মঙ্গলবার, ২৬ জুন ২০১৮
logo
মেহেরপুরে পশুর হাট জমে উঠেছে
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট, ২০১৭ ১২:৪৬:২২
প্রিন্টঅ-অ+
কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে মেহেরপুরের পশুর হাট জমে উটেছে। ঈদ যত এগিয়ে আসছে গরু ছাগলের আমদানি ও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা বিক্রেতাদের ভিড়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঈদের আর মাত্র তিন দিন বাকী তাই সামর্থ্য অনুযায়ী কোরবাণির পশু কেনার জন্য বিভিন্ন হাটে ছুটে বেড়াচ্ছেন ক্রেতারা । আর কাঙ্খিত দাম পাওয়ার আশায় বিক্রেতারাও গরু ছাগল নিয়ে ছুটছেন পশুর হাটে হাটে। ফলে পশুর হাটগুলো জমজমাট হয়ে উঠছে।
গত কয়েক দিনে উপজেলার পশু হাটগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, হাটগুলো গরু ছাগলে ভরা। সারি বদ্ধভাবে সাজানো এসব গরু ছাগল দেখে চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে। জেলা সদরে পৌর পশু হাট, বারাদি পশুহাট ও গাংনী উপজেলার বামুন্দি পশু হাট সবচেয়ে বড় হাট। এই তিনটি হাটে ক্রেতা বিক্রেতাদের ভিড় ও বেশি। পশুর হাটগুলোতে এবার বড় গরুর চেয়ে মাঝারি ও ছোট গরু বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে বাহিরের ক্রেতাদের বড় গরু ক্রয় করতে দেখা যাচ্ছে বেশি। স্থানীয় ক্রেতাদের মাঝে গরুর চেয়ে ছাগলের চাহিদা একটু বেশি। তবে বাইরের ক্রেতাদের গরুর চাহিদাই বেশি দেখা যাচ্ছে। হাটগুলোতে এবার দেশীয় গরুই দেখা যাচ্ছে। প্রতি বছর ভারতীয় গরু দেখা গেলেও এবছর ভারতীয় গরু দেখা যাচ্ছে না। 
বামুন্দি পশু হাটের ইজারা কমিটির এক সদস্য জানান, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে গরু ছাগল বিক্রেতা ও ক্রেতাদের জন্য টাকা লেনদেনসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। হাটে রাতে ও যাতে কোরবাণির পশু বেচাকেনা চলে এজন্য আলো ও গরু রাখার ব্যবস্থাসহ স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া ক্রেতাদের সুবিধার্থে হাটের বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প চালু করা হয়েছে।
মেহেরপুর পৌর পশুহাটের গরু বিক্রেতা হামিদুল জানান, তিনি তার বাড়িতে দেশীয় জাতের তিনটি গরু মোটা তাজা করেন। ১টি গরু তিনি ১ লাখ ২২ হাজার টাকায় বিকি করেছেন। বাকি ২টা গরু তিনি ১লাখ ২০- ১লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পরবেন বলে আশা করছেন। আরেক বিক্রেতা সবুর আলী জানান, তিনি সাড়ে তিনমণ মাংস হবে এমন ওজনের একটি গরু ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। 
ঢাকা থেকে মেহেরপুর পশুহাটে গরু কিনতে আসা ব্যাপারি রফিকুল আলম জানান, পথে পথে চাঁদা দিতে হয়। এজন্য পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। মেহেরপুর পশুহাটে চাঁদাবাজি না থাকায় এখানে স্বাচ্ছন্দে কেনা বেচা করা যায়। সে জন্য তিনি প্রতি বছর ঈদে মেহেরপুরে গরু ছাগল কেনা বেচা করেন। 
হাটে আসা ক্রেতারা জানান, হাটগুলোতে কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সরকারিভবে চিকিৎসকের ব্যবস্থা আছে। ফলে ক্রেতারা কোরবানির জন্য পশু ক্রয়ে শংকায় পড়ছেন না। 
প্রাণি সম্পদ বিভাগের শশাংক কুমার জানান, মেহেরপুর জেলায় এবার ছোট বড় মিলে ২৮ হাজার ৫৩০টি পশু খামার গড়ে উঠেছে। এসব খামারে ২৬ হাজার ১২৪টি গরু ও ৫৩ হাজার ৩৮৮টি ছাগল কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জেলা প্রাণি সম্পদ অফিসের হিসেব মতে ৬১ কোটি টাকার ছাগল ও ৫৩ কোটি টাকার গরু বিক্রি হবে । যার ফলে জেলায় এবার বাইরে থেকে গরু আমদানির প্রয়োজন পড়ছে না। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব গরু বিক্রি করতে যাচ্ছে খামারিরা।

জেলা এর আরো খবর