রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯
logo
কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন দাউদ মার্চেন্ট
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০১৬ ১৭:২১:০২
প্রিন্টঅ-অ+
দেশ ওয়েব
চাঁদপুর: বলিউডের গুলশান কুমার হত্যা মামলার আসামি আবদুল রউফ ওরফে দাউদ মার্চেন্ট বাংলাদেশে ৫৪ ধারার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর তাকে ছেড়ে দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।  

তবে ভারতের এই ফেরারি আসামিকে সে দেশের কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে কি না- সে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

এক প্রশ্নের জবাবে সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন “অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তার কারাবাসের মেয়াদ আগেই শেষ হয়েছে। তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

এর আগে রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে দাউদ মার্চেন্টকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির।

দুবাইয়ে থাকা ভারতীয় ‘মাফিয়া ডন’ দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসাবে পরিচিত দাউদ মার্চেন্টকে গত ৩ নভেম্বর ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয় ঢাকার হাকিম আদালত। সেই কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর তার মুক্তির ব‌্যবস্থা করে কারা কর্তৃপক্ষ।  

অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকে ধরা পড়ে পাঁচ বছর কারাগারে কাটিয়ে ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর জামিনে মুক্তির পর ওইদিনই ফের ৫৪ ধারায় আটক হয়েছিলেন দাউদ মার্চেন্ট।

আইন অনুযায়ী ৫৪ ধারার আটকাদেশের আয়ুষ্কাল এক মাস হলেও দাউদ মার্চেন্টকে দীর্ঘ দিন কোনো ব‌্যাখ‌্যা ছাড়াই কারাগারে কাটাতে হয়। গত বছর ৯ ডিসেম্বর গোয়েন্দা পুলিশ ৫৪ ধারার অভিযোগ থেকে তার অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করে, যা আদালতের অনুমোদন পায় প্রায় এক বছর পর।

চলতি বছরের শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছিলেন, দাউদ মার্চেন্টকে ভারতে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া তারা শুরু করেছেন।

উলফা নেতা অনুপ চেটিয়ার বদলে সাত খুনের আসামি নূর হোসেনকে ফেরানোর মত দাউদ মার্চেন্টকে ফেরত দিয়ে ভারতের কারাগারে বন্দি বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদকে ফেরানো হচ্ছে বলে সে সময় জোর গুঞ্জন ছিল। তবে দাউদের বদলে বাংলাদেশ কাউকে ফেরত পাচ্ছে কি না- সে প্রশ্ন কৌশলে এড়িয়ে গিয়েছিলেন মন্ত্রী।

ভারত ও বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদপত্রের খবরে সে সময় বলা হয়, গতবছর নভেম্বরে ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত স্বরাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠকে আসামি প্রত্যর্পণ নিয়ে আলোচনার পরই দাউদ মার্চেন্টের অভিযোগ প্রত‌্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করে বাংলাদেশ।  

সেই বৈঠকে ভারত তাদের জঙ্গি সংগঠন আসিফ রেজা কমান্ডো ফোর্সের নেতা মাওলানা মনসুর আলী হাবিবুল্লাহ, মুফতি ওবায়দুল্লাহ ওরফে আবু জাফর, মাওলানা এমাদুল্লাহ এবং কলকাতার সন্ত্রাসী জাহিদ শেখ ও আরিফ হুসাইনকে ফেরত চাইলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন, আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার ফাঁসির আসামি দিপু, চট্টগ্রামের শিবির নেতা সাজ্জাদ হোসেন, চরমপন্থী নেতা মুক্তার হোসেনসহ বেশ কয়েকজনকে ফেরত চাওয়া হয় বলে গণমাধ্যমের খবর। অবশ্য এ বিষয়ে দুই সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য কখনোই আসেনি।  

মুম্বাইয়ের সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টি-সিরিজের মালিক গুলশান কুমারকে ১৯৯৭ সালের ১২ অগাস্ট আন্ধেরি এলাকার একটি মন্দির থেকে বেরিয়ে আসার সময় গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন ভাড়াটে খুনি দাউদ মার্চেন্টকে গ্রেপ্তারের পর ২০০২ সালে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় ভারতীয় আদালত। এরপর সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন দাউদ।

কিন্তু ২০০৯ সালে ১৪ দিনের প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর পালিয়ে যান তিনি। ওই বছরের ২৮ মে ভারত সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এক সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশের পুলিশ। এরপর জাল পাসপোর্ট তৈরি ও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, দাউদ অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করছিলেন। ভারতের অপরাধ জগতের আলোচিত ডন দাউদ ইব্রাহিম বাংলাদেশে নিজের কর্মকাণ্ড বিস্তারের জন্য দাউদ মার্চেন্টকে এ দেশে পাঠিয়েছেন।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে দাউদ জামিন পেলে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তির পরপরই তাকে আবার আটক করে পুলিশ। পরে তাকে ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডেও নেওয়া হয়।

এরপর বিভিন্ন সময়ে দাউদকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে আলোচনা তোলা হলেও বিষয়টি দীর্ঘদিন আটকে থাকে।
 

দেশ এর আরো খবর