বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
logo
শিক্ষানীতি শিক্ষাআইন কোনোটাই জনগণের জন্য নয়
প্রকাশ : ২২ মে, ২০১৬ ১৬:২১:২৩
প্রিন্টঅ-অ+
শিক্ষা ওয়েব

ঢাকা: ‘শিক্ষা আইন ২০১৬’ একটি অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রণীত হচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক কর্মীরা। তারা বলছেন, এই আইনেই অনেক কিছুই অস্পষ্ট। এতে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
শনিবার (২১ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন ২০১৬: বাণিজ্যিকীকরণ-বেসরকারীকরণ ও বহুধারার শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈধতার আইন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। বৈঠকে মতামত জানান শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
বক্তারা বলেন, গত ৩ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে শিক্ষা আইনের খসড়া উপস্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে মতামত জানানোর জন্য মাত্র সাত দিন সময় দেয়া হলো। এমন একটি আইন ভালোভাবে পড়তে বা বুঝতে বেশ সময় লাগবে। সাত দিনের মধ্যে মতামত জানানো অনেকটা কঠিন কাজ। আবার মতামত জানাতে হবে ই-মেইলের মাধ্যমে। যিনি ই-মেইল ব্যবহার করেন না তিনি কী করে তার মতামত জানাবেন? চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রণীত হচ্ছে শিক্ষা আইন ২০১৬। শিক্ষা নিয়ে আইন প্রণয়নে এই তাড়াহুড়ো ও চতুরতার অর্থ কী?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, মতামত জানানোর জন্য এক সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের জঘন্যরকম চালাকি রয়েছে। শিক্ষানীতি ২০১০ বাস্তবায়নের জন্যই শিক্ষা আইন ২০১৬ প্রণীত হচ্ছে। শিক্ষানীতি ২০১০ এবং শিক্ষা আইন ২০১৬ কোনোটিই জনগণের জন্য নয়।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষাতেই তারা শতভাগ সফল হতে পারেনি, ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত হলে কীভাবে পারবে? আমার প্রস্তাব হলো- ৮ম নয়, প্রাথমিক শিক্ষাকে ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত করা হোক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফাহমিদুল হক বলেন, শিক্ষা আইন ২০১৬ -তে বৈপরিত্বমূলক বিষয় রয়েছে। এই আইনে লক্ষ্য করেছি- শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকার কতটুকু দায়িত্ব নিবে অর্থাৎ জাতীয় বাজেটে কত শতাংশ বরাদ্দ রাখা হবে সেটি স্পষ্ট করে উল্লেখ নাই।
তিনি বলেন, শিক্ষা নিয়ে সরকারের কর্তাব্যক্তিদের গর্বের কমতি নেই। তাদের গর্ব কী- বছরের প্রথম দিন সবার হাতে বই তুলে দেই, পরীক্ষায় শতভাগ পাস, বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ রেজাল্ট অর্জন ইত্যাদি। কিন্তু শিক্ষার মান কোথায় যাচ্ছে সে বিষয়ে তো কিছু বলেন না।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক স্নেহাদ্রী চক্রবর্তী রিন্টু লিখিত বক্তব্যে বলেন, শিক্ষকের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মত মারাত্মক অপরাধের ব্যাপারে সরকারের শিক্ষা আইনে একটি শব্দও উল্লেখ নেই।
বৈঠকে আরো বক্তব্য রাখেন, আয়োজক সংগঠনের সভাপতি নাঈমা খালেদ মনিকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, বাসদের (মার্কসবাদী) সাধারণ সম্পাদক মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, শিক্ষাবার্তার সম্পাদক এএন রাশেদা, নতুন দিগন্তের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মযহারুল ইসলাম বাবলা প্রমুখ।

শিক্ষাঙ্গন এর আরো খবর