রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
আমরা অন্ধকারে ছিলাম, এখন আলোতে
প্রকাশ : ৩১ জুলাই, ২০১৬ ১৭:১৫:২১
প্রিন্টঅ-অ+
জেলা ওয়েব

ঢাকা: বাংলাদেশের সঙ্গে একীভূত হওয়া সাবেক ছিটমহলের মানুষ বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে নানা আয়োজন করেছে।
তারা বলছে ৬৮ বছর পর বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হতে পারার দিনটিই তাদের কাছে স্বাধীনতা দিবস।
কুড়িগ্রামের দাশিয়ারছড়া সাবেক ছিটমহলটি এখন কুড়িগ্রামের তিনটি উপজেলার মধ্যে পড়েছে।
ঠিক এক বছর আগে ২০১৫ সালে ৩১ জুলাই মধ্যরাতে এই দাশিয়ারছড়া আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয় বাংলাদেশের সঙ্গে।
দাশিয়ারছড়ার মতো আরো ১১১টি ছিটমহল হয়ে যায় বাংলাদেশের অংশ।
তাই সেই দিনটিকে স্মরণ করার জন্য এখানকার মানুষদের রয়েছে নানা আয়োজন।
গতবারের মতো রাত ১২টা এক মিনিটে ৬৮টি মোমবাতি জ্বালাবে তারা। তবে সেবারে মোমবাতি জ্বালানো হয়েছিল অন্ধকারের মধ্যে।
আর এবারে আগে থেকেই মশাল দিয়ে আলোকিত করে তারপর মোমবাতি জ্বালানো হবে।
এর অর্থ আমার কাছে ব্যাখ্যা করছিলেন নূর আলম।
তিনি বলছিলেন, “তখন আমরা অন্ধকারে ছিলাম, আর এখন আমরা আলোতে আছি। তাই আলোর মাঝেই মোমবাতি জ্বালাবো।”
তিনি নিজেকে “বাংলাদেশ ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির” সহ-সভাপতি হিসেবে নিজের পরিচয় দিচ্ছিলেন।
জানতে চেয়েছিলাম ছিটমহলতো এখন নেই তবে কেন কমিটি কেনই বা এই পদ?
নূর আলম বলছিলেন “এই দিনটি যাতে প্রতিবছর পালন করতে পারি সেজন্য কমিটির দরকার, এছাড়া এখানকার মানুষের নানা দাবি-দাওয়াও প্রশাসনের কাছে আমরা নিতে পারবো।”
দিনের শুরুতে অর্থাৎ পহেলা আগস্ট সকালে পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত গাওয়া হবে।
কালিরহাট নিম্ন বালিকা বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হাবিবুর রহমান যিনি নিজে অনুষ্ঠানের একজন আয়োজক, তিনি বলছিলেন, “সকালে দোয়া-মাহফিল, আলোচনা-সভা শেষে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হবে সেখানে। আর বিকেলের দিকে নৌকা বাইচ, লাঠি খেলাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক খেলার আয়োজন করা হবে।”
রহমান বলছিলেন “এই দিনটাই আমাদের কাছে স্বাধীনতা দিবস, তাই পালন করার চেষ্টা করবো নিজেদের মত করে।”
তবে অনুষ্ঠান আয়োজকদের এতসব আয়োজনের প্রস্তুতির কোন কিছুই নজরে পড়েনি আমার।
গত বছর এই দিনে দাশিয়ারছড়াতে ঢুকতেই যে কালিরহাট মন্দির বাজার সেখানে দেখেছিলাম সাজ সাজ রব।
চারদিকে গান-বাজনা, সামিয়ানা টাঙ্গানো,মঞ্চ সাজানো শুরু হয়েছিল একদিন আগে থেকেই।
তবে রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সেখানে কোনো আয়োজন লক্ষ্য করা যায়নি।
গ্রামের ভিতরে বাড়ি বাড়ি যেয়ে জানতে পারলাম এটা গুটিকয়েকজন মিলে দিনটাকে স্মরণ করার চেষ্টা করছে মাত্র।
তবে বৃষ্টি আর বন্যার কারণে সবার মনে তেমন একটা উৎসাহ নেই। -বিবিসি

জেলা এর আরো খবর