বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০
logo
গাজীপুরে আ.লীগ নেতাসহ জোড়াখুনে গ্রেপ্তার ৫
প্রকাশ : ২৮ জুন, ২০১৬ ১৩:০৭:৫১
প্রিন্টঅ-অ+
জেলা ওয়েব

ঢাকা: টঙ্গীর এরশাদনগর মোল্লাপাড়ায় সহযোগীসহ আওয়ামী লীগ নেতা শরীফ হত্যায় জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে আটক করেছে র‌্যাব-১। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রামদা ও চাপাতি উদ্ধার হয়।
সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত সাভার ও টঙ্গীতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে জানান র‌্যাব-১-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আক্রাম হোসেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-টঙ্গীর এরশাদ নগর এলাকার বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান কামু, মো. মোবারক হোসেন, সাগর, নাজমুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলী।
র‌্যাব কর্মকর্তা আক্রাম হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের ডোবর পলাশবাড়ি এলাকার একটি মেস থেকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী কামরুজ্জামান কামুকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক মেসের আশপাশ থেকে মোবারক, সাগর, নাজমুল ও আলীকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হত্যাকাণ্ডের সরাসরি অংশ নিয়েছিল। এছাড়া একই রাতে আটককৃতদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক টঙ্গীর এরশাদ নগর থেকে তিনটি সামুরাই ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
টঙ্গী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এর আগে এ ঘটনায় ১১ জন আটক হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। গ্রেপ্তার কামুর নামের হত্যা-চাঁদাবাজিসহ ২৬টি মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলায় তার ৩৪ বছরের কারাদণ্ডাদেশ হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ মে রোববার সকাল ৭টার দিকে টঙ্গীর এরশাদ নগর এলাকার নিম্নাঞ্চলে একটি বিলের পাড়ে শরীফ ও রাস্তার ওপর জুম্মনের মরদেহ পড়ে দেখে স্থানীয় পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত শরীফের ঘাড়ে এবং জুম্মনের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। সে সময় ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, স্ক্রু ড্রাইভারসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে এ ঘটনায় ওই দিন রাতে টঙ্গী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত শরীফের মা মোছা. ইয়ানুর বেগম। মামলায়  বিএনপি নেতা কামরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়। এরপর এ  মামলার এজাহারভুক্ত কসাই সুমনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর এ ঘটনায় র‌্যাব-১ এর একটি দল ঘটনার মূলহোতা বিএনপি কামরুল ইসলাম কামুসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। মূলত মাদকের টাকা ভাগাভাগি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

জেলা এর আরো খবর