মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯
logo
মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের জন্য ত্রাণের দাবি
প্রকাশ : ১২ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:২৪:২৮
প্রিন্টঅ-অ+
জেলা ওয়েব

ভোলা: ১২ অক্টোবর থেকে ২নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য ভোলার উপকূলীয় অঞ্চলে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ডিমওয়ালা ইলিশ (মা ইলিশ) মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওই সময় যে সব জেলেরা বেকার জীবনযাপন করবেন তাদের জন্য ত্রাণ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেনে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা। প্রতিবছর মার্চ-এপ্রিল দুই মাস নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ ধরার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করে থাকে মৎস্য বিভাগ।
এ কারণে অবশ্য সরকার জেলেদের জন্য ভিজিএফের চাল বরাদ্ধ দিয়ে থাকে। যদিও প্রকৃত জেলেরা সরকারের বরাদ্দকৃত ওই চাল পান না বলে হাজারো অভিযোগ রয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে এসব চাল ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী, চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ এলাকার কিছু টাউট-বাটপাররা ভাগ-বাটোয়ারা করে খেয়ে থাকে। আর মৎস্য অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজসে এসব দুর্নীতি ও অনিয়ম করা হচ্ছে।
এর মধ্যে ভোলা সদর উপজেলায় রয়েছে ১৫ হাজার জেলে। এর মধ্যে তালিকাভূক্ত অনেক জেলের নামে সরকারের চাল বরাদ্ধ আসে না। তবে ওই সব জেলের মধ্যেও অনেক জেলে বরাদ্ধকৃত ভিজিএফের চাল পান না।এ বিষয়ে সরজমিনে ভোলা সদর উপজেলার মেঘনার পারে বেশ কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা হয়।
এ সময় উত্তর ইলিশা ইউনিয়নের কালুপুর গ্রামের বাসিন্দা জেলে জয়নাল আবেদীন (৫৫) বলেন, আমি বছরে ১২ মাস নদীতে মাছ শিকার করছি। প্রায় ১৯ বছর ধরে মাছ ধরছি।
তিনি আরো বলেন, মা ইলিশ রক্ষা ও জাটকা নিধনসহ সরকারের বিভিন্ন অভিযান এলেই আমরা মাছ শিকার বন্ধ করে দেই। শুনেছি জাটকা নিধন অভিযানে জেলেদের জন্য সরকার প্রতি বছর চাউল বরাদ্ধ দেয়। কিন্তু আমরা কোন বরাদ্ধ পাই না। গত বছরও কোন চাউল পাইনি। গত ১৯ বছরে এ পর্যন্ত সরকারের বরাদ্ধকৃত কোন চাউল পাইনি।
একই গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে মিলন (৩৫) ও ইউছুফ আলী সরদার (৩৮) বলেন, আমরা প্রায় ১৫ বছর ধরে নদীতে মাছ ধরছি। কিন্তু সরকারের বরাদ্ধকৃত ভিজিএফ কোন চাউল কিংবা ত্রাণ পাইনি। তারা আরো বলেন, সব চাউল এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বার, ক্ষতাসীন দলের নেতা-কর্মী ও এলাকার টাউট-বাটপাররা খাইয়া হালায়। তারা আগামীতে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের জন্য সরকারি বরাদ্দের দাবি জানান।

জেলা এর আরো খবর