বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯
logo
গরু পাচার বন্ধ হলে সীমান্ত হত্যাও কমবে: বিজিবি প্রধান
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১৯:০৫:৫৮
প্রিন্টঅ-অ+
দেশ ওয়েব

ঢাকা: সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের হাতে বাংলাদেশি হত্যার ৯৫ শতাংশ ঘটনার পেছনে গরু পাচারকে কারণ হিসেবে তুলে ধরলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ।
শুক্রবার বিজিবি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলন তিনি বলেন, গত জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সীমান্তে ২৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার মধ্যে ২২ জনই মারা গেছেন বিএসএফ এর গুলিতে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর ভারতের নয়া দিল্লীতে দুই দেশের সীমান্ত সম্মেলনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিজিবি প্রধান।
সম্মেলনে ২২ সদস‌্যের বিজিবি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। আর বিএসএফ এর ২৫ সদস‌্যের দলের নেতৃত্বে ছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক শ্রী কে কে শর্মা।
বিজিবি প্রধান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “গরু পাচারের কারণে ৯৫ শতাংশ হত্যাকাণ্ড হয়। এ বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।”
এ ছাড়া অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানসহ অন্যান্য অপরাধের ঘটনাতেও প্রাণহানি ঘটে বলে জানান তিনি।
আজিজ আহমেদ বলেন, “এই গরু পাচার বন্ধ হলে সব ধরনের সীমান্ত হত্যা অনেকাংশে কমে যাবে। এ বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফ দুপক্ষই একমত হয়েছে।”
গরু পাচারকারীদের ‘হামলায়’ এ বছর তিনজন বিএসএফ সদস্য নিহত এবং ১৫৭ জন সদস্য আহত হওয়ার তথ‌্য সম্মেলনে জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
“বিএসএফ আমাদের বলেছে, আক্রমণের শিকার হওয়ায় তারা গরু পাচারকারীদের গুলি করতে বাধ্য হয়।”
গরু পাচার রোধে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে বিজিবি প্রধান বলেন, তারা সব সময় ‘নানা ধরনের’ উদ্যোগ নিয়ে থাকেন।
“গরু পাচারকারীদের ধরে আমরা অন্য সংস্থার কাছে ‍তুলে দেই, কারণ আমরা তদন্ত করতে পারি না। আমাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই, আছে সীমাবদ্ধতা।”
এরপরও সীমান্ত হত্যা আগের তুলনায় ‘অনেক কমেছে’ দাবি করে তিনি বলেন, গত বছর সীমান্তে ৪৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল; তার আগে এই সংখ্যা ছিল আরও বেশি।
গরু পাচার সাধারণত গভীর রাতে হয় জানিয়ে বিজিবি প্রধান বলেন, “সীমান্ত হত্যাগুলো ওই সময়ই ঘটে।”
এসব হত্যাকাণ্ডের দায় কে নেবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “ভারত থেকে গরু না আনলেই হয়। ভারতের সীমান্তে হাজার হাজার গরুতো আর উৎপন্ন হয় না। গরুগুলো বিভিন্ন রাজ্য থেকে সীমান্তে আসে। এই আসাটা বন্ধ করলে হত্যাকাণ্ড অনেক কমে যাবে।”
গরু পাচারকারীদের সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত চার বছরে অন্তত ২৫ জন বিজিবি সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেন জানান বিজিবি প্রধান।
তিনি বলেন, ভারত সংলগ্ন সীমান্তের ৭৯ শতাংশ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। আর বাংলাদেশ শিগগিরই ২৮২ কিলোমিটার সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ শুরু করবে। এ কাজ শুরু হবে টেকনাফ থেকে।
পর্যায়ক্রমে আরও ৯৫০ কিলোমিটার সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে বলে আজিজ আহমেদ জানান।
ভারত সীমান্ত হয়ে আসা কয়েকজন ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “এতদিন আমাদের ধারণা ছিল ইয়াবা আসে মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে। কিন্তু এখন দেখছি ভারতীয় সীমান্ত দিয়েও ইয়াবা আসছে।”
ভারত সীমান্তের কাছে ইয়াবা তৈরির কোনো কারখানা আছে কিনা, কীভাবে সেগুলো আসছে তা বিএসএফ খতিয়ে দেখবে বলে আশ্বাস পাওয়ার কথা জানান বিজিবির মহাপরিচালক।
সীমান্তে হত্যাকাণ্ড কমিয়ে আনতে কয়েক বছর আগে বিএসএফের হাতে ‘নন লিথাল উইপন’ দিয়েছিল ভারত সরকার। তারপরও হত‌্যাকাণ্ড থামেনি।
বিজিবি প্রধান বলেন, “আমরা বিএসএফকে বলেছি, নন লিথাল অস্ত্র যাতে তারা শরীরের নিচের অংশে ব্যবহার করে।”
বিএসফকে ১২ শ’ অপরাধীদের একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
“এই তালিকা বিভিন্ন সংস্থা তৈরি করেছে। আমরা সেই তালিকা তাদের দিয়েছি। এই তালিকায় ছোট বড় সব ধরনের অপরাধীর নাম রয়েছে।”
এ বিষয়ে বিএসএফও বিজিবিকে সহায়তা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বড় বড় অপরাধীদের ফেরত দিলে আপনারা (সাংবাদিক) জানেন। কিন্তু ছোট ছোট অনেক অপরাধীকেও বিএসএফ আমাদের কাছে হস্তান্তর করে।”
 

দেশ এর আরো খবর