শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০
logo
লেফট টার্ন নিয়ম মানলেই ঢাকার যানজট কমবে ৩০ ভাগ
প্রকাশ : ১৯ জুলাই, ২০১৬ ১৬:২১:২০
প্রিন্টঅ-অ+
দেশ ওয়েব

ঢাকা : রাজধানীর সিগন্যালগুলোতে লেফট টার্নের জন্য আলাদা লেন করেও যানজট সমস্যার সমাধান করতে পারছে না নগরীর ট্রাফিক বিভাগ। তাড়াহুড়া করে সিগন্যাল পার ও ড্রাইভারদের ট্রাফিক আইন না জেনে গাড়ি চালানোকেই এজন্য দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, লেফট টার্ন নিয়ম মানলে নগরীর ৩০ শতাংশ যানজটই কমে যাবে।
নগরীর যানজট সমস্যার সমাধানের লক্ষে ট্রাফিক সিগন্যালগুলোতে বামে চলাচলকারী যানের জন্য আলাদা করে লেন করার পরও এলোপাতাড়ি গাড়ি চালান চালকেরা। এর ফলে অকারণেই বামের লেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে জানান বিভিন্ন সিগন্যালে দায়িত্বরত সার্জেন্টরা।
বিজয় সরণী সিগন্যালে কথা হয় ট্রাফিক সার্জেন্ট শফিউল্লাহ’র সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা আলাদা করে লেফট টার্ন লেন করেছি। কিন্তু যেসব গাড়ি সোজা যাবে তারাও বামের লেনে চলে আসে। ফলে বামে যেসব গাড়ি নির্বিঘ্নে পার হয়ে যাওয়ার কথা তাদেরও সিগন্যাল ছাড়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।’
আইন প্রযোগ করেও গাড়ির চালকদের আইন মানতে বাধ্য করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান শফিউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘মটরযান আইন ১৫৭ ধারায় রোড অবস্ট্রাকশনের জন্য চালকের লাইসেন্স জব্দ করে জরিমানা করা হয়। সেটার পরিমাণ ৫০০টাকা। এটা আগে ছিল ২৫০ টাকা।’
শুধুমাত্র জরিমানা করে আইন মানতে বাধ্য করা যাবে না বলে মনে করেন শফিউল্লাহ। তার মতে, গাড়ির চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এজন্য চালকদের সচেতন হতে হবে।
একই সমস্যা নিজের দায়িত্বরত এলাকায় প্রবল বলে জানান মানিক মিয়া এ্যাভিনিউ পশ্চিম সিগন্যালে (আড়ং সিগন্যাল) দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেট মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘খামারবাড়ি হয়ে নিউ মার্কেটগামী গাড়িগুলোর জন্য আড়ং সিগন্যালে লেফট টার্ন লেন করা হয়েছে অনেক আগে। কিন্তু যে গাড়িগুলো আসাদগেট হয়ে গাবতলী যাবে তারাও বামের লেনে চলে আসে। একই অবস্থা আসাদগেট থেকে খামারবাড়ি রোডেও। এখানেও বাম পাশের লেন বন্ধ করে রাখেন নিউ মার্কেটগামী চালকরা। এ কারণে সিগন্যালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে গাড়িগুলো।’
তিনি বলেন, ‘গাড়ির ড্রাইভাররা আইন ভাঙার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। কোন দিকে চললে আইন অমান্য হবে সেটাও অধিকাংশ চালকের জানা নেই। এজন্য সবার আগে চালকদের আইন সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।’
এদিকে গাড়ি চালকরা বলছেন অন্য কথা। গাবতলীগামী ৭ নাম্বার বাসের চালক রমজান মিয়া বলেন, ‘বামের রাস্তায় গেলে আগে আগে সিগন্যাল পার হওয়া যায়। অনেক সময় আমি না চাইলেও যাত্রীরা চিৎকার-চ্যাচামেচি করে বামের লেনে গাড়ি ঢুকাতে বাধ্য করে।’
কেন আইন ভেঙ্গে বামের লেনে আসলেন জানতে চাইলে নিজের পক্ষে সাফাই গাইলেন বিকল্প বাস সার্ভিসের চালক মনির মিয়া। তিনি বলেন, ‘সবাইতো আইতাছে। আমি আইলে কি সমস্যা? সিগন্যাল ছাড়লেই চইলা যামু।’
এদিকে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারী চালকদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে গেলেও বিপত্তিতে পড়তে হয় বলে জানান আসাদগেট এলাকার ট্রাফিক ইনিসপেক্টর আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘কোন গাড়িটা রাস্তা বন্ধ করলো এটা খুঁজে শাস্তি দিতে গেলে সাধারণ যাত্রীরা প্রতিবাদ করে। নিজেরা একটু সুবিধা পেতে অনবরত অন্যায়কে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন তারা।’
এছাড়া লোকবল কম হওয়ায় একদিকে সামলাতে গেলে অন্যদিকে সমস্যা সৃষ্টি হয় বলেও জানান তিনি।
ট্রাফিকের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার আবু ইউসুফ বাংলামেইলকে বলেন, ‘সব জায়গায় লেফট টার্নগুলো ফ্রি থাকলে জ্যাম অন্তত শতকরা ৩০ ভাগ কমে যাবে। কিন্তু লেফট টার্নগুলো বন্ধ থাকার কারণে বামের গাড়িগুলোকে শুধু শুধু আটকে থাকতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দুই ধরনের সার্জেট রয়েছে। ফিক্সট ও মুভমেন্ট সার্জেট। মুভমেন্ট সার্জেন্ট সংখ্যা অনেক কম হওয়ার কারণে কারা রাস্তা বন্ধ করে রাখছে সেটা আইডেন্টিফাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও আমাদের সামনে এধরনের কিছু দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।’

দেশ এর আরো খবর