শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
সংক্ষিপ্ত স্কোর: আফগানিস্তান ৩৩.৫ ওভারে ১৩৮/১০ (বাংলাদেশ ২৭৯/৮)
আফগানদের উড়িয়ে সিরিজ বাংলাদেশের
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:৪৪:১৮
প্রিন্টঅ-অ+
ক্রিকেট ওয়েব

ঢাকা: চোখ রাঙানি ছিল সহযোগী দেশের কাছে সিরিজ হারার। তবে তামিম ইকবালের শতক আর সাব্বির রহমানের ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ের পুঁজি পাওয়া বাংলাদেশ উড়িয়ে দিয়েছে সেই শঙ্কা। বোলারদের দারুণ বোলিংয়ে তৃতীয় ওয়ানডেতে আফগানিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েছে টানা ষষ্ঠ সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ।
১৪১ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশে। ওয়ানডেতে এটি দলটির শততম জয়।
মাহমুদউল্লাহর সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হয়ে ফিরেন রশিদ খান। মোসাদ্দেক হোসেনের সেই ওভারে নাজিবউল্লাহ জাদরান ফিরেন স্লিপে সাব্বির রহমানকে ক্যাচ দিয়ে।
নিজের দ্বিতীয় স্পেলে ফিরেই মোহাম্মদ নবিকে ফেরান মোশাররফ হোসেন। তাকে ফিরতি ক্যাচ দেন নবি (১০ বলে তিন)।
শর্ট বলে আবার সাফল্য তাসকিনের। তার বলে পুল করতে গিয়ে বদলি ফিল্ডার নাসির হোসেনকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন রহমত শাহ (৭৩ বলে ৩৬)।
সামিউল্লাহ শেনওয়ারিকে ফিরিয়েছেন তাসকিন আহমেদ। তার বলে সহজ ক্যাচ গ্লাভসবন্দি করেছেন মুশফিকুর রহিম।
সাকিব আল হাসানের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হয়ে ফিরেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক আসগর স্তানিকজাই (৪ বলে ১)।
আট বছরের বেশি সময় পরে খেলতে নেমে নিজের তৃতীয় ওভারে উইকেট নেন মোশাররফ হোসেন। তার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেন নওরোজ মঙ্গল (৩৮ বলে ৩৩)। সেই ওভারে হাশমতুল্লাহ শাহিদিকে তামিম ইকবালের ক্যাচে পরিণত করেন বাঁহাতি স্পিনার মোশাররফ।
মোহাম্মদ শাহজাদকে আউট করে পরের বলটি করতে গিয়ে শেষ মুহূর্তে বাজেভাবে পড়ে যান মাশরাফি। স্তব্ধতা নেমে আসে পুরো স্টেডিয়ামে। তবে আবার উঠে দাঁড়ান, সেই ওভার শেষ করে মাঠ ছাড়েন। তবে শফিউল ইসলামের ওভার শেষ হতেই আবার মাঠে ফিরে বল হাতে তুলে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
মাশরাফির ইন কাটারে বোল্ড হয়ে ফিরেন মোহাম্মদ শাহজাদ (৭ বলে শূন্য)। জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে বলে ব্যাটই ছোঁয়াতে পারেননি তিনি।
মাশরাফির প্রথম ওভার থেকে রান নেওয়ার কোনো সুযোগই পাননি আফগানিস্তানের মারকুটে ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শাহজাদ। দুই দিকেই সুইং করে তাকে চাপে রাখেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।
তামিম ইকবালের শতক, সাব্বির রহমানের ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে দৃঢ় ভিত্তি পাওয়ার সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। এক সময়ে তিনশ’ ছাড়ানো স্কোরের সম্ভাবনা জাগলেও শেষ দিকে ব্যাটিং ব্যর্থতায় আর তা হয়নি।
শনিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২৭৯ রান করে বাংলাদেশ। এই প্রথম কোনো ওয়ানডেতে আফগানদের বিপক্ষে অলআউট হয়নি বাংলাদেশ।
সিরিজ জিততে হলে রান তাড়ায় নিজেদের রেকর্ড ভাঙতে হবে আফগানদের। ২০১৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয় তাদের সেরা।
দুই অঙ্কে গিয়েই বিদায় নেন রানে ফেরার লড়াইয়ে থাকা উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার। মিরওয়াইস আশরাফের অনেক বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসবন্দি হন তিনি।
১ রানে জীবন পাওয়া তামিম ইকবালের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ এক জুটিতে বাংলাদেশকে দৃঢ় ভিত গড়ে দেন সাব্বির রহমান। ওয়ানডেতে প্রথমবারের মতো টপ অর্ডারে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে খেলেন দারুণ এক ইনিংস।  
চাপ সরিয়ে নিতে শুরুতে কিছু ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলা সাব্বির উপহার দিয়েছেন তিনটি ছক্কা। রানের গতি বাড়ানোর কাজটা করেছেন তিনিই। স্কয়ার লেগ দিয়ে দৌলত জাদরানকে ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু। এরপর দুই লেগ স্পিনার সামিউল্লাহ শেনওয়ারি ও রহমত শাহকে লংঅন দিয়ে উড়িয়েয়ে গ্যালারিতে পাঠিয়েছেন তিনি।
নবিকে সুইপ করে চার হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় অর্ধশতক তুলে নেন সাব্বির। রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টায় এরপর বেশিক্ষণ টিকেননি তিনি। লেগ স্পিনার রহমতকে উড়িয়ে সীমানা ছাড়ার চেষ্টায় শর্ট থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন।
৭৯ বলে ৬টি চার আর তিনটি ছক্কায় ৬৫ রান করে সাব্বিরের বিদায়ে ভাঙে ২৪.৪ ওভার স্থায়ী ১৪০ রানের জুটি। সিরিজে এটাই স্বাগতিকদের একমাত্র শতরানের জুটি।
বাংলাদেশের বাঁচা-মরার ম্যাচে তামিম খেলেছেন ১১৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। সপ্তম শতকে ওয়ানডেতে সাকিব আল হাসানকে (৬) পেছনে ফেলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি শতক এখন এককভাবে তারই।
১১০ বলে শতকে পৌঁছে তামিম চড়াও হন আফগান বোলারদের ওপর। রহমতের দুই বলে মিডউইকেট ও এক্সট্রা কাভার দিয়ে হাঁকান দুটি ছক্কা। ১১৮ বলে খেলা তামিমের ১১৮ রানের ইনিংস শেষ হয় নবিকে উড়িয়ে সীমানা ছাড়া করতে গিয়ে লংঅফে ক্যাচ দিয়ে। তামিমের ইনিংসটি গড়া ১১টি চার ও দুটি ছক্কায়।
এক সময়ে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ২১২ রান। সেখান থেকে ২৩ রানে তামিম, সাকিব, মুশফিকুর রহিম ও মোসাদ্দেক হোসেনকে হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। অতিথি বোলাররা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে চেপে ধরে স্বাগতিকদের।   
বিশ্বের অন্যতম সেরা আলরাউন্ডার সাকিব ফিরেন বাজে এক শটে। গুগলি ভেবে খেলতে গিয়ে রশিদের লেগ স্পিনে এলবিডব্লিউ হন মুশফিক। অভিষেকে আলো ছড়ানো মোসাদ্দেক স্টাম্পড হন রশিদের গুগলি বুঝতে না পেরে।
৮ বছর ২০০ দিন পরে ওয়ানডে খেলতে নেমে ব্যাটিংয়ে মোটেও ভালো করতে পারেননি মোশাররফ হোসেন। ৪ রান করতে ১৪ বল খেলেন তিনি। দ্রুত ফিরেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও।
শেষের দিকের দারুণ ব্যাটিংয়ে দলকে সিরিজের সর্বোচ্চ রান এনে দেন মাহমুদউল্লাহ। ২২ বলে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
আফগানিস্তানের রশিদ, নবি ও আশরাফ দুটি করে উইকেট নেন।
 

ক্রিকেট এর আরো খবর