মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১
logo
স্বপদে বহাল থাকছেন লাঞ্ছিত শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত
প্রকাশ : ১৯ মে, ২০১৬ ১১:৪৯:১৭
প্রিন্টঅ-অ+
জেলা ওয়েব

ঢাকা : স্বপদে বহাল থাকছেন নারায়ণগঞ্জে লাঞ্ছিত প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত। বৃহস্পতিবার (১৯ মে) সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদও বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে বিদ্যালয় পরিচালনা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে হাইকোর্টের যে নির্দেশনা রয়েছে সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যেটুকু দায় বর্তায় তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় পালন করবে। শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মের প্রতি কটুক্তির যে অভিযোগ করা হয়েছিল, তাও তদন্ত করে পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।
গত ১৩ মে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তি এবং শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যান্দির পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে গণপিটুনি দেয়ার পর কান ধরে উঠবস করানো হয়।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তের কথা বলা হলেও স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে এবং নির্দেশে এ শিক্ষককে হেনস্তা করা হয়।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবাদের মুখে মঙ্গলবার তদন্ত কমিটির করে শিক্ষা অধিদপ্তর। সন্ধ্যায় ওই কমিটি পিয়ার সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনও করে। কথা বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে।  
এদিকে পিটুনির শিকার শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটি ৪ অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ দেয়।
শ্যামল কান্তি ভক্তকে কান ধরে উঠবস করানোর প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুক। ‘সরি স্যার’, ‘উই আর সরি স্যার’, ‘কান ধরে হোক প্রতিবাদ’ লেখা হ্যাশট্যাগ দিয়ে এই ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী। প্রতিবাদ জানাতে কানে ধরা অবস্থায় তোলা নিজেদের ছবিও পোস্ট করেছেন অনেকে।
হ্যাশট্যাগে দেখা গেছে শ্যামল কান্তি ভক্তকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় অনেকেই ক্ষমা চাচ্ছেন। একজন শিক্ষককে এমন ‘ঘৃণ্য’ উপায়ে অপদস্থ করার বিষয়ে পুরো জাতির দায় স্বীকার করেছেন কেউ কেউ।

জেলা এর আরো খবর