শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯
logo
পরিস্থিতির শিকার হয়ে অব্যাহতিপত্রে স্বাক্ষর
প্রকাশ : ২০ আগস্ট, ২০১৬ ১৪:০৯:১৪
প্রিন্টঅ-অ+
দেশ ওয়েব

ঢাকা: পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাধ্য হয়ে চাকরির অব্যাহতিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার।
অব্যাহতির আবেদন প্রত্যাহার চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব বরাবর দেয়া চিঠিতে এ দাবি করেন তিনি।
চলতি মাসের ৯ তারিখ লেখা সেই চিঠিতে বাবুল আক্তার লেখেন, “চাকুরী হতে অব্যাহতির আবেদন প্রত্যাহার প্রসঙ্গে।”
এরপর তিনি লেখেন, “বিগত ০৫/০৬/২০১৬ ইং তারিখে আমার স্ত্রী নির্মমভাবে খুন হন। ঐ ঘটনার পর দুটি অবুঝ শিশু সন্তান নিয়ে আমি সীমাহীন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাই। আমি এতটাই শোকাহত ছিলাম যে, শুধু সন্তানদের কথা ভেবে স্বাভাবিক জীবনযাপনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। শোকাগ্রস্ত ও অসহায় অবস্থায় আমি যখন জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় অতিবাহিত করছিলাম, সেই সময় বিগত ২৪/০৬/২০১৬ ইং তারিখে পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাধ্য হয়ে আমাকে চাকুরির অব্যাহতিপত্রে স্বাক্ষর করতে হয়। স্ত্রীর মৃত্যুশোক, সদ্য মাহারা দুটি শিশুর ব্যাকুলতার প্রতিকূল ও বিপর্যস্ত মানসিক অবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে আমি চাকুরি হতে অব্যাহতির আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করি। একজন সৎ পুলিশ অফিসার হিসেবে এবং আমার সন্তানদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন এই চাকুরী। এমতাবস্থায়, উক্ত অব্যাহতিপত্রটি প্রত্যাহারের আবেদন জানাচ্ছি, যা আমি স্বেচ্ছায় দাখিল করিনি।
অতএব, বিনীত নিবেদন এই যে, গত ২৪/০৬/২০১৬ ইং পরিস্থিতির শিকার হয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে দাখিলকৃত চাকুরী হতে অব্যাহতির আবেদনপত্রটি প্রত্যাহারপূর্বক আমাকে চাকুরীর সুযোগ দানের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জনাবের সদয় মর্জি হয়।”
আবেদনপত্রের নীচে বাবুল আক্তারের স্বাক্ষর, তার বিপি নম্বার (৭৫০৫১০৯০২৯) রয়েছে।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি হয়ে আসার দুই দিন পর গত ৫ জুন সকালে চট্টগ্রামের ও আর নিজাম রোডে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা খানম। এ ঘটনায় বাবুল বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন।
শুরুতে জঙ্গিদের সন্দেহ করা হয়েছিল। কিন্তু পরে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পুলিশের ধারণা পাল্টে যায়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে গত ২৪ জুন গভীর রাতে খিলগাঁও ভূঁইয়াপাড়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবুলকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। ১৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর আবার তাকে শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়।
 

দেশ এর আরো খবর