শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০
logo
আড়াইমাস পর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট
প্রকাশ : ১২ জুন, ২০১৬ ১৪:০৭:২৮
প্রিন্টঅ-অ+
জেলা ওয়েব

কুমিল্লা : জেলার ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) জমা দিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। আদালতের নির্দেশে কবর থেকে তুলে দ্বিতীয়দফা ময়নাতদন্তের আড়াইমাস পর এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করলো মেডিকেল বোর্ড।
রোববার তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনটি নিয়ে সিআইডি কার্যালয়ে যান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অফিস সহকারী ফারুক এবং ডোম মাহে আলম।
বেলা পৌনে ১১টার দিকে সিআইডির এএসআই মোশারফ হোসেন প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন। তবে প্রতিবেদনে কি বলা হয়েছে তা জানাতে পারেননি এএসআই মোশারফ হোসেন।
অন্যদিকে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরত থাকায় প্রতিবেদন নিয়ে সংবাদকর্মিদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন নি।
গত ৭ জুন তনুর ডিএনএ পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী মেডিকেল বোর্ডের হাতে পৌঁছায় সিআইডি।
একটি সূত্র জানিয়েছে,  তনুর দাঁত ও লালা পরীক্ষায় ডিএনএ পাওয়া যায়নি। তবে তার ব্যবহৃত কাপড়-চোপড়ে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়া যায়। সেই শুক্রানু থেকে তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রোফাইলও পাওয়া গেছে।
গত মঙ্গলবার ( ৭ জুন)দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে প্রতিবেদনটি নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে যান পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। সিআইডি’র দুই সদস্য হলেন এএসআই মোশারফ হোসেন ও কনস্টেবল শাহ আলম।
ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অফিস সহকারী ফারুক সিআইডি প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রতিবেদনটি দুপুর সাড়ে ১২টায় গ্রহণ করেন। এসময় ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা ও ডা. শারমিন সুলতানা শাম্মী উপস্থিত ছিলেন।
গত ৬ জুন রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ থেকে ওই প্রতিবেদন কুমিল্লায় পাঠানো হয়। ডিএনএর পুরো প্রতিবেদন দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী মেডিকেল বোর্ডকে দেয়ার জন্য ৫ জুন রোববার সিআইডিকে আদেশ দেন কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ জুন কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জয়নাব বেগম এ আদেশ দেন।
ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ডিএনএর সাতটি পরীক্ষার প্রতিবেদন মেডিকেল বোর্ডকে দেয়ার কথা সিআইডি’র। গত ২৯ মে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুস্তাইন বিল্লা নিহত তনুর দাঁত ও সোয়াবের (লালা) ডিএনএ প্রতিবেদন চিকিৎসকদের সরবরাহ করা নির্দেশ নিয়েছিলেন।
আদালতের নির্দেশে গত ৩০ মার্চ কবর থেকে তনুর মরদেহ উত্তোলন করে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করা হয় এবং আদালতের নির্দেশেই তনুর পরিহিত কাপড়চোপড়সহ ৭টি বিষয়ের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা বাদল বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আদালত সবগুলো ডিএনএ প্রতিবেদন সরবরাহের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
সিআইডি সূত্র জানায়, সিআইডির ডিএনএ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম আদালতে এ আবেদন জানান।
সূত্র জানায়, তনুর বিভিন্ন বিষয়ের ওপর যে ডিএনএ প্রতিবেদন তৈরি করা হয় সেগুলো থেকে দাঁত ও সোয়াবের (লালা) ডিএনএ প্রতিবেদন দেয়া কষ্টসাধ্য। একটির প্রতিবেদন আরেকটির সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার কারণে সবগুলো বিষয়ের উপর ডিএনএ প্রতিবেদন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে দেয়ার আবেদন জানানো হয়। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে।
প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে কলেজছাত্রী তনুর মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন ২১ মার্চ লাশের প্রথম ময়নাতদন্ত হয়। এতে মৃত্যুর কারণ ও ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদন দেয়া হয়। পরে ৩০ মার্চ আদালতের আদেশে তনুর লাশ কবর থেকে তোলা হয়। ওইদিনই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের গঠিত বোর্ড দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করে। সেই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এখনো প্রকাশের অপেক্ষায়।

জেলা এর আরো খবর