শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০
logo
নিশান বাঁচলে, বেঁচে যায় একটি স্বপ্ন
প্রকাশ : ৩০ মে, ২০১৬ ১৮:০৯:২৫
প্রিন্টঅ-অ+
শিক্ষা ওয়েব

নোয়াখালী: নিশান চাকমা। বাড়ি রাঙামাটি জেলায়। পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে। বড় স্বপ্ন নিয়ে পা রেখেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায়। সকল প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাচ্ছিল মেধাবী এই শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রথম বর্ষ পর্যন্ত সব কিছু ঠিকঠাকভাবেই চলছিল।
কিন্তু না, নিয়তির নির্মমতায় হঠাৎ করে আসা কোনো এক অজানা ঝড়ে সব কিছুই যেন ওলটপালট হয়ে গেলো। স্বপ্ন গুলো যেন দুঃস্বপ্নে পরিণত হচ্ছিল স্বপ্নবাজ এই তরুণের।
বলছিলাম, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের নবম ব্যাচের ক্যান্সার আক্রান্ত শিক্ষার্থী নিশান চাকমার কথা। সময়টা গত বছরের জুলাই মাসে। হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট অনুভব করে নিশান। দ্রুত ভর্তি করা হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
পরীক্ষা নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানালেন নিশানের রক্তে ক্যান্সারের উপাদান পাওয়া গেছে। ব্লাড ক্যান্সার!
চিকিৎসকরা জানালেন, নিশানকে বাঁচাতে হলে সিঙ্গাপুর অথবা ভারতে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু চিকিৎসার খরচটা যেন নিশানের জীবনে প্রশ্ন চিহ্ন একে দিয়েছিল। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা। যা নিশানের মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে যোগাড় করা অসম্ভব ছিল।
কিন্তু না এভাবে একটি স্বপ্নের অপমৃত্যু হতে পারেনা। তাই প্রথমেই এগিয়ে আসলো তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা। এরপর এগিয়ে আসলো কয়েকটি সামাজিক সংগঠন। শুরু হল ফান্ড সংগ্রহের কাজ। সকলের একাগ্রতায় ধীরে ধীরে এগিয়ে চলল ফান্ড সংগ্রহ। নিশানকে বাঁচাতে তার সহপাঠীসহ অন্যরা কখনো ফিরেছেন মনুষের দ্বারে দ্বারে, কখনো বা করেছেন কনসার্ট এর আয়োজন, আবার কখনো মঞ্চনাটক এর আয়োজন করেছেন। কনসার্ট বা মঞ্চনাটক যেখান থেকেই টাকা এসেছে সাথে সাথে তা পাঠানো হয়েছে নিশানের চিকিৎসার্থে।
এছাড়া বাংলামেইলসহ অন্যান্য গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি প্রচার হওয়ায় চারদিক থেকে সাহায্য আসতে থাকে। কারণ সবার চাওয়া ছিল একটাই আবার ফিরে আসুক নিশান। আবার জমিয়ে তুলুক আড্ডার আসর। পূরণ করুক নিজের লালিত স্বপ্নগুলোকে।
এরপর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হল কোলকাতার টাটা মেডিকেল সেন্টারে। আর সেখান থেকে দীর্ঘ এগারো মাসের জীবন সংগ্রাম শেষে গত ২৪ মে দেশে ফিরেছে নিশান। তাইতো বলা যায় নিশান বাঁচলে, বেঁচে যায় একটি স্বপ্ন। একজন বাবা ফেরত পায় তার আদরের সন্তানকে, মুছা যায় একজন মায়ের চোখের পানি।
ফেসবুকের মাধ্যমে নিশান বাংলামেইলকে তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানান, এখন সে অনেকটাই সুস্থ বোধ করছে। যদিও পুরোপুরি সুস্থ হতে আরো কয়েক মাস সময় লাগবে। তাকে আরো কিছু দিন কয়েকটা থেরাপি চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরো জানান, এখনো মিষ্টি স্বাদ ছাড়া অন্য স্বাদ অনুভব করতে পারেন না। সবার কাছে আশীর্বাদ চেয়েছে নিশান। যাতে দ্রুত সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।

শিক্ষাঙ্গন এর আরো খবর