বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯
logo
মানিকগঞ্জে চাষ হচ্ছে জারবেরা ফুল
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর, ২০১৬ ১৩:৫৬:৩৮
প্রিন্টঅ-অ+
জেলা ওয়েব
মানিকগঞ্জ: ভারত ও নেদারল্যান্ডের বিখ্যাত জারবেরা ফুলের চাষ হচ্ছে মানিকগঞ্জে। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা এই ফুল রাজধানীর বিভিন্ন ফুলের দোকানে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। গন্ধহীন হলেও এই ফুলের নান্দনিক সৌন্দর্যে অভিভূত ফুল প্রেমিকরা ।

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া ঘাট সংলগ্ন ধুতরাবাড়ি এলাকায় ২০১২ সালে পাঁচ একর জমির উপর প্রকৌশলী আফতাব উদ্দিন খান প্রদর্শনী প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেন স্প্রেক্টা ফ্লাওয়ার গার্ডেন। শুরুতে এই বাগানে নানা বৃক্ষরাজি,ফুল ফলের গাছ আবাদ করা হয়। এক বছর পর ভারত ও নেদারল্যান্ডের বিখ্যাত জারবেরা ফুলের চাষ শুরু হয় এই বাগানে। প্রথমে এক বিঘা জমিতে গ্রিন হাউজ তৈরি করে ফুলের চারা রোপন, সার কীটনাশক প্রয়োগ ও শ্রমিক খরচ মিলে এই বাগানে খরচ হয় পনের লক্ষ টাকা।

বর্তমানে ওই বাগানে আড়াই বিঘা জমিতে জারবেরা ফুলের চাষ হচ্ছে। প্রতিদিন এই বাগান থেকে দুই হাজার ফুল বিক্রয় জন্য রাজধানীর বিভিন্ন ফুল মার্কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ফুল বিক্রয় হচ্ছে দশ টাকা থেকে বারো টাকা দামে। বিয়ে, জন্ম দিন, বসন্ত উৎসব, পহেলা বৈশাখ, থার্টি ফার্স্ট নাইট, বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও বড়দিনে এই ফুলের চাহিদা বেড়ে যায় এসময় প্রতি পিস ফুল বিক্রয় হয় ১৪ টাকা থেকে ১৫ টাকা দামে। অন্যান্য সময় ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা দামে জারবেরা ফুল বিক্রয় হয়। শীত মৌসুম এই ফুলের অনুকূল সময়। এই ফুলের  প্রধান শত্রু বৃষ্টি। সপ্তাহে চারদিন এই বাগান থেকে ফুল তোলা হয়।

বাগানের মালি শান্তু বেপারি বলেন, এ বাগানে হলুদ, সাদা, কমলা আর গোলাপী- এই চার রঙের এগারো প্রজাতির জারবেরা ফুল রয়েছে। এর মধ্যে ব্যালাঞ্চ ,ইনট্রান্স, ডেনা, ইলেন, গোল্ড স্মিথ, রোজালিন, ফিরজা, কুল্ড, রিয়েল,ডুনি, আটিস্ট, অ্যাডেন চুড়া উল্লেখযোগ্য। বাগানে আব্দুল মালেক , রেজাউল, চাদু, ছবদারসহ চারজন কর্মচারী রয়েছেন। ঢাকায় এ ফুলের পাইকার বাজার   রয়েছে। প্রতিদিন বাগান থেকে ফুল তুলে তা র‌্যাপিং করে বাস্কেটবন্দী করে পাইকারদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।

গার্ডেন ইনচার্জ মো. আমিরুজ্জামান চৌধুরী  জানান, জারবেরা ফুল চাষ করতে প্রথমে গ্রিন হাউজ করতে  হয়। এরপর জৈব ও রাসায়নিক সার দ্বারা মাটি প্রস্তুত, ফুলের চারা রোপন, তা পরিচর্যা করতে হয়। জারবেরা ফুলের চারা রোপনের দুই তিনমাসের মধ্যে ফুল পাওয়া যায়। একাধারে তিন বছর পর্যন্ত ওই গাছে ফুল ধরে। তিনি জানান, নেদারল্যান্ডের বিখ্যাত ফুল কোম্পানি ফ্লোরিস্ট ও ভারতের এ কুমার যৌথভাবে কে এফ বায়ুপ্ল্যান্ট নামের টিস্যু কালচার জারবেরা ফুলের উৎপাদন করে। মূলত তাদের কাছ থেকে  চারা এনে এই ফুলের বাগান করা হয়েছে। প্রতিদিন এই বাগান দেখতে ভিড় করছে অনেকে।

মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক আলিমুজ্জামান মিয়া জানান,  মানিকগঞ্জে জারবেরা ফুল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে অনেকে। জারবেরা ফুল চাষে মূলধন বেশি লাগে। এই ফুল চাষে আগ্রহীদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হবে।
 

জেলা এর আরো খবর