শনিবার, ৩০ মে ২০২০
logo
সেই শফিউল ও বাঁধনই পুরোহিত হত্যার মূল হোতা
প্রকাশ : ১১ জুলাই, ২০১৬ ১৯:২১:০৭
প্রিন্টঅ-অ+
দেশ ওয়েব

পঞ্চগড়: শোলাকিয়ায় আটক জঙ্গি শফিউল ইসলাম সোহান আর গুলশানে নিহত জঙ্গি রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন (২৫) পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে পুরোহিত হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামিও।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার মোহন্ত এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জঙ্গি শফিউলের বাড়ি দিনাজপুরের ঘোরাঘাট উপজেলার দেবীপুরে আর নিহত জঙ্গি বাঁধনের বাড়ি বগুড়ায়। এরা দুজনেই নিষিদ্ধ ঘোষিত জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য।
পুরোহিত হত্যা মামলায় গত ২৮ জুন শফিউল ও বাঁধনসহ ১০ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দেবীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (ওসি, তদন্ত) মো. আইয়ুব আলী। সেদিনই আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচারের জন্য মামলাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করেন। অভিযোগপত্রে ১০ আসামির মধ্যে ছয়জনকে পলাতক ও চারজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা ১০ আসামির মধ্যে শোকালিয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় আটক জেএমবি সদস্য শফিউল ইসলাম সোহান ও গুলশানের হোলি আর্টিজেন বেকারিতে হামলায় নিহত রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধনের নাম আছে। দেবীগঞ্জের পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর হত্যা মিশনের নায়ক তারাই বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। পুলিশ আরো জানায়, এরা প্রত্যেকেই জেএমবির সদস্য।
অভিযোগপত্রের বর্ণনা থেকে জানা গেছে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে আসামি নজরুল ওরফে হাসান, রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন ও শফিউল ইসলাম সোহান মোটরসাইকেলে করে দেবীগঞ্জের সোনাপাতা এলাকার চতুর্থ চীন বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু সংলগ্ন শ্রীশ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠে আসে। নজরুল মোটরসাইকেলে বসে থাকে। রাজিবুল ও শফিউল মোটরসাইকেল থেকে নেমে মঠের ভিতরে যায়। রাজিবুল চাপাতি দিয়ে যজ্ঞেশ্বর রায়ের দেহ মস্তক দ্বিখণ্ডিত করে হত্যা করে। তারা দুজনেই পিস্তল দিয়ে পুরোহিতকে গুলি করে। এরপর ককটেল ফাটিয়ে মোটরসাইকেলে করে চলে যায়। এ সময় গোপাল চন্দ্র রায় নামে ওই মন্দিরের এক পূজারি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।
এ ঘটনায় নিহত যজ্ঞেশ্বরের বড় ভাই রবীন্দ্রনাথ রায় ওই দিনই দেবীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। তাছাড়া পুলিশও বাদী হয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে মামলা করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দেবীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (ওসি, তদন্ত) মো. আইয়ুব আলীকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি গত ২৮ জুন ১০ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখিত পুরোহিত হত্যা মামলার আসামিরা হলেন- জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব ওরফে আন্ধি (২৬), রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন (২৫), মো. সাদ্দাম হোসেন ওরফে রাহুল (২৪), মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুল ওরফে হাসান (২৬), মো. আলমগীর হোসেন (২৪), মো. রমজান আলী (২০), মো. হারেজ আলী (৩৩), আলহাজ খলিলুর রহমান, মো. রানা (২৫) ও মো. শফিউল আলম ওরফে ডন ওরফে সোহান।
এর মধ্যে জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব ওরফে আন্ধি, মো. সাদ্দাম হোসেন ওরফে রাহুল, মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুল ওরফে হাসান, মো. রানা এবং মো. শফিউল আলম ওরফে ডন ওরফে সোহান পলাতক। রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন নিহত। আর বাকি তিনজন কারাগারে। আসামিদের মধ্যে মাত্র তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
তবে এ মামলায় এর আগে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার হওয়া জাহাঙ্গীর আলম (৩০), বাবুল ইসলাম (৩২) ও আবদুল মোমিনের (৩০) বিরুদ্ধে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ থানার ওসি জানান, দেবীগঞ্জ পুরোহিত হত্যার মূল নায়ক গুলশানে নিহত জঙ্গি রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন ও শোলাকিয়া হামলায় গ্রেপ্তার জঙ্গী সদস্য শফিউল আলম ওরফে ডন ওরফে সোহান।

দেশ এর আরো খবর