সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০
logo
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর কলেজগুলোতে বেড়েছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি
প্রকাশ : ২২ জুলাই, ২০১৬ ১২:০৭:২৮
প্রিন্টঅ-অ+
শিক্ষা ওয়েব

ঢাকা: জঙ্গিবাদরোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব উদ্যোগের ফলে বেড়েছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি। বুধবার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া যায়।
সরকারি বাঙলা কলেজে জঙ্গিবাদ বিরোধী তৎপরতা প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠান প্রধান অধ্যাপক মো. ইমাম হোসেন বাংলামেইলকে বলেন, অনুপস্থিত শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। গ্রুপিং করে প্রতিটি শ্রেণি কক্ষে গিয়ে আমরা কাউন্সেলিং করছি। জঙ্গিবাদ বিরোধী কমিটি করতেছি। প্রত্যেক অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছি। প্রতিটি বিভাগ যাতে প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী সম্পর্কে পরিপূর্ণ তথ্য রাখতে পারে, শিক্ষার্থী সম্পর্কে জানতে পারে সে বিষয়ে কাজ হচ্ছে।
তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পাশপাশি বিভিন্ন কার্যক্রম আমরা চালাচ্ছি। এর মধ্যে ১৯ জুলাই কলেজ প্রাঙ্গণে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তি সমাবেশ করেছি। এখানে প্রায় ২০-২২ হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। ২০ জুলাই মানবন্ধন করেছি । শিক্ষার্থী অভিভাবক সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা করছি।
এর ফলে আগের চেয়ে কয়েকগুণ শিক্ষার্থী বেড়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক ইমাম। তিনি বলেন, অনেক অনেক গুণ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বেড়েছে, প্রায় ২০-৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী হবে। তিনি বলেন, আমরা সর্বাত্মকভাবে জঙ্গি প্রতিরোধ এবং জঙ্গিবাদ বিরোধী কার্যক্রম গত এক সপ্তাহ ধরে চালিয়ে যাচ্ছি। এ প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। অধ্যক্ষের দেয়া তথ্যমতে বাঙলা কলেজে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করছে।
শিক্ষার্থীর দিক থেকে দেশের অন্যতম বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি তিতুমীর কলেজ। যেখানে প্রায় ৪৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগে সব শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে প্রতিষ্ঠানটি। সেই সঙ্গে সভা-সেমনিারের পাশাপাশি শ্রেণি কক্ষেও জঙ্গিবাদ রিবোধী আলোচনা করছেন শিক্ষকরা।
এসব তৎপরতার ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কি পরিমাণ বেড়েছে? এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান অধ্যাপক আবু হায়দার আহমেদ নাসের বাংলামেইলকে বলেন, মাস্টার্সের পরীক্ষা চলছে। এ কারণে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি খুব একটা বাড়েনি। তবে অন্যান্য সময়ের থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেড়েছে।
 
ইডেন মহিলা কলেজে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে স্নাতক প্রথম এবং তৃতীয় বর্ষের নির্বাচনী পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষায় যথারীতি প্রায় শতভাগ উপস্থিতি। অন্যান্য বর্ষের ক্লাসে উপস্থিতিও আগের চেয়ে বেড়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান অধ্যাপক গায়ত্রী চ্যাটার্জী বাংলামেইলকে বলেন, ‘ঈদের পর ১০ তারিখে ক্লাস শুরু হয়েছে। আমাদের এখানে কয়েকটি বর্ষের নির্বাচনী পরীক্ষা চলছে। আমরা সবাইকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার কথা জানিয়েছি। কলেজে নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছি। উপস্থিতি জানার জন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট সিস্টেমের ব্যবহার শুরু করেছি। প্রক্রিয়াটি চলমান। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হলে শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য এ সিস্টেম থেকে আমরা জানতে পারবো।’
শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ঈদের পর ক্লাস শুরু এবং নির্বাচনী পরীক্ষা চলছে সবমিলিয়ে যে উপস্থিতি, তা এরকম পরিস্থিতিতে অন্যান্যবার যে পরিমাণ শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকতো, এখন তার চেয়ে বেশি। আমাদের সব তৎপরতার মূল উদ্দেশ্যে শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানো।’ প্রতিষ্ঠানের তথ্যমতে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো শিক্ষার্থী ইডেন কলেজে অধ্যায়নরত।
অনেক প্রতিষ্ঠানেই ক্লাসের শুরুতে জঙ্গিবাদের কুফল সম্পর্কে আলোচনাও করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সরকারি মাদরাসা-ই আলীয়ার অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম আহমেদ বাংলামেইলকে বলেন, ‘প্রতিটি ক্লাস শুরু হওয়ার আগে ৪/৫মিনিট জঙ্গিবাদেও কুফল সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোচনা করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাযুযায়ী আমরা জঙ্গিবিরোধী তৎপরতা অব্যহত রেখেছি।’
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলায় তরুণদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এরপর অনেক তরুণ স্বেচ্ছা নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশ হয়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে তারা কোনো উগ্রবাদী সংগঠনে যোগ দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোনো শিক্ষার্থী টানা ১০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষাঙ্গন এর আরো খবর