বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯
logo
বিপদসীমার ওপরে ব্রহ্মপুত্রের পানি
পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ
প্রকাশ : ১৯ জুলাই, ২০১৬ ১৬:৪২:১৯
প্রিন্টঅ-অ+
জেলা ওয়েব

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় দ্বিতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
দ্বিতীয় দফা বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী, রাজীবপুর ও সদর উপজেলার শতাধিক চর ও দ্বীপ চরের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। বন্যার্ত এলাকায় রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পানিতে ডুবে গেছে পাট, সবজি, কলাসহ আমন বীজতলা। এসব এলাকার বেশিরভাগ নলকুপ পানিতে তলিয়ে থাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। চারণভুমি তলিয়ে থাকায় গবাদি পশু নিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে বন্যা কবলিতরা।
এদিকে নদ-নদী তীরবর্তী চর ও দ্বীপচরের মানুষজন দ্বিতীয় দফা বন্যার কবলে পড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ সহায়তা পায়নি।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বলদিয়া গ্রামের মফিজন বেওয়া জানান, বাড়ির চারদিকে পানি উঠেছে। ঘরের ভিতর পানি ঢুকতেছে। কোথাও বের হওয়া যায় না ছেলে-মেয়ে গরু-ছাগল নিয়ে বিপদে আছি।
গত বন্যায় কোনো সাহায্য পাই নাই। এবারো কেউ খোঁজ নিতে আসে নাই।
উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের ওসমান আলী জানান, নদীর পানি যেভাবে বাড়তেছে তাতে মনে হয় আর বাড়িতে থাকা সম্ভব হবে না। ছেলে-মেয়ে গরু-ছাগল নিয়ে উঁচু কোনো জায়গায় যেতে হবে।
এ ব্যাপারে যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারো যাত্রাপুর ইউনিয়নের প্রায় ৯টি ওয়ার্ডই বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।
ইউনিয়নের প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি জীবন-যাপন করছে। পানি যেভাবে বাড়তেছে তাতে গত বন্যার চেয়ে আরো বড় বন্যার আশংকা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় দফা বন্যায় মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়লেও সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার কোনো উদ্যোগ নেই। আমি আশা করি সরকার যত দ্রুত সম্ভব বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াবে।
জেলা প্রশাসনের ত্রাণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ১শ মেট্রিক টন চাউল ও ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যা বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে বিতরণ করা হবে।
 
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলামারী পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ৫৬ সেন্টিমিটার, তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার, দুধকুমোরের পানি নুন খাওয়া পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
 

জেলা এর আরো খবর