বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯
logo
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০১৬ ১০:৩৯:৩৭
প্রিন্টঅ-অ+
জেলা ওয়েব
ফরিদপুর: দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশ দ্বার ফরিদপুর। ২১ জেলায় যাতায়াতের অন্যতম মহাসড়ক ফরিদপুরের এন-৭ এর ৩২ কিলো মিটার অংশ জরাজীর্ণ দশা দীর্ঘদিনের। বর্তমানে সড়কটি সংস্কার কাজ চলছে জোরে সরে।

তবে ফরিদপুর অংশের সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংস্কার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের পাথর, বালু ও বিটুমিন। বিশেষ করে মহাসড়কের ৪ কিলোমিটার ৩শ মিটার সংস্কার কাজ বেজ টাইপ-১ করার কথা থাকলেও, তা না করেই পুরাতন ড্যাম কার্পেটিং এর উপর দিয়ে কার্পেটিং করা হচ্ছে।


আবার কোনো কোনো স্থানে পুরাতন রাস্তার উপর দিয়ে শুধুমাত্র সিলকোট করে লোপাট করা হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ সকল অনিয়ম করছে খোদ ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকতাদের জোগসাজসে।

জানা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড় হতে কামারখালী বাজার পর্যন্ত ৩২ কিলো মিটার সড়কের সংস্কার কাজ চলছে। দুইটি গ্রুপে ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। প্রথম গ্রুপে ২৫ কোটি টাকা ব্যায়ে ২০ কিলোমিটার (২৯ কিলোমিটার থেকে ৪৯ কিলোমিটার) এবং দ্বিতীয় গ্রুপে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ কিলোমিটার (৫০ কিলোমিটার থেকে ৬১ কিলোমিটার)। সংস্কার কাজ করছেন যশোরের মাইনুদ্দিন বাশী নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

সূত্র জানায়, ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২ কিলোমিটার সংস্কার কাজের মধ্যে ৪ কিলো মিটার ৩শ মিটার সড়কের কাজ বেজ টাইপ-১ করার কথা। ৩৭ কোটি টাকার মধ্যে বেজ টাইপ-১ কাজ করার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। সড়কের পুরানো কার্পেটিং উঠিয়ে নতুন বেজ করে কার্পেটিং করে সিলকোট করার কথা। কিন্তু তা না করেই পুরাতন রাস্তার উপর দিয়ে কার্পেটিং করে কয়েক কোটি টাকা লোপাট করেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাইনুদ্দিন বাশী ও ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম।

অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় স্বজনরা এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করছেন। সংস্কার কাজে কর্মরত অধিকাংশ জনবলই নির্বাহী প্রকৌশলীর শ্বশুরবাড়ি ও নিজ এলাকার।

সরেজমিনে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাঝকান্দি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের খানাখন্দ জায়গায় ডেম কার্পেটিং না উঠিয়েই তার উপর দিয়েই কার্পেটিং করা হচ্ছে। আবার কোনো কোনো স্থানে পুরানো রাস্তার উপর দিয়েই সিলকোট করা হচ্ছে। ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের বিটুমিন ও পাথর। পাথরের ডাস্টের পরিবর্তে সিলেট বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। সংস্কার কাজের সময় কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি।

সংস্কার কাজে নিয়োজিত থাকা এক শ্রমিক জানায়, সে দীর্ঘদিন যাবৎ মাইনুদ্দিন বাশী কন্সট্রাকশনে কর্মরত রয়েছে। এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সব জায়গাতেই নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করে কাজ করে থাকেন। নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সড়ক ও জনপথ কর্মকর্তাদের হাত রয়েছে বলে সে জানায়।

বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, সংস্কার কাজে এক নম্বর পাকুর পাথর ব্যবহারের কথা থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে দুই নম্বর পাকুর পাথর। বিপিসি ৬০-৭০ বিটুমিন ব্যবহারের কথা থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইরানী বিটুমিন। নিম্নমানের ইরানী বিটুমিন ব্যবহার করায় বর্ষা মৌসুম আসার আগেই মহাসড়কের অবস্থা আবার খানাখন্দে ভরে যাবে। মহাসড়কটির সংস্কারকৃত ৩২ কিলোমিটারের মধ্যে ৩০ কিলোমিটার ৭.৩ মিটার এবং ২ কিলোমিটার ৯.৭ প্রশস্ত করার কথা থাকলেও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রশস্ত কম লক্ষ্য করা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ খানাখন্দে ভরা ছিল এই মহাসড়কটি। সরকার সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দ দিয়েছে ৩৭ কোটি টাকা। সংস্কার কাজ যেভাবে হচ্ছে তাতে দুই এক মাসের মধ্যে পূনরায় খানাখন্দে পরিণত হবে মহাসড়কটি। নিন্মমানের মালামাল দিয়ে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। এলাকাবাসী নিম্নমানের কাজে বাধা দিতে গেলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন ভয়ভীতি দেখানোয় কেউই আর সাহস পায়নি কথা বলার। তিনি এবিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



স্থানীয় ব্যবসায়ী আশরাফ আলম বলেন, এর আগে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়কের খানাখন্দ সংস্কার করা হয়। কিন্তু নিম্নমানের কাজ করায় এক মাসের মধ্যেই তা আগের অবস্থায় ফিরে যায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা বৃষ্টির মধ্যে নামমাত্র কাজ করে সব টাকাই লোপাট করে দেয়।

ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম বা নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করা হচ্ছে না। যারা এ সকল অভিযোগ করেছেন তা সঠিক নয়।

এদিকে ঠিকাদার মাইনুদ্দিন বাশীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে না পেয়ে মাইনুদ্দিন বাশী কন্সট্রাকশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সৈয়দ ইমতিয়াজ হোসেন রতন বলেন, সড়কটা দীর্ঘদিন যাতে টিকে থাকে আমরা সে লক্ষে কাজ করছি। নিয়মের বাইরে কোনো কাজ হচ্ছে না।

জেলা এর আরো খবর