মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
logo
শেষ ওভারে আবাহনীর রুদ্ধশ্বাস জয়
প্রকাশ : ২৯ মে, ২০১৬ ১২:০৫:৩০
প্রিন্টঅ-অ+
ক্রিকেট ওয়েব

ঢাকা: এই ম্যাচ খেলে লাভ কী, এর চেয়ে চলে যাওয়া ভালো- তাসকিন আহমেদের করা ম্যাচের প্রথম বলেই কট বিহাইন্ড হয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরতে ফিরতে কথাটা বলেছিলেন ইমতিয়াজ হোসেন। প্রাইম দোলেশ্বরের রান মেশিন এ ওপেনারের ভাষ্য, বলে ব্যাটে তো হয়নি সাথে বল ছিল অনেক দূরে। আর শব্দটা হয়েছে ব্যাট-প্যাডের। অবশ্য আঙ্গুল তুলে দিতে সময় লাগেনি আম্পায়ার নাদির শাহ’র।
মিরপুর থেকে বিকেএসপিতে আবাহনী-প্রাইম দোলেশ্বর ম্যাচটা সরিয়ে নেয়ার রহস্যের ‘মুখবন্ধ’ বলতে পারেন এটিকে। ম্যাচের অন্তিমে যা হলো, তা ছাড়িয়ে গেছে সবকিছু সব চক্ষুলজ্জাকে। অবাক বিস্ময়ে দেখতে হলো শেষ ওভারে আবাহনীর রুদ্ধশ্বাস তবে ‘কলঙ্কিত’ জয়। বিষাদ বদনে মাঠ ছাড়া, বাকরুদ্ধ প্রাইম দোলেশ্বর দলটা ড্রেসিংরুম বন্ধী হয়ে গেল ম্যাচ শেষে। তাই পুরস্কার বিতরণীতে থাকলো না বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বলি হয়ে হেরে যাওয়া দলটির কোনো প্রতিনিধি।     
জয়ের জন্য শেষ ৬ বলে ১১ রান দরকার আবাহনীর। দোলেশ্বর অধিনায়ক ফরহাদ রেজার করা প্রথম তিন বলে আসে ১ রান। সাথে তৃতীয় বলে আউট শাহাজাদা। ওভারের চতুর্থ বলে মোসাদ্দেকের কভার ড্রাইভ সোজা ফিল্ডারের হাতে। দ্বিতীয় রানের জন্য ছুঁটতে গিয়ে দাঁড়ালেও মোসাদ্দেক চলে আসায় দৌড়াতে বাধ্য হন তাসকিন। ততক্ষণে চলে আসা থ্রো উইকেটকিপার মিস করলেও ব্যাকআপ ফিল্ডার ধরে ফেলেন। মুহূর্তেই থ্রো আবার নন স্ট্রাইকে ফরহাদ রেজার হাতে আসে। দ্রুত স্ট্যাম্প ভাঙেন তিনি। দিব্যি দৃষ্টিতে দেখা গেছে, তখনও পৌঁছাতে পারেননি তাসকিন। কিন্তু লেগ আম্পায়ার রিজওয়ান পারভেজ নট আউট ঘোষণা করেন! অবিশ্বাস্য সিদ্ধান্তে চিৎকার, প্রতিবাদে ফেটে পড়েন দোলেশ্বরের ক্রিকেটাররা। পঞ্চম বলে ছক্কা ও শেষ বলে চার মেরে দোলেশ্বরের হৃদয় বিদীর্ণ করে দেন মোসাদ্দেক। বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে শনিবার ৩ উইকেটে রুদ্ধশ্বাস এক জয়ের উল্লাসে মাতে আবাহনী।
বৃষ্টি বিঘিœত ২৮ ওভারের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৯১ রান করে প্রাইম দোলেশ্বর। জবাবে ৭ উইকেট ১৯৪ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় আবাহনী। আর এই জয়ে ভালোভাবেই টিকে রইল আবাহনীর সুপার লিগ খেলার সম্ভাবনা। ৯ ম্যাচে এটি পঞ্চম জয় আবাহনীর। সমান ম্যাচে দোলেশ্বরের এটি তৃতীয় হার।
১৯২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ১৩ রানে অধিনায়ক তামিমের (১০) উইকেট হারায় আবাহনী। রান খরায় থাকা লিটন থামেন ১১ রান করে। তৃতীয় উইকেটে ৭৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের কক্ষপথে টিকিয়ে রাখেন সাকিব ও নাজমুল শান্ত। ফরহাদ রেজার শিকার হওয়ার আগে নাজমুল শান্ত ৩৯ রান করেন। ৪০ বলে ৪৫ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলে ফিরেন সাকিব। তাদের বিদায়ের পর আবাহনী জয়ের পথে এগিয়েছে মোসাদ্দেকের ব্যাট চড়ে। রজত ভাটিয়া (১৫), আবুল হাসানরা (৬) সফল না হলেও দুর্দান্ত সাহসিকতায় ব্যাটিং করেছেন মোসাদ্দেক। রান বলের দূরত্ব ঘুচিয়ে চাপ কমিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত থেকে দলের নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন এ তরুণ। ৩৫ বলে অপরাজিত ৫৭ রানের (৭ চার, ২ ছয়) ইনিংস খেলে আবাহনীর জয়ের নায়ক মোসাদ্দেক। দোলেশ্বরের আল-আমিন ও ফরহাদ রেজা ২টি করে উইকেট পান।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা দোলেশ্বর ৫৮ রানেই ৪ উইকেট হারায়। পঞ্চম উইকেটে নাসির-সানজামুলের ৮২ রানের জুটি বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয় দোলেশ্বরকে। যদিও সেখানে আবাহনীর নাজুক ফিল্ডিংয়ের বড় সাহায্য পেয়েছেন তারা। ম্যাচে চারটি ক্যাচ ছেড়েছেন আবাহনীর ফিল্ডাররা। সানজামুল ৪০ রান করেন। একবার জীবন পাওয়া নাসির খেলেছেন ৫৬ বলে ৭২ রানের (৪ চার, ২ ছয়) অনবদ্য ইনিংস। এছাড়া রকিবুল ২৫, রনি তালুকদার ১৮, ফরহাদ রেজা অপরাজিত ৯ ও জিয়াউর রহমান ১৮ রান করেন। আবাহনীর তাসকিন ২টি করে উইকেট নেন।

ক্রিকেট এর আরো খবর