বৃহস্পতিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
আধুনিক ধারায় মাদরাসা শিক্ষা
প্রকাশ : ২৮ জুলাই, ২০১৬ ১২:৫৫:৪৯
প্রিন্টঅ-অ+
শিক্ষা ওয়েব

ঢাকা: সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সতর্ক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এরই অংশ হিসেবে বুধবার ঢাকায় দেশের বিভিন্ন মাদরাসার অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য আলেমরা অংশ নিয়েছেন।
সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাদরাসা এবং আলেমদের ভূমিকা কি হতে পারে সে বিষয়ে এই সম্মেলনে দেশের সমস্ত ফাজিল ও কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ও শিক্ষক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে বর্তমানে ফাজিল ও কামিল মিলিয়ে প্রায় এক হাজার ৩০০ মাদরাসা রয়েছে। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এগুলোর নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসানউল্লাহ বিবিসিকে বলেন, “এই সম্মেলনের মাধ্যমে সন্ত্রাসের বিপক্ষে ইসলামের যে অবস্থান সে বার্তা তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য।”
তিনি বলেন, “অন্যায়ভাবে নির্যাতন, হত্যা কিংবা আত্মহত্যা ইসলাম অনুমোদন করে না।”
মাদরাসাগুলোর নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটির ভিসি জানান, “তারা (সম্মেলনে অংশ নেয়া অধ্যক্ষ ও শিক্ষক) নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে জঙ্গিবাদ বিরোধী বার্তা দেবেন । কেউ যেন বিভ্রান্ত হয়ে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে সতর্ক করবেন।”
খেলাধুলা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হবে বলেও তিনি জানান।
কিন্তু বাংলাদেশের মাদরাসাগুলোতে সংস্কৃতি চর্চা কম হয়।
এ প্রসঙ্গে আহসানউল্লাহ বলেন, “অতীত থেকে বর্তমানে উন্নতি হচ্ছে। মাদরাসাগুলো আধুনিক ধারায় নিজেদের সাজিয়ে নিচ্ছে। তারা কোরআন হাদিসের পাঠ যেমন গ্রহণ করছে একইসঙ্গে অন্যান্য বইপত্রও পড়ছে। টেলিভিশন বা পত্র-পত্রিকার সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ বাড়ছে । দেশকে কিংবা দেশের সংস্কৃতিকেও তারা বুঝতে পারছে।”
জাতীয় সংগীত বা জাতীয় দিবসগুলো মাদরাসায় উদযাপন করা হচ্ছে। বিতর্কসহ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা হচ্ছে।
কোনো কোনো মাদরাসায় বেশি হচ্ছে, কোনো কোনো মাদরাসায় কম হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় জঙ্গিবাদের উত্থানের প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময় মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ এসেছে।
এই ইমেজ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কোনো নির্দেশনা থাকে কি-না জানতে চাইলে ভিসি জানান, মাদরাসাগুলোর প্রতি বিভিন্ন নির্দেশনা রয়েছে।
সেগুলো হচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন নির্দেশনা, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণ খতিয়ে দেখা এবং শিক্ষকদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা। -বিবিসি
 

শিক্ষাঙ্গন এর আরো খবর