রোববার, ১২ জুলাই ২০২০
logo
ঢাবির বাজেটে বাড়ল আড়াইশো কোটি টাকা
প্রকাশ : ২৩ জুন, ২০১৬ ২২:০০:০৮
প্রিন্টঅ-অ+
শিক্ষা ওয়েব

ঢাবি : ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মোট বাজেট ছিল ৪২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তা ছিল ৩১৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। কিন্তু বিগত অর্থবছরগুলোর তুলনায় এবার বাজেটের পরিমাণ আরো বেড়েছে। সর্বশেষ ২০১৫-১৬ অর্থবছরের চেয়ে এবারের বাজেটে প্রায় আড়াইশো কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্য ৬৬৪ কোটি ১১ লাখ টাকার বাজেট পাস করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
 
বৃহস্পতিবার (২৩ জুন)  বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিনেট চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে এ বাজেট পাস হয়। বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ অধিবেশন শুরু হয়ে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
 
অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন ২০১৬-১৭ সালের জন্য ৬৬৪ কোটি ১১ লাখ টাকার প্রস্তাবিত এই বাজেট উত্থাপন করেন। এরপর বাজেটের ওপর আলোচনা করেন সিনেট সদস্যরা। আলোচনা শেষে উপাচার্য বাজেট পাসের প্রস্তাব করলে সর্বসম্মতিক্রমে তা পাস হয়।
 
এর আগে বেলা ১১টার পর জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়। পরে বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সম্প্রতি দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র-কর্মচারীদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব নিয়ে আসেন। এ সময় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সৈয়দ রেজাউর রহমানের পরিচালনায় সিনেট অধিবেশনে প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ ও প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানসহ সিনেট, সিন্ডিকেট, বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও হলের প্রভোস্টরা উপস্থিত ছিলেন।
 
আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য উত্থাপিত এই বাজেটে (৬৬৪ কোটি ১১ লাখ টাকা) শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং পেনশন বাবদ ৮২ দশমিক ৫৪ শতাংশ ব্যয় করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাবদ সহায়তা ৩৯৮ কোটি ১৫ লাখ, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম খাতে ৬০ কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার, পেনশন বাবদ ১৫০ কোটি, সাধারণ কার্যক্রম ও বিবিধ খাতে ৪৭ কোটি ২৭ লাখ ১০ হাজার, মেরামত, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ৯ কোটি এবং মূলধন মঞ্জুরি বাবদ ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
বাজেটে আয় হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনুদান হিসেবে পাবে ৬০৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪১ কোটি টাকা। ঘাটতি দেখানো হয়েছে ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অধিবেশনে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ৫৫৫ কোটি ১১ লাখ টাকার সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করা হয়।
 
শিক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বাজেটের অভিভাষণ বক্তৃতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘শিক্ষার আদর্শিক ও প্রায়োগিক দিক বিবেচনা করে সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ। দেশের ভবিষ্যত উন্নয়নসহ অনেক কিছুই শিক্ষার সঙ্গে জড়িত। আমার মতে, শিক্ষা বিষয়ে সকলে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা সমীচীন হবে। মনে রাখতে হবে, শিক্ষার যেমন একটি আদর্শিক দিক আছে, তেমনি রয়েছে এর প্রয়োগিক দিক।’
বিশ্ববিদ্যালয় দলীয়করণ হচ্ছে এবং শিক্ষাকে দলীয় রাজনীতি থেকে মুক্ত করতে হবে- এ ধরনের আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে ভিসি বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির পক্ষে-বিপক্ষে অসংখ্য যুক্তি আছে। সে যুক্তিজাল বিস্তার করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা জানি, এ কর্মে রত হলে তা গ্রিক পুরাণের পেনিলোপি’র জাল বোনার মতো হবে। তা কখনো শেষ হবে না।’
উপাচার্য বলেন, ‘আমরা আপাতত এইটুকু মানি যে, এ কালে শিক্ষায় কিছুটা রাজনীতির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তার প্রভাব পড়েছে। মনে রাখতে হবে, রাজনীতি সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষালয় এ সমাজেরই অংশ। নাগরিকমাত্রেই রাজনীতি করার অধিকার আছে।’ এর পর সিনেট অধিবেশনে একে এক সিনেট সদস্যগণ বক্তব্য রাখেন।

শিক্ষাঙ্গন এর আরো খবর