বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
logo
রেকর্ড গড়ে মোহামেডানকে হারাল আবাহনী
প্রকাশ : ১৬ জুন, ২০১৬ ১১:৩২:৪৬
প্রিন্টঅ-অ+
ক্রিকেট ওয়েব

ঢাকা: ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের শুরু থেকেই নানাবিধ বিতর্কে জর্জরিত আবাহনী লিমিটেড। সুপার লিগে প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচটা অমীমাংসিত রয়ে গেছে এখনও। বিতর্কের ঘেরাটোপে থাকা আবাহনী বুধবার বিকেএসপিতে বিপুল বিক্রমে জ্বলে উঠল। ব্যাটে-বলে দাপুটে পারফরম্যান্সে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি মোহামেডানকে উড়িয়ে দিয়েছে দলটি। গড়েছে রানের রেকর্ড। মোহামেডানকে ম্যাচটাও হারিয়েছে তারা রেকর্ড ব্যবধানে।
বিকেএসপিতে মোহামেডানকে ২৬০ রানে পরাজিত করে আবাহনী। যা ঢাকা লিগে সবচেয়ে বড় রানের ব্যবধানে জয়। এর আগে সর্বোচ্চ ছিল গত মৌসুমে ওল্ড ডিওএইচএসের বিরুদ্ধে ২৪৭ রানে লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জের জয়।
প্রথমে ব্যাট করে লিটন দাস ও দিনেশ কার্তিকের জোড়া সেঞ্চুরি, সাকিব আল হাসানের ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরিতে ৫ উইকেটে ৩৭১ রান করে আবাহনী। এটি বাংলাদেশের মাটিতে, ঢাকা লিগে, বাংলাদেশের কোনো দলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ। গত মৌসুমে রুপগঞ্জের করা ৩৫৭ রানকে টপকে নতুন রেকর্ড গড়ে আবাহনী। বড় রানের চাপটা সামাল দিতে পারেনি মোহামেডান। ২৪.৩ ওভারে ১১১ রানে গুটিয়ে গেছে মোহামেডান। বল হাতে সাকিব ভুগিয়েছেন প্রতিপক্ষকে। ১৮ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। সুপার লিগে এটি তাদের টানা দ্বিতীয় হার। ১২ ম্যাচে আবাহনীর সংগ্রহ ১৬ পয়েন্ট। ১৩ ম্যাচে মোহামেডানের সংগ্রহ ১৪ পয়েন্ট। লিটন দাস ম্যাচ সেরা হন।
টসে হেরে আগে ব্যাট করে ৬৪ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বসেছিল আবাহনী।তামিম ২২, নাজমুল শান্ত ৭ রান করে ফিরেন। তৃতীয় উইকেটে ১৫২ রানের জুটি গড়েন লিটন দাস ও দিনেশ কার্তিক। প্রায় হারিয়ে যেতে থাকা লিটন পেলেন রানের দেখা। খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। ১২৫ বলে ১৩৯ রানের ইনিংসে ছিল ১৮টি চার ও ১টি ছয়। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৪৯ ম্যাচে লিটনের এটি দ্বিতীয় শতক।
লিটনের পর সেঞ্চুরির গন্তব্যে পৌঁছান দিনেশ কার্তিক। ৬৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। তবে সেঞ্চুরি করেছেন ৮৯ বলে। শেষ ৫০ রান করেছেন ২৩ বলে। ৯৭ বলে ১০৯ রান করে আউট হয়েছেন কার্তিক। যেখানে ছিল ১১টি চার ও ৪টি ছয়ের মার। লিটন-কার্তিক ফিরলেও মোহামেডানের দুর্ভাগ্য শেষ হয়নি। শেষ দিকে মোহামেডানের বোলারদের বেধড়ক পিটিয়েছেন সাকিব। ৪৮তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ২৪ বলে খেলেছেন ৫৭ রানের (২ চার, ৫ ছয়) বিস্ফোরক ইনিংস।  
মোসাদ্দেক অপরাজিত ১৯ ও আবুল হাসান অপরাজিত ১২ রান করেন। মোহামেডানের সব বোলারই সাকিবদের ব্যাটে পিষ্ট হয়েছেন। প্রায় সবাই করেছেন খরুচে বোলিং। তার মাঝে আরিফুল হক নিয়েছেন ২ উইকেট।
৩৭২ রানের টার্গেট ছিল মোহামেডানের জন্য হিমালয় পাড়ি দেয়ার মতোই। তাছাড়া এদিন মুশফিকুর রহিম থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মোহামেডানকে নেতৃত্ব দিয়েছেন নাঈম ইসলাম। শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় দলটি। দুঅঙ্কের ঘর স্পর্শ করেছেন চার ব্যাটসম্যান। অধিনায়ক নাঈম সর্বোচ্চ ৩২, মুশফিক ২৬, আরিফুল ১৭ ও ইমন ১১ রান করেন। আবাহনীর পক্ষে সাকিব ১৮ রানে ৫টি, সাকলাইন সজীব ও মোসাদ্দেক ২টি করে উইকেট পান।

ক্রিকেট এর আরো খবর