মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০
logo
দিন শেষে বাংলাদেশ ২৪৬/৮
প্রকাশ : ৩০ জুলাই, ২০১৫ ২১:০৩:৩১
প্রিন্টঅ-অ+
ক্রিকেট ওয়েব

ঢাকা: ৩ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ১৮০ রান। দুর্দান্ত খেলছিলেন মুশফিক আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। মনে হচ্ছিল, ৪০০ রান করাটা খুব কঠিন নয়। কিন্তু কিসের কী? দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের সামনে হঠাৎ করেই হুমমুড় করে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। বৃহস্পতিবার ঢাকা টেস্টের প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৪৬ রান। ৩ উইকেটে ১৫৪ রান নিয়ে চা বিরতিতে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য যেটা বড্ড বেমানান।
দিন শেষে নাসির ১৩ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন। আগামীকাল টেস্টের দ্বিতীয় দিন হয়তো তার সঙ্গে মুস্তাফিজ যোগ দিবেন। বড় ইনিংসে স্বপ্ন দেখিয়েও মুশফিক দর্শকদের হতাশ করেন। ৬৫ রান করে বিদায় নেন তিনি।
শুধু মুশফিক নন, বাংলাদেশকে হতাশ করেন ইমরুল, মুমিনুল, মাহমুদুল্লাহ ও সাকিবও। ইমরুল কায়েস ৩০, মুমিনুল ৪০, মাহমুদুল্লাহ ও সাকিব দুজনই সমান ৩৫ রান করে বড় ইনিংসে স্বপ্ন জাগিয়েও দর্শকদের হতাশ করে সাজঘরে ফেরেন। নিজেদের বড় ইনিংসেরই শুধু মৃত্যু ঘটাননি তারা, নিশ্চিত চালকের আসন থেকে বাংলাদেশকে ঠেলে দিয়েছেন খাদের কিনারায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন ডেল স্টেইন ও জেপি ডুমিনি। তামিমকে আউট করে ৪০০ টেস্ট উইকেটের অসাধারণ মাইলফলক স্পর্শ করা স্টেইন ৩০ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট লাভ করেন। কম যাননি ডুমিনিও। ২২ রান দিয়ে তিনিও নিয়েছেন তিনটি উইকেট। একটি করে উইকেট নেন মরকেল ও ডিন এলগার।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই প্রোটিয়া পেসারদের যেন মেরে খেলার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তামিম ইকবাল। না হয় ডেল স্টেইন, ফিল্যান্ডারদের মতো পেসারদের কেন এতটা বিপজ্জনকভাবে খেলতে যাবেন তিনি? ফলটা হাতে নাতেই পেয়ে গেলেন। শুরুতেই উইকেট হারাতে হলো তামিমকে। তার আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে নিশ্চিতভাবে বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ।
দলীয় মাত্র ১২ রানের মাথায়, ব্যক্তিগত ৬ রানে ডেল স্টেইনের বলে উইকেট হারাতে হলো বাংলাদেশকে। ইনিংসের পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলেই স্টেইনকে খোঁচা দিতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়ানো হাশিম আমলার হাতে ক্যাচ দেন তামিম।
দ্রুত উইকেট হারিয়ে যে শঙ্কা তৈরি করেছিলেন তামিম ইকবাল, সেটাকে আর বেশি বাড়তে দেননি অপর ওপেনার ইমরুল কায়েস এবং  ওয়ান-ডাউনে নামা মুমিনুল হক। স্টেইন, ফিল্যান্ডার মরনে মর্কেল কিংবা সাইমন হার্মারদের মোকাবেলা করে দু’জন এগিয়ে নিচ্ছেন বাংলাদেশের স্কোর।
প্রোটিয়া বোলারদের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে অনায়াসেই দিনের প্রথম সেশন পার করে দিয়েছেন এ দু’জন। স্বাচ্ছন্দেই লাঞ্চ বিরতিতে গেল বাংলাদেশও। তার আগে দু’জন জুটি গড়েন ৬৩ রানের।
লাঞ্চ বিরতিতে থাকা অবস্থাতেই বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। তবে বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় দ্রুতই খেলা শুরু করা হয়। কিন্তু প্রথম সেশনে যে স্পিরিট নিয়ে খেলছিলেন ইমরুল কায়েস আর মুমিনুল হক, বিরতির পর সেই স্পিরিট যেন তারা দু’জন হারিয়ে ফেলেন। দ্বিতীয় সেশনের তৃতীয় ওভারেই উইকেট হারান মুমিনুল হক।
বিশেষত জেপি ডুমিনিকে আক্রমণে এনেই সাফল্য তুলে নেন হাশিম আমলা। ভেঙ্গে দেন ইমরুল-মুমিনুলের ৭৯ রানের অসাধারণ জুটি। ডুমিনির বল ঠিক মত বুঝতে না পেরে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মুমিনুল। সমাপ্তি ঘটে ৮৭ বলে ৪০ রানের দারুণ সম্ভাবনাময়ী একটি ইনিংসের।
ডুমিনির পরের ওভারেই শিকার ইমরুল। প্রোটিয়া এই স্পিনারের বল ঠিকমত বুঝতে না পেরে শট খেলতে যান ইমরুল। কিন্তু বল ব্যাটে না লেগে আঘাত করে প্যাডে। প্রোটিয়াদের আবেদনে সাড়াও দিয়ে দেন আম্পায়ার। ৯৩ বলে ৩০ রান করে আউট হয়ে যান ইমরুল। ১ উইকেটে ৮১ রান থেকে বাংলাদেশের ইনিংস হঠাৎ ৩ উইকেটে ৮৬ রানে পরিণত হলো।
পরপর দুই  উইকেট পড়ে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই শঙ্কা ভর করেছিল বাংলাদেশ দলের ওপর। এবার না হুড়মুড় করে উইকেট পড়তে শুরু করে। কিন্তু; দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ মিলে কাটালেন সেই শঙ্কা এবং প্রোটিয়া আক্রমণের মুখে ভালোই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন তারা দু’জন।
চতুর্থ উইকেটে মাহমুদুল্লাহ-মুশফিক মিলে ৯৪ রানের অসাধারণ এক জুটি গড়ে বাংলাদেশকে মজবুত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে দেন। দলীয় ১৮০ রানের মাথায় মাহমুদুল্লাহকে ফিরিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন ডেল স্টেইন। স্টেইনের বলে ফ্লিক করতে গিয়ে শর্ট মিড-উইকেটে ক্যাচ তুলে দেন মাহমুদুল্লাহ।
১৮০ রানের মাথায় মাহমুদুল্লাহকে হারানোর পর পঞ্চম উইকেট সাকিবকে নিয়ে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মুশফিকুর রহিম। এই দুজনের ব্যাটিংয়ে ২০০ পেরিয়ে যায় টাইগরারা। কিন্তু মুশফিকের ‘বিতর্কিত’ আউটে কিছুটা চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। একটু পর লিটন দাসকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচের লাগাম কেড়ে নেয় প্রোটিয়ারা।
ডিন এলগারের বল কাট করতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ধরা পড়েন মুশফিক। প্রোটিয়া খেলোয়াড়দের আউটের আবেদনে সাড়া দিতে বিলম্ব করেননি আম্পায়ার। সাথে সাথে রিভিউ চেয়ে বসেন মুশফিক। বারবার দেখে মনে হয়েছে বল ব্যাটে লাগেনি। ‘বেনিফিট অব ডাউট’ ব্যাটসম্যান মুশফিকের পক্ষে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ম্যাচ রেফারি ফিল্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখলে সাজঘরে ফিরতে হয় বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ককে।
মুশফিকের বিদায়ের পর লিটন দাসকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু বাজে এক শটে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন লিটন। ডুমিনির বলে শর্ট মিড-উইকেটে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। এরপর নাসিরকে নিয়ে দারুণ খেলছিলেন সাকিব। তবে মরনে মরকেলের লাফিয়ে উঠা একটি বলে বিভ্রান্ত হয়ে গালি’তে ডিন এলগারের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন এই টাইগার অলরাউন্ডার।
lসাকিবের পর মোহাম্মদ শহীদ ক্রিজে এসে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। স্টেইনের করা ৮৯তম ওভারের প্রথম বলে সরাসরি বোল্ড হন শহীদ। তার আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ১.৫ ওভার বাকি থাকতেই দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন ফিল্ড আম্পায়ার।
দুই দলের মধ্যকার চট্টগ্রাম টেস্ট বৃষ্টির কারণে ড্র হওয়ায় ঢাকা টেস্টই সিরিজের মীমাংসা করবে।
 

ক্রিকেট এর আরো খবর