সোমবার, ০১ জুন ২০২০
logo
রোয়ানুর তাণ্ডবে দক্ষিণাঞ্চলে গোখাদ্য সঙ্কট
প্রকাশ : ০৩ জুন, ২০১৬ ১৯:৫৬:১০
প্রিন্টঅ-অ+
জেলা ওয়েব

পটুয়াখালী: ঘূর্ণিঝর রোয়ানুর তাণ্ডবের পরে গোখাদ্য সঙ্কটে পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের চাষীরা। হাজার হাজার গবাদি পশু নিয়ে পড়েছে বিপাকে। রোয়ানুর কারণে ফসলের মাঠ আর ফসলি জমি জলমগ্ন হয়েছে। অনেক ফসলে মাঠে সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতার। কিছু কিছু জায়গা থেকে পানি নেমে গেলেও দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধ থাকায় মাঠের ঘাস পচে গেছে। আর এ কারণে গোখাদ্যের একমাত্র ভরসা এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়ক ও মহাসড়কগুলো।
গোখাদ্য সঙ্কট মোকাবেলায় অনেক স্বচ্ছল কৃষককে বাজার থেকে দানাদার খাবার কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে। সঞ্চয় ভেঙে গবাদি পশুকে কিনে খাওয়াতে হচ্ছে খইল, কুড়া, ভুসি। একইভাবে খামারিরাও গরু মোটাতাজাকরণে বাজার থেকে পশুখাদ্য কিনে আনছেন। আগামী কোরবানির সময়ে তারা এসব পশু বিক্রি করবেন।
এসব কারণে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে আগামী কোরবানিতে পশুর দাম বাড়া নিয়ে। মাঠের ঘাস পচে যাওয়ায় কোরবানির পশু লালন-পালনে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। এতে কোরবানির বাজারে গরু ও ছাগল কিনতে যাওয়া ক্রেতাদের ওপর বড়ো ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এমন আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী থেকে বরিশাল যেতে মহাসড়কের দুই পাশে এখন চোখে পড়ছে অসংখ্য গরু-ছাগল। অনেকেই মনে করতে পারেন, মহাসড়কের পাশে হয়তো পশুরহাট বসানো হয়েছে। তবে কাছাকাছি গেলেই ভুল ভেঙে যাচ্ছে। প্রতিটি গরুর দড়ি হাতে মালিকদের দেখা গেলেও কোথাও কোনো ক্রেতা দেখা যাচ্ছে না।
গোখাদ্য নিয়ে বিপাকে পড়া গরুর মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর কারণে মাঠ ও ফসলি জমিতে পানি উঠে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় অনেক স্থানের পানি নেমে গেলেও দীর্ঘ সময়ে জলাবদ্ধ থেকেছে অনেক জমি। এসব জমিতে ঘাস পচে গেছে। তাই গোখাদ্যের এখন একমাত্র ভরসা সড়কের পাশের ঘাস। তবে মহাসড়কে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করায় গবাদী পশুর অনেকটাই ঝুঁকি থাকে। তাই, দড়ি হাতেই গরু-ছাগলকে ঘাস খাইয়ে ক্ষুধা মেটানোর চেষ্টা করছেন কৃষক ও খামারীরা।
এ ব্যাপারে কথা হয় পটুয়াখালী সদরের তেলিখালী গ্রামের বাসিন্দা খলিল মৃধার সঙ্গে। পঞ্চাশোর্ধ বয়সের ওই কৃষক বলেন, ‘খ্যাতে কতুডু জমিতে ঢ্যারশ আর বেগুন লাইগাছিলাম, হ্যাতো বইন্নায় নস্ট হইয়া গ্যাছে। হ্যারপর গরু বাছুরগুলারে যে কয়ডা ঘাস খাওয়াইতে কোলায় নামামু হ্যারও কোন পদ্বতি নাই। অনেক কোলায় এহনও পানি, আর যেহানে পানি নামছে, হে সব জমির ঘাসও পইচ্চা গ্যাছে, গরুতে হ্যা খায় না। এহন কী করমু বাবা? নিজে খামু না গরুরে খাওয়ামু।’
শুধু পটুয়াখালীই নয়, এ পরিস্থিতি উপকূলীয় জেলা ও রোয়ানুর তাণ্ডবে ক্ষত-বিক্ষত হওয়া অঞ্চলগুলোর।রোয়ানু পরবর্তী সময়ে ভারী বর্ষণের কারণে অনেক জমিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে বাড়িতে মজুদ রাখা খড়-কুটা খাওয়ায়ে পশু পালনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
যেসব কৃষকের হাতে টাকা আছে তারা বাজার থেকে বাড়তি দামে দানাদার খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব পশুকে বিশেষ করে খইল, কুড়া, ভুসি কিনে খাওয়াচ্ছেন তারা। তবে গরু মোটাতাজা করার ক্ষেত্রে বাজার থেকে পশুখাদ্য কিনছেন খামারীরা। এসব পশু কোরবানির সময়ে বিক্রি করবেন তারা। তবে পশু পালনে বাড়তি এই খরচের ভার আগামী কোরবানির সময়ে গরু ও ছাগল কিনতে যাওয়া ক্রেতাদের ওপর একটা বড়ো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ক্রেতারা। এ অবস্থায় গরু পালনের খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি কাঁচা ঘাস না থাকায় অনেক কৃষকের পালন করা গাভীর দুধের পরিমাণও কমে গেছে বলে জানান খামারিরা।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোখাদ্য সঙ্কটের কথা স্বীকার করে পটুয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একেএম আব্দুর রহমান বলেন, ‘অনেক এলাকায় বন্যার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় গবাদি পশুর কাঁচা ঘাসের কিছুটা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় কৃষকদের বাজার থেকে পশুখাদ্য কিনতে হচ্ছে।’
তবে কৃষকরা যেন বাড়ির পাশে বিদেশি উন্নত জাতের ঘাস যেমন নেপিআর, পারা, জার্মান জাতের ঘাষ চাষ করেন তার পরামর্শ দিয়েছেন এ কর্মকর্তা। ডা. একেএম আব্দুর রহমান, ‘ওইসব ঘাস দ্রুত বর্ধনশীল এবং পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হওয়ায় গবাদী পশুর জন্য আদর্শ খাবার হিসেবে ব্যবহার করলে কৃষক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন।’

জেলা এর আরো খবর