শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯
logo
এমপির বাসায় নিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
প্রকাশ : ১৯ জুলাই, ২০১৬ ২২:১২:৪১
প্রিন্টঅ-অ+
জেলা ওয়েব

কুষ্টিয়া: জেলার কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চোর সন্দেহে হাসান (২৩) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এমপির ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার লাশ উপজেলার তারাগুনিয়া ডাক বাংলো চত্বরে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। দৌলতপুর থানা পুলিশ পরে লাশ উদ্ধার করে।
হাসান উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের সোনাইকুন্ডি পশ্চিমপাড়া গ্রামের আবুল কাসেম ছেলে।  
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, সকাল ৯টার দিকে চুরির অভিযোগে হাসানকে ধরে নিয়ে যান কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরী। তার বাড়ির সামনেই ছোট ভাই মিন্টু চৌধুরী ও তার লোকজন হাসানকে বেধড়ক মারপিট করে। একপর্যায়ে পুলিশ ডেকে তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়।
সকাল ১০টার দিকে দৌলতপুর থানা পুলিশ তাকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে ভর্তি না করে ফেরত পাঠান। পুলিশ তখন তাকে একটি ভ্যানে করে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
কিন্তু স্থানীয়রা তারাগুনিয়া ডাক বাংলো চত্বরে হাসানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে।
তারাগুনিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বেলা ৩টার দিকে একটি ভ্যান তাকে ডাক বাংলো চত্বরে ফেলে যায়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পায়ে ব্যান্ডেজ ছিল। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে লাশ উদ্ধার করে।
 
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, হাসান মাদক সেবন ও চুরি করতো। সকালে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে সাংসদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মারপিট করে। পরে এমপির ভাই মিন্টু চৌধুরী হাসানকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। আহত অবস্থায় তাকে পুলিশের পিকআপ ভ্যানে করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠালে ডাক্তাররা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠায়।
ওসি আরো বলেন, হাসানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকায় স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়। তবে তাকে উন্নত চিকিৎসা না দিয়ে কার নির্দেশে থানা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরের তারাগুনিয়া ডাকবাংলো চত্বরে রেখে আসা হয় সে ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানান তিনি।
এদিকে, সাংদের ভাই মিন্টু চৌধুরী হাসানকে পেটানোর কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘স্থানীয়রা তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে আমার বাড়ির সামনে নিয়ে এসে। পরে আমি তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেই। আমি কোনো ধরনের মারধর করিনি।’
এ ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছ। তারা বলেন, কোন ব্যক্তি অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী তার সাজা হবে। তাই বলে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে যাওয়া ঠিক না।

জেলা এর আরো খবর