শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
logo
মাশরাফির বিদায়ী ম্যাচে বাংলাদেশের জয়
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল, ২০১৭ ০৯:১০:১৭
প্রিন্টঅ-অ+
ক্রিকেট ওয়েব

কলম্বো: সাইফউদ্দিনের বলে লং অফে ভিকুম সঞ্জয়ের তোলা ক্যাচ তালুবন্দি করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের ৪৫ রানের জয়। কিন্তু জয় উৎসব নয় বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা আচ্ছন্ন হলেন মাশরাফি বিন মুর্তজার বিদায়ের কষ্টে। একে একে সবাই এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরলেন প্রিয় অধিনায়ককে। ম্যাচের আগের করা প্রতিজ্ঞা ধরে রেখেছেন সাকিব-মুস্তাফিজরা। টি-২০ ক্রিকেটে মাশরাফির বিদায়কে রাঙিয়ে দিয়েছেন জয়ের রঙে।
 
এই ম্যাচের মাধ্যমেই শেষ হলো মাশরাফির টি-২০ ক্যারিয়ার। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচেশ্রীলঙ্কাকে  হারিয়ে সিরিজ ড্র করলো বাংলাদেশ। টেস্টের পর ওয়ানডে সিরিজও ড্র করেছিল টাইগাররা। এই প্রথম শ্রীলঙ্কা সফরে কোনো ফরম্যাটেই সিরিজ হারেনি বাংলাদেশ।
 
প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ১৭৬ রান করে। জবাবে ১৮ ওভারে ১৩১ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস।
 
স্বাগতিকদের ১৭৭ রানের লক্ষ্য দিয়ে বল হাতে জ্বলে উঠলেন বাংলাদেশের বোলাররা। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিবআল হাসান। শ্রীলঙ্কার দলীয় চার রানের মাথায় সাকিব উপড়ে নেন কুশল পেরেরার স্টাম্প। লঙ্কানদের প্রথম উইকেট নিয়ে থামলেন না ম্যাচসেরাসাকিব। দ্বিতীয় ওভার করতে এসে তুলে নেন আরেক ওপেনার দিলশান মুনাবিরাকেও।
 
শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করলো স্বাগতিকরা। কিন্তু মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ সেটা হতে দিলেন না। ৪০ রানের মাথায় উপুল থারাঙ্গাকেসাজঘর দেখিয়ে দেন অভিজ্ঞ এই বাংলাদেশ অলরাউন্ডার। এরপর মুস্তাফিজুর রহমানের জাদু। আসেলা গুনারত্নে ও মিলিন্দা সিরিবর্ধনেকে পরপরদুই বলে ফিরিয়ে দেন কাটার মাস্টার।
 
তখনই জয়ের সুবাস পাচ্ছিলো বাংলাদেশ। মাঝে প্রতিরোধ গড়লেন চামারা কাপুগেদারা ও থিসারা পেরেরা। ৫৮ রানের জুটি গড়ে তোলেন এই দুইব্যাটসম্যান। এ জুটিতেও আঘাত হানলেন ব্যাটে বলে আলো ছড়ানো সাকিব। ২৭ রান করা পেরেরাকে নিজের তৃতীয় শিকারে পরিণত করেন সাকিব।
 
কিছক্ষণ পর অধিনায়ক মাশরাফি ফিরিয়ে দেন সেকুগে প্রসন্নকে। শ্রীলঙ্কার বাকি ব্যাটসম্যানদের ফিরিয়ে দেয়ার বাকি কাজটুকু করেছেন চারউইকেট নেয়া মুস্তাফিজ ও আগের ম্যাচেই অভিষেক হওয়া সাইফুদ্দিন। কাপুগেদারা ৫০ রান করলেও ১৩১ রানে থামে শ্রীলঙ্কা। মুস্তাফিজ চারটি, সাকিব তিনটি এবং মাশরাফি, মাহমুদউল্লাহ ও সাইফুদ্দিন একটি করে উইকেট নেন।
 
এরআগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার শুরু থেকেই লঙ্কান বোলারদের ওপর টর্নেডো বইয়ে দিতেথাকেন। লঙ্কান বোলারদের বল একের পর এক বাউন্ডারিতে পরিণত করতে থাকেন তারা। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারেই ৬৮ রান তোলেন ইমরুল-সৌম্য।
 
বাংলাদেশের চোখ যখন রান পাহাড়ে, এমন সময় ছন্দপতন। দলীয় ৭১ রানের মাথায় আসেলা গুনারত্নের একটি ডেলিভারি বুঝে উঠতে না পেরে সহজক্যাচ তুলে দেন সৌম্য। সহজ ক্যাচটি লুফে নিতে দেরি করেননি বোলার গুনারত্নে। ফেরার আগে মাত্র ১৭ বলে চার চার ও দুই ছয়ে ৩৪ রান করেনসৌম্য।
 
সঙ্গীকে হারিয়ে ইমরুলও দিক হারান। রান আউট হয়ে বিদায় নিতে হয় তাকে। এরআগে ইমরুল করেন ৩৬ রান। দুই ওপেনারকে হারানোর ব্যথাঅবশ্য বাংলাদেশকে বুঝতে দেননি সাব্বির রহমান ও বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
 
সৌম্য-ইমরুলের মতো করেই ব্যাট চালাতে থাকেন এই দুই ব্যাটসম্যান। সাব্বির-সাকিবের ব্যাটে চড়েই ১০০ ছাড়িয়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু দলীয়১২৪ রানের মাথায় গিয়ে থামতে হয় বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট সাব্বির রহমানকে। ১৯ রান করে ভিকুম সঞ্জয়ার বলে বোল্ড হয়েসাজঘরে ফেরেন তিনি।
 
নতুন ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়ে লড়াই চালাতে থাকেন সাকিব। তবে এই জুটি দীর্ঘ হয়নি। দারুণ ব্যাটিং করে ৩৮ রান তোলাসাকিব স্কুপ শট খেলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাটে-বলে না হওয়ায় ভেঙে যায় তার স্টাম্প। তখনো ভাবতে হয়নি বাংলাদেশকে। কারণ মোসাদ্দেকনতুন করে ঝড় তোলেন।
 
যদিও আর সবার মতো মোসাদ্দেকও নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১১ বলে এক চার ও এক ছয়ে ১৭ রান করে আউট হন এই তরুণব্যাটসম্যান। এর পরের সময়টা চরম হতাশার। ১৯০ পেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও লাসিথ মালিঙ্গা বাধায় সেটা হলো না।
 
মোসাদ্দেক, মুশফিক, ও মাশরাফিকে আউট করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পঞ্চম বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করে বসেন ডানহাতি এই লঙ্কানপেসার। শেষপর্যন্ত ১৭৬ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। শ্রীলঙ্কার মধ্যে মালিঙ্গা সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন।  

ক্রিকেট এর আরো খবর