শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯
logo
ট্রেনের আগাম টিকেট: ৪র্থ দিনে স্বস্তির সঙ্গে আক্ষেপও
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১২:৪৮:০৩
প্রিন্টঅ-অ+
দেশ ওয়েব

ঢাকা: দীর্ঘ অপেক্ষার পর টিকেট না পাওয়ার আক্ষেপের সঙ্গে নানা অভিযোগের বিপরীতে পুরো একদিনের কষ্টের পর কাঙ্খিত টিকেট পাওয়ার স্বস্তি নিয়েই ব্যাপক ভিড়ের মধ্যেই চলছে ঈদুল আযহা সামনে রেখে চতুর্থ দিনের আগাম টিকেট বিক্রি।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ১০ সেপ্টেম্বরের ঈদযাত্রার টিকেটের জন্য বুধবারের চেয়ে মানুষের ভিড় বেড়েছে; কাউন্টারের সামনে বুধবার সকাল থেকেই দাঁড়িয়ে আছেন অনেকে।
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর যাবেন মিরপুরের মুরগী ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম। টিকেট পেলেও মনমতো না হওয়ায় তার কণ্ঠে একটু আক্ষেপ।
“সারারাইত জাইগ্যা ছিলাম। টিকেট একটা দিল, কিন্তু বাথরুমের পাশে। পাল্টাইয়া দিতে বললাম, দিল না।”
ভিড়ের সঙ্গে প্রচণ্ড গরমে ভোগান্তিতে পড়েন টিকেট প্রত্যাশীদের অনেকে। বুধবার দুপুর থেকে কাউন্টারের সামনে আছেন হারুণ অর রশিদ। প্রচণ্ড গরমে দুইবার অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। পরে অন্যদের শুশ্রুষায় সেরে উঠেন তিনি।
হারুণ বললেন, “এখানে খুব গরম, একটুও বাতাস নাই। রাতে কলাপসিবল গেইট বন্ধ করে দেওয়ায় স্টেশনের ভেতর থেকে পানি আনতে পারিনি। খুব কষ্ট হয়েছে।”
এদিকে নারীদের জন্য নির্ধারিত কাউন্টারেও ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। টিকেট দেওয়ার গতি খুব ধীর বলে বিরক্তি প্রকাশ করেন অনেক নারী টিকেট প্রত্যাশী।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীর টিকেটের জন্য রাত ১২টায় কাউন্টারে এসেছেন সাবিকুন নাহার। তিনি বলেন, গল্পগুজব করে রাতের সময় ভালো কাটলেও এখন আর সময় কাটছে না।
“একটা কাউন্টার থেকে টিকেট দেয়, গতি খুবই স্লো।”
কমলাপুরে সকাল ৮টায় টিকিট বিক্রি শুরুর পর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই মধ্যেই রাজশাহীর পদ্মা ও ধূমকেতু এক্সপ্রেসের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরার টিকেট শেষ হওয়ার কথা জানায় রেলকর্মীরা।
এতো তাড়াতাড়ি টিকেট শেষ হয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে অপেক্ষমান টিকেট প্রত্যাশীরা হৈ-চৈ শুরু করেন। পরে রেলওয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের শান্ত করে।
একটি ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা রাসেল মাহমুদ জানান, তিনি টিকেটের লাইনে তিনি অষ্টম ব্যক্তি হয়েও কাঙ্ক্ষিত টিকেট পাননি।
“রাজশাহীর তিনটি গাড়ি, আমার আগে যারা গেছেন তাদের সবাই যদি এসি টিকেট কেনেন তারপরও তো আমার টিকেট পাওয়া কথা। কিন্তু টিকেট গেল কোথায়?”
রেলওয়ের কমলাপুর স্টেশন ব্যবস্থাপন সিতাংশু চক্রবর্ত্তী জানান, সব স্টেশনের এসি টিকেটের বরাদ্দ নেই। যারা আগে আসে তারাই বেশিরভাগ এসি টিকেট কিনে ফেলেন।
“আমাদের সম্পদ সীমিত। সবাইকে এসি টিকেট দেওয়া সম্ভব নয়। এসি ছাড়া অন্য টিকেট এখনো পর্যাপ্ত আছে। আশা করি সবাই পাবে।”
তবে অভিযোগের মধ্যেও একদিনের বেশি সময়ের ক্লান্তিকর অপেক্ষা পার করে বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৮টায়  কাঙ্খিত টিকেট পেয়ে খুশি রাজশাহীর টিকেট নিতে আসা ইয়াসিন আলী।
একটি বিমা কোম্পানির কর্মকর্তা ইয়াসিন বলেন, “গতকাল সকাল ৭টার সময় কাউন্টারে এসেছি; সিরিয়াল দেওয়ার পর থেকে স্টেশনেই আছি।
“২৫ ঘণ্টা ধরে টিকেটের জন্য অপেক্ষায় আছি। চা খেয়ে, গল্প করে সময় কাটিয়েছি। টিকেট পাওয়ার পর আমার সব কষ্ট বিলীন হয়ে গেছে।”
রংপুরের পীরগাছা যাবেন নিতুল ইসলাম। কিন্তু টিকেট শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে দেওয়া হয় বামনডাঙ্গার টিকেট। তারপরও খুশি তিনি।
“ভাই, গতকাল ৩টায় এখানে এসেছি, এখন টিকেট পাইলাম। কি যে খুশি লাগছে!”
চাঁদ দেখাসাপেক্ষে আগামী ১২ বা ১৩ সেপ্টেম্বর কোরবানির ঈদ হবে। সে অনুযায়ী ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রি চলছে।
রেলওয়ে জানিয়েছে, ঈদযাত্রায় প্রতিদিন কমলাপুর থেকে ৬৯টা ট্রেন ছেড়ে যাবে। তবে রেলওয়ে ৩১টি ট্রেনের প্রায় ২৩ হাজার ৫০০ অগ্রিম টিকেট বিক্রি হচ্ছে।
কমলাপুর ছাড়াও বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, যশোর ঈশ্বরদী, রাজশাহী, দিনাজপুর ও লালমনিরহাটসহ বড় স্টেশনগুলো থেকেও অগ্রিম টিকেট বিক্রি করা হচ্ছে।
সোমবার সকাল ৮টা থেকে কমলাপুরের ২৩টি কাউন্টার থেকে শুরু হয় অগ্রিম টিকেট বিক্রি।
এবার রেলের বহরে থাকা একহাজার ছয়টি কোচের সঙ্গে আরও ১৪০টি কোচ যোগ করা হয়েছে। নিয়মিতভাবে চলাচলকারী ২০২টি ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও ১৮টি ইঞ্জিন।
৭ সেপ্টেম্বর থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত উপকূল এক্সপ্রেস, বিজয় এক্সপ্রেস ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস ছাড়া অন্য সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বিরতি থাকবে না।
ঈদের তিন দিন আগ থেকে আগামী ৯, ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর এবং ঈদের পরের সাত দিন আগামী ১৪ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন জোড়া করে বিশেষ ট্রেন চলবে।
ঈদকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা রেল কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। রেল ভবনে একটি কন্ট্রোল রুম করা হয়েছে, সেখান থেকে তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
 

দেশ এর আরো খবর