বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮
logo
জয়পুরহাটের কামাররা হাসুয়া, দা, বটি, ছুরি, চাকু তৈরিতে ব্যস্ত
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট, ২০১৭ ১২:৪৩:৩৬
প্রিন্টঅ-অ+
মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-আজহা উদযাপন হবে আগামী শনিবার। কোরবানির পশু কেনার সঙ্গে চলে ছুরি, চাকু দা, বটি , হাসুয়া কেনার পালা। তাই শেষ সময়ে দা, বটি, ছুরি, চাকু তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন জয়পুরহাটের কামাররা।
কোরবানির পশু জবাই ও মাংস টুকরা করার জন্য এসব অস্ত্র প্রতিটি পরিবারে প্রয়োজন হয়। বছরের অন্যান্য সময় এ অস্ত্র গুলোর তেমন ব্যবহার না থাকায় অধিকাংশেই মরিচা ধরে পড়ে থাকে। কোরবানির সময় এলেই নতুন অস্ত্র তৈরির পাশাপাশি অনেকেই পুরানো গুলো শান দিয়ে প্রস্তুত করেন। ফলে কাজের ধুম পড়ে যায় কামারদের দোকানে । বর্তমানে দিনরাত কাজ করছেন শ্রমিকরা। 
কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোরবানির ঈদের সময় দা, বটি , চাকু, ছুরি, হাসুয়া তৈরিতে ব্যস্ততা বেড়ে গেলেও সারা বছর তেমন কাজ না থাকায় এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় গেছেন অনেকেই। এ শিল্পের প্রধান উপকরণ লোহা, ইস্পাত ও কয়লার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থ সংকটে পড়ে এ পেশা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে কামারদের। আগে ৪০/৫০ টাকায় এক বস্তা কয়লা পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা দুই থেকে আড়াই’শ টাকা হয়েছে। 
জেলা শহরের নতুনহাট সড়কের কামার প্রদীপ কর্মকার জানান, কোরবানির ঈদের সময় আমাদের কাজ বেড়ে গেলেও বেচা-কেনা নেই। বছরের অন্য সময় গুলোতে কাজ খুবই কম থাকে। শান দেয়ার জন্য পড়ছে প্রকার ভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। দা, বটি, ছুরি, চাকু ও হাসুয়া প্রকার ভেদে ১০০ থেকে ৩৫০ পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়। লোহার দাম কিছুটা কম হলেও কয়লার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খুব সীমিত লাভে এ গুলো বিক্রি করতে হয়। ফলে শুধু কোরবানির ঈদের বেচা-কেনা করে এ ব্যবসা টিকে রাখা কঠিন বলে জানান কামার সন্তোষ মহন্ত। অন্যান্য বারের তুলনায় এবার বেচা-কেনা কম বলে জানালেন কামার সুদেব কর্মকার। মাংস কাটার জন্য ছুরি কিনতে আসা বুলুপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম জানান, ৫০ হাজার টাকায় গরু কিনে জবাই করার জন্য ছুরি কিনতে এসেছি। বাজারে মাংস কাটার কাঠের গুড়িও বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। 

জেলা এর আরো খবর