রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
logo
সেদিনই মারা গেছি, এখন একটা মৃতদেহ
প্রকাশ : ১৮ মে, ২০১৬ ২০:৩২:০০
প্রিন্টঅ-অ+
শিক্ষা ওয়েব

নারায়ণগঞ্জ: ‘আমার সম্মান কি আর আছে বাবা? আমি একজন মেন্টাল পেশেন্ট হয়ে গেছি। আমার আর লড়াই করার কোনো শক্তি নাই। আমি সেই দিনই মারা গেছি। এখন একটা মৃতদেহ আছে। সেই শ্যামল স্যার আর নেই। এখন শুধু মরার অপেক্ষা।’ আবেগে আপ্লুত এসব কথা নারায়ণগঞ্জে অপদস্থ হওয়া প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের।
বুধবার (১৮মে) সকালে গণসংহতি আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ৩ নং কেবিনে তাকে দেখতে গেলে আবেগে আপ্লুত হয়ে ওঠেন শিক্ষক।
প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি এসময় আরো বলেন, ‘এখন আর মৃত্যুকে ভয় পাই না। ওইদিন শুধু আমার কানধরে উঠবস করাটাই সবাই দেখেছে। কিন্তু কীভাবে বুকের উপর উঠে লাফালাফি করেছে, লাথি দিয়েছে, সেই মারের দৃশ্য দেখে নাই।’
এসময় প্রধান শিক্ষককে সান্ত্বনা দিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘এটা আপনার অপমান নয়। সমগ্র বাংলাদেশের অপমান। আমরা আপনার কাছে লজ্জিত। আপনি আমাদের মতো সন্তানদের মানুষ করেছেন। আজ আপনাকে লাঞ্ছিত করেছে ক্ষমতার কারণে। এতে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ লাঞ্ছিত হয়েছে। আজ সমগ্র বাংলাদেশ ও শিক্ষক জাতি আপনার পাশে আছে। অপরাধীদের বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’
এর প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি বলেন, ‘গত ৩০ বছর ধরে শিক্ষকতা করছি। অনেক কষ্ট করে স্কুলটা গড়ে তুলছি। এখন আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমার আর লড়াই করার শক্তি নাই। লজ্জায় কারো কাছে মুখ দেখাতে পারি না। যারা এতোদিন আমাকে সম্মান দেখিয়ে মাথা নত করে কথা বলতো, তারা আজ ফোন দিয়ে আমার খবর জানতে চায়, তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারি না। মেয়ের কাছে মুখ দেখাতে পারি না। এখানে যেটা আছে সেটা একটা মৃত দেহ।’
এদিকে নিরাপত্তার জন্য হাসপাতালে তার কেবিনের বাইরে দুজন পুলিশ কনস্টেবলকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবল জানান, ভর্তি হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতারা দেখা করছেন।
চিকিৎসাধীন শ্যামল কান্তি ভক্তের শারীরিক তত্ত্বাবধানে থাকা নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে সার্জারী বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. শফিউল আলম ফেরদৌস বলেন, ‘ওনার মেডিসিনের কিছু সমস্যা আছে। এছাড়া গত কয়েক দিন মানুষ এমনভাবে বিরক্ত করছে, যার ফলে সব সময় দরজা বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে। এছাড়াও তিনি ভালোভাবে ঘুমাতে পারছেন না বলে ওষুধ দেয়া হয়েছে। শরীরে ব্যথা অনুভব করছেন তিনি।’
এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছেন- এ প্রশ্নের জবাবে ডা. মো. শফিউল আলম জানান, উল্লেখিত ঘটনাটি তিনি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে না পারার কারণে মানসিক চাপে ওই ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তবে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছেন তা না। বিশ্রাম নিলেই অনেকটা তাড়াতাড়ি সুস্থ হবেন।

শিক্ষাঙ্গন এর আরো খবর