বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
logo
এটা কেমন দেশ, অদ্ভুত ব্যাপার!
প্রকাশ : ১৪ জুলাই, ২০১৫ ১৬:০০:২৯
প্রিন্টঅ-অ+
শিক্ষা ওয়েব

ঢাকা: ঢাকার ছাত্র রবিন মাহমুদ। তৃতীয় মেধাতালিকায় তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে ভোলার রেবা রহমান কলেজে। ভর্তি না হয়ে মাইগ্রেশন করার সিদ্ধান্ত নেয় সে। কিন্তু সেখানেই বিপত্তি; ভর্তির টাকা না নিয়েই কলেজ কর্তৃপক্ষ তার ভর্তি নিশ্চিত করে ফেলেছে। ভোগান্তিতে পড়ে সে রোববার এসেছিল ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে। সেখানেই এই অভিযোগ জানালো রবিন। শুধু রবিনই নয়, এ রকম আরো অনেকেই এমন অভিযোগ নিয়ে ছুটছে শিক্ষা বোর্ডের এ কক্ষে ও কক্ষে।
তৃতীয় দফা মেধাতালিকা প্রকাশ করেও ভর্তি ভোগান্তি কাটাতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তৃতীয় মেধা তালিকা প্রকাশের পর এবার নতুন করে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। অনেক নামি-দামি কলেজে আসন খালি থাকলেও শিক্ষার্থএদর মনোনয়ন দেয়া হয়নি। ফলে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির বাইরে রয়েছে এখনো প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষার্থী। এসব নিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবক আর কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এক লাখ আট হাজার ৬৩৯ শিক্ষার্থীকে মনোনীত করে গত শনিবার কলেজ ভর্তির তৃতীয় মেধা তালিকা প্রকাশ করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি। ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের হিসেবেই তৃতীয় দফায় তালিকা প্রকাশের পরেও এখনো কলেজে ভর্তির সুযোগ বঞ্চিত রয়েছে প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষার্থী।
রোববার শিক্ষা বোর্ডে অবস্থান করে দেখা যায়, হাজারো শিক্ষার্থী ভিড় করছে বোর্ডের চেয়ারম্যান, কলেজ পরিদর্শক ও উপ-কলেজ পরিদর্শকের দপ্তরে। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ করে, শিক্ষার্থী নিজে আবেদন করে ভর্তি না হলেও তাদের নাম ব্যবহার করে বোর্ডের কাছে কয়েকটি কলেজ তালিকা পাঠিয়েছে। এর ফলে ওই শিক্ষার্থীরা পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে পারছে না।
আফজাল হোসেন মুন্না নামের এক শিক্ষার্থী বলে, ‘আমি উত্তরার আমেরিকান কলেজের জন্য নির্বাচিত হলেও ভর্তির জন্য বোর্ড নির্ধারিত কোনো ফি প্রদান বা কোনো কাগজই দেইনি। কারণ এ কলেজে আমি ভর্তি হতে ইচ্ছুক নই। পরবর্তীতে আমি ড্যাফডিল কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করি। কিন্তু গত ১০ জুলাই জানতে পারি আমি টাকা না দিলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ আমার ভর্তি নিশ্চায়ন করে রেখেছে।’
ময়মনসিংহের আরাফাত রহমান বলেন, ‘আমার মেয়ে সুষ্মিতা রহমানের নামে আবেদন করা হয়েছে। অথচ আমি রিলিজ স্লিপ নিয়ে মেয়েকে ভর্তি করাতে পারছি না।’
এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু বক্কর ছিদ্দিক বাংলামেইলকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ভর্তি ফি না দিলেও তাদের সম্মতি ছাড়া অনেক কলেজ ভর্তি নিশ্চায়ন করেছে, এমন অভিযোগ আমাদের কানে এসেছে। শিক্ষার্থীরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলে ওইসব কলেজ তালিকাভূক্ত করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘টাকা, ছবি ও কাগজপত্র ছাড়া কিভাবে কলেজ শিক্ষার্থী ভর্তি করে আমার যুক্তিতে আসে না। এটা কেমন দেশ, অদ্ভুত ব্যাপার! এসব কলেজকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।’
এদিকে তৃতীয় তালিকায় কলেজভিত্তিক যেসব শিক্ষার্থীদের মনোনয়ন করা হয়েছে এদের মধ্যে অনেক কলেজে শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেয়া হচ্ছে না বলে অনেক শিক্ষার্থী ঢাকা বোর্ডে এসে অভিযোগ করেছে। ঢাকা বোর্ডে আসা মেহেদী হাসান নামের এক শিক্ষার্থী জানায়, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে (ইউল্যাব) তৃতীয় তালিকায় আমাদের ২০ জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জনের ভর্তি নিয়েছে। আসন নেই জানিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ বাকি ১৩ জনের ভর্তি নিচ্ছে না।
অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, এই কলেজে ১৪ জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২ জনকে ভর্তি করিয়ে বাকি ১২ জনকে আসন নেই বলে ভর্তি করানো হচ্ছে না। এছাড়াও আজিমপুর গালর্স স্কুল অ্যান্ড কলেজেও একই অবস্থা।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘এমন অভিযোগ এসেছে। আমি অনেক কলেজে ফোন করে দিয়েছি। তারা বলছে- ভর্তি নিয়ে নেবে। আর ইউল্যাবের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা হয়নি। তাদেরও বলে দেবো ভর্তি নিয়ে নিতে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারি কলেজের কিছু আসন বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছি। এর বাইরে এমপিওভুক্ত নামি-দাবি কিছু প্রতিষ্ঠানেও আসন বাড়িয়ে দিয়েছি। এখন তারা যদি শিক্ষার্থীদের ভর্তি না করে ভর্তিতে সঙ্কট সৃষ্টি করে তাহলে আমাদের কাছেও সেই ব্যবস্থা আছে।’
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, সারাদেশে ১১ লাখ ৫৬ হাজার ২২৪ শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত আবেদনই করেনি এক লাখ ২৬ হাজার ৬১৮ জন। আর অনলাইনে আবেদন করেও ভর্তির জন্য মনোনীত হয়নি আরো এক লাখ শিক্ষার্থী। প্রথম দফায় ৯ লাখ ২৩ হাজার ১০৫ জন, দ্বিতীয় দফায় ১৭ হাজার ৬৪৭ এবং তৃতীয় দফায় ১ লাখ ৮ হাজার ৬৪৩ জনকে বিভিন্ন কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়। তিন দফায় কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়নপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৩৯৫ জন।
ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত নয় লাখ ৪৬ হাজার শিক্ষার্থী তাদের ভর্তি সম্পন্ন করেছে। এ হিসাবেই এখনো কলেজে ভর্তি হতে পারেনি সোয়া দুই লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী।
 

শিক্ষাঙ্গন এর আরো খবর