহার করছে আর হাঁটছে। অন্য দু’জন গল্প করছে। গেটের সামনে গেলে দেখা যায় ব্যাগ কাধে আরো একজন ছাত্র স্মার্ট ফোন ব্যবহার করতে করতে বেরিয়ে যাচ্ছে।
এবার দ্বিতীয় সিফটের ক্লাস শুরু হবে। ভেতরে প্রবেশ করতেই স্কুলের নতুন একাডেমিক ভবনের পশ্চিমে একদল ছাত্র বসে ও দাঁড়িয়ে রয়েছে। এ সময় তাদের মধ্যে একজন মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। খানিক এগোতেই স্কুলের ঘণ্টা শুনে দৌড় দিয়ে নতুন একাডেমিক ভবনের ভেতরে প্রবেশ করলো ওই ছাত্ররা।
ভবনের নিচতলার একপাশে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ক্লাসরুম, অপর পাশে দশম শ্রেণি। তখনও শিক্ষকরা ক্লাসে প্রবেশ করেনি। এ সময় ছাত্রদের দেখা যায় গল্প, আড্ডায় মজে থাকতে। দশম শ্রেণির ক্লাসরুমের সামনে থাকা বেঞ্চের ওপর বসে এক ছাত্র মোবাইলে ফেসবুক ঘাটছে। এ সময়ে অন্যরা তাকে ঘিরে বসে রয়েছে। মিনিট পাঁচেক অবস্থান করার পর ওই ছাত্রটি পুনরায় মোবাইল নিয়ে একাডেমিক ভবনের বাহিরে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই দেখা মেলে ৬ষ্ঠ শ্রেণির সামনের বারান্দায় এক ছাত্র মোবাইলে কথা বলতে বলতে আসছে। কিছুক্ষণ পরে মোবাইলটি পকেটে ঢুকিয়ে রাখে।
শুধু জিলা স্কুল নয়, খুলনা করোনেশন, পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ মহানগরীর অধিকাংশ স্কুলের একই অবস্থা। খুলনার এসব স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছে না। অনায়াসে ছাত্র-ছাত্রীরা মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করছে স্কুলগুলোতে। স্কুলে নিষিদ্ধ হলেও শিক্ষার্থীরা ব্যাগে লুকিয়ে আনে মোবাইল ফোন। ক্লাস শুরু, ক্লাসে ঘণ্টার পর, টিফিন এবং স্কুল প্রাঙ্গণে ও ক্লাস শেষে বাহিরে শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে।
জিলা স্কুলের এক ছাত্র জানায়, বড় ভাইয়েরা মোবাইল ফোন স্কুলেই ব্যবহার করে। স্যাররা না থাকলে তারা ব্যাগ বা পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে কথা বলে। অনেক সময়ে ভিডিও গান শুনতেও দেখা যায়।  
জিলা স্কুলের অধ্যক্ষ মো. আরিফুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন আনা নিষেধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে ক্লাসের মনোযোগ নষ্ট হয়। এ বিষয়ে ছাত্রদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। অনেক সময় তল্লাশি করে মোবাইল পাওয়া গেলে তা জব্দ করে অভিভাবকদের ডেকে দেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের কাছে মোবাইল না দেয়ার জন্য অভিভাবকদের বলা হয়েছে।
বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন আনা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গতকাল বুধবার ক্লাসগুলোতে পরীক্ষার খাতা দেখানো হয়েছে। এ জন্য ক্লাসগুলো ঠিকমতো হয়নি। যে কারণে কেউ কেউ সুযোগে মোবাইল ফোন আনতে পারে।’
খুলনা পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের মোবাইল ফোন নিয়ে আগমনে নিষেধ রয়েছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিভাবকদের সচেতন করা হয়েছে। ছাত্রদের মোবাইল না আনতে কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারপরেও অনেকে লুকিয়ে মোবাইল ফোন আনলেও আনতে পারে। এ বিষয়ে শিক্ষকরা খুব কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কারো কাছে মোবাইল ফোন দেখা গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়।
সেন্ট জোসেফ’স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলফ্রেড রনজিত মণ্ডল জানান, শিক্ষার্থীরা যাতে ক্লাসে মোবাইল ফোন না আনতে পারে সে বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তল্লাশি করেন। ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করার সুযোগ নেই। স্কুলের বাহিরে কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও করতে পারে। এ বিষয়ে শিক্ষকরা প্রতিদিন তল্লাশি করে।
সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লায়লা আরজুমান, স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন আনার কোনো সুযোগ নেই। ক্লাসে মোবাইল আনলে তাদের বিরুদ্ধে স্কুলের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। প্রতিনিয়ত আমি ব্যক্তিগতভাবে তল্লাশি করে থাকি। ছুটির সময়ে হয়তো বা অভিভাবকদের মোবাইল নিয়ে কথা বলতে পারে।
খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান জানান, মোবাইল ফোন ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগ কমে যায়। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সবচেয়ে বেশি সচেতন হতে হবে। স্কুলে যাওয়ার সময়ে তারা যাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পারে সেটির দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কঠোর হতে হবে।
সূত্র:- বাংলামেইল২৪ডটকম

শিক্ষাঙ্গন এর আরো খবর